Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৫
অষ্টম কলাম
স্কুলের জমি স্বামীর নামে লিখে দিলেন প্রধান শিক্ষিকা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধামিন নওগাঁ গ্রামের একদল উদ্যমী মানুষ চেয়েছিলেন গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হোক। সেই জন্য তারা জমিও দান করেছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ করে সেই স্কুলের ঘরের টিন, বাঁশ, খুঁটি সব উধাও। এখন তারা জানলেন, যে জমি তারা স্কুলের নামে দান করেছিলেন, তা স্বামীর নামে রেজিস্ট্রি করেছিলেন প্রধান শিক্ষক স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৮ সালে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধামিন নওগাঁ গ্রামের একদল মানুষ গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী জমিও দান করেন। ১৯৯৯ সালে শুরু হয় স্কুলে পাঠদান। হঠাৎ করে স্থানীয়রা দেখতে পান, এক এক করে স্কুলের টিন, বাঁশ, খুঁটি সরিয়ে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বাসরীর স্বামী শফিকুল ইসলাম। এরপর ২০০৫ সালে স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জমিদাতা সাহেব আলী জানান, স্কুল বন্ধ হওয়ার পর এলাকার মানুষ জানতে পারেন, স্কুলের নামে থাকা জমি প্রধান শিক্ষক তার স্বামীর নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। জমি রেজিস্ট্রি করতে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি থেকে শুরু করে সদস্যদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে। স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য আবুল কাশেম ও জিয়াউর রহমান জানান, তারা জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য কোনো রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেননি। স্কুলের জমিতে থাকা বাঁশ কাটার সময় তারা বিষয়টি জানতে পারেন। প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বাসরী তার স্বামীর নামে জমি রেজিস্ট্রি করতে স্কুল পরিচালনা কমিটির যে রেজুলেশন ব্যবহার করেছেন, তার সঙ্গে মিল নেই দলিলের। স্কুলের রেজুলেশনটি ২০১৪ সালের ১০ জুলাই করা হয়েছে। অথচ দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১০ সালের ১০ মে। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নায়েব আলী জানান, কাউকে কিছু না জানিয়ে স্কুলের জমি প্রধান শিক্ষক তার স্বামীর নামে লিখে দিয়েছেন। এজন্য তারসহ কমিটির অধিকাংশ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এনিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। মামলাও করেছেন আদালতে। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বাসরীর স্বামী শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। কাউকে কম টাকা দেননি। তার দাখিল করা রেজুলেশনের স্বাক্ষরগুলো সঠিক বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, এমন জালিয়াতির ঘটনায় তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে। শিগগিরই তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow