Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪১
টিআইএন নেই ৮৫ হাজার কোম্পানির
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ যখন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধ করেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আরেকটি বড় অংশ কোনো রাজস্বই দেয় না।

এসব প্রতিষ্ঠানের অনলাইন করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন নেই। যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়- আরজেএসসি’তে নিবন্ধিত প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে ই-টিআইএন আছে ৫২ হাজার প্রতিষ্ঠানের। বাকি ৮৫ হাজার কোম্পানির কোনো ই-টিআইএন নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি কোষাগারে কোনো প্রকার রাজস্ব পরিশোধ না করেই ফ্রিস্টাইলে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা সবাইকে করের আওতায় আনতে তথ্য সংগ্রহ করছি। যে ৮৫ হাজার কোম্পানির টিআইএন নেই, তাদের ক্ষেত্রেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান এনবিআর তথ্যমতে, যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় বা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস-আরজেএসসি’তে প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধিত আছে। এরমধ্যে ৫২ হাজার লিমিটেড কোম্পানির টিআইএন আছে। বাকি ৮৫ হাজার কোম্পানির  টিআইএন নেই। এসব কোম্পানিকে করজালের আওতায় আনতে এবার গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। দেশের লিমিটেড কোম্পানিগুলোর করফাঁকি বন্ধে সম্প্রতি আরজেএসসি’র সঙ্গে অংশীদারিত্ব সংলাপ করেছে এনবিআর। ওই সংলাপে এনবিআর ও আরজেএসসির নেওয়া যৌথ-সিদ্ধান্তে বলা হয়— এনবিআরের আয়কর, মূসক ও শুল্ক বিভাগের সমন্বিত চাহিদা (কোম্পানির পরিচালক, শেয়ার হোল্ডার, নতুন শেয়ার বরাদ্দ, শেয়ার হস্তান্তর, কোম্পানির পরিচালকের শেয়ার পার্সেন্টেজ, প্রফিট অ্যান্ড লস অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক লোনের মর্টগেজ ইত্যাদি) তথ্য আরজেএসসিকে জানানো হলে, সংস্থাটি কেন্দ্রীয়ভাবে কোম্পানির তথ্যসমূহ এনবিআরকে জানাবে। পরে এনবিআরের মাঠপর্যায়ের অফিসসমূহ থেকে সে তথ্যের আলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ওই লিমিটেড কোম্পানিগুলোকে ই-টিআইএন প্রদান করবে। পাশাপাশি একটি কোম্পানির ই-টিআইএন যাতে সংরক্ষিত কোম্পানির প্রোফাইলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে আরজেএসসি। এ জন্য আরজেএসসিতে বাধ্যতামূলকভাবে ই-টিআইএন সনদ দাখিলের আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়াও কোম্পানির নিবন্ধনের সময় পরিচালকদের ই-টিআইএন যাচাইকালে করদাতার পিতার নাম ও জন্ম তারিখের তথ্য অনলাইন সিস্টেম থেকে শেয়ার করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এনবিআর। তথ্যমতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অটোমেশন কার্যক্রমের আওতায় ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক করদাতারা পুরনো ১০ সংখ্যার পরিবর্তে ২০১৩ সালের ১ জুন থেকে ১২ সংখ্যার অনলাইন ট্যাক্সপেয়ার আইডিন্টিফিকেশন নম্বর বা করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর-ই-টিআইএন সংগ্রহ করতে পারছেন। বর্তমানে এই ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ। এরমধ্যে ২১ লাখের বেশি ব্যক্তি পর্যায়ের এবং ৫২ হাজার কোম্পানি ও বেশকিছু ফার্ম ই-টিআইএন নিয়েছেন। এনবিআর আশা করছে, চলতি ২০১৬-১৭ করবর্ষেও আয়কর রিটার্ন দাখিল করার শেষ দিন আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আরও ৫ লাখ ব্যক্তি ই-টিআইএন গ্রহণ করবে। সরকার আগামী ২০১৮-১৯ সালে সক্রিয় করদাতার সংখ্যা ৩০ লাখে উন্নীত করতে চায়। তথ্যমতে, নতুন ‘ই-টিআইএন’ গ্রহণ করতে করদাতাকে কোনো ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না। কর অফিসে না গিয়েও এখন ঘরে বসে করদাতারা অনলাইনের মাধ্যমে ‘ই-টিআইএন’ রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন। এই পদ্ধতিতে ইন্টার্নেটের মাধ্যমে .িরহপড়সবঃধী.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে করদাতা প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে ঘরে বসেই তাত্ক্ষণিকভাবে টিআইএন সনদপত্র পাচ্ছেন।

তথ্যমতে, ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ‘ই-টিআইএন’ নিতে হলে লাগবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (এনআইডি)। তবে লিমিটেড কোম্পানি বা রেজিস্টার্ড ফার্মের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) ইনকরপোরেশন বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও তারিখ প্রদানের মাধ্যমে ‘ই-টিআইএন’ সংগ্রহ করতে পারছেন। এ ছাড়া অন্যান্য করদাতাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে ইন্টার্নেটের মাধ্যমে ‘ই-টিআইএন’ সনদপত্র নিতে পারছেন। আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, করযোগ্য আয় না থাকলেও ব্যক্তি বা কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। ১৬ সিসিসি ধারা অনুযায়ী— লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে কোম্পানি পর্যায়ের করদাতাদের দশমিক ৩০ শতাংশ কর দেওয়া বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে অপেক্ষাকৃত ছোট কোম্পানিগুলো আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আগ্রহী নয়। শুধু ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা পেতে তারা টিআইএন নেয়। আবার অনেক কোম্পানি আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন নিলেও পরবর্তী সময়ে আর ব্যবসা পরিচালনা করে না। এ ধরনের কোম্পানির সঠিক হিসাব না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠান ও বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য বাড়ছে।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow