Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪১
ফের বাড়ছে গ্যাসের দাম
শিল্পের উৎপাদন নিত্যপণ্যে খরচ বাড়বে
রুহুল আমিন রাসেল

শিগগিরই বাড়ছে গ্যাসের দাম। পেট্রোবাংলা ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব এবং তার ওপর গত আগস্টজুড়ে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ গণশুনানির আলোকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে।

খুব শিগগিরই এ সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে। তবে পেট্রোবাংলা ও আওতাভুক্ত সংস্থাগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য ৬২ শতাংশ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও গণশুনানি এবং বিভিন্ন যৌক্তিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিদ্যমান মূল্যের তুলনায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ দাম বাড়তে পারে বলে বিইআরসির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, গ্যাস ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পরিচালিত পরিবেশক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে গড়ে ৯০ শতাংশের বেশি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পেয়েছিল বিইআরসি। কোম্পানিগুলো গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১৪০ শতাংশ, ক্যাপটিভ বিদ্যুেকন্দ্রের গ্যাসের দাম ১৩০ শতাংশ, শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৬২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়া সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৭১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাব পেয়ে বিইআরসি গত আগস্টে প্রস্তাবিত মূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশ্যে গণশুনানির আয়োজন করে। তবে শুনানির সময় পেট্রোবাংলাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো আগের প্রস্তাব কমিয়ে গড়ে ৬৫ শতাংশ বাড়ানোর সংশোধিত প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাবের ওপর শুনানিতে অনেক বিষয় আলোচনায় উঠে আসে, যাতে ৬৫ শতাংশ দাম বাড়ানোরও যৌক্তিকতা প্রমাণ করা যায়নি। কাজেই গ্যাসের দাম ওই সংশোধিত প্রস্তাবের নিচেই থাকবে বলে সূত্র জানায়। জানা গেছে, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিইআরসি পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। সংস্থার সর্বশেষ চেয়ারম্যান এ আর খান সম্প্রতি অবসরে গেছেন। এখন কমিশনে দুজন সদস্য রয়েছেন। বিইআরসি আইন অনুযায়ী, কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে কমিশনের সভায় অন্তত তিন সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ হতে হবে। নতুন একজন সদস্য নিয়োগ করা হলেই এ সমস্যা কেটে যাবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে বিইআরসিতে একজন সদস্য নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৭১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এই হিসাবে গ্যাসের ঘাটতি আছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২৬টি গ্যাস ক্ষেত্রের মধ্যে ২১টি থেকে বর্তমানে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। গ্যাসের প্রস্তাবিত মূল্য বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-ডিসিসিআই বলেছে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর বদলে কম দামে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেওয়া হোক। গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ব্যবসা-বাণিজ্যে নানামুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি—এমসিসিআই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবকে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে বলেছে, গ্যাসের প্রস্তাবিত মূল্য বৃদ্ধি দেশের পরিবহন খরচ, বাণিজ্য ক্ষেত্রে উৎপাদন ও আনুষঙ্গিক সব খরচ, বিদ্যুৎ ও সারসহ সব উৎপাদন খরচ, কৃষিপণ্য এবং সর্বোপরি নিত্যপণ্যের খরচ বাড়বে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি তৈরি পোশাকশিল্পসহ অনেক খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে বাধাগ্রস্ত করবে। মূল্য বৃদ্ধির প্রাথমিক প্রস্তাবে দেখা যায়, গৃহস্থালি মিটারযুক্ত গ্রাহক শ্রেণির জন্য গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৭ টাকা থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়িয়ে একবারে ১৬ দশমিক ৮০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক বার্নারের মূল্য ৬০০ টাকা থেকে ৮৩ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার ১০০ টাকায় ও দুই বার্নারের জন্য ৬৫০ টাকা থেকে ৮৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য প্রস্তাবের মাঝে রয়েছে বিদ্যুৎ-ক্যাপটিভের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৮ দশমিক ৩৬ টাকা থেকে ১৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৯ দশমিক ২৬ টাকায় উন্নীত করা, শিল্পের জন্য বিদ্যুতের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৬ দশমিক ৭৪ টাকা থেকে ৬২ শতাংশ বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৯৫ টাকায় উন্নীত করা, বাণিজ্যিক (চা বাগানসহ) বিদ্যুতের দাম প্রতি ঘনমিটারে ১১ দশমিক ৩৬ টাকা থেকে ৭২ শতাংশ বাড়িয়ে ১৯ দশমিক ৫০ টাকায় উন্নীত করা, সিএনজি ফিড গ্যাসের দাম ২৭ টাকা থেকে ৮৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৯ দশমিক ৫০ টাকায় উন্নীত করা, বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ২ দশমিক ৮২ টাকা থেকে ৬৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৬০ টাকায় উন্নীত করা ও সার কারখানার বিদ্যুতের দাম প্রতি ঘনমিটারে ২ দশমিক ৫৮ টাকা থেকে ৭১ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৪১ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ও শিল্পের বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে আপাতত গ্যাসের দাম বাড়ানো উচিত হবে না। এমনিতেই ব্যবসায়ীরা মানসম্মত গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হলে দাম বাড়ানোর বিষয়টি তখন বিবেচনা করা যেতে পারে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow