Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫৬
১০ টাকা কেজি দরে চাল
হতদরিদ্রের তালিকায় প্রভাবশালীরা
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে চাল/গম বিক্রির জন্য প্রণয়ন করা হতদরিদ্রদের তালিকায় নাম উঠেছে প্রভাবশালীদের। শুধু তা-ই নয়, নাম উঠাতে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়।

পুনরায় তালিকা প্রণয়ন ও টাকার বিনিময়ে কার্ড বিতরণকারী ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগীরা সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রতিমন্ত্রী অভিযোগটি আমলে নিয়ে ইউএনও আদিতমারীকে সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগে প্রকাশ, হতদরিদ্রদের মধ্যে মাথাপিছু প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য তালিকা প্রণয়ন করে সুবিধাভোগীদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করে খাদ্য বিভাগ। এ কার্ড বিতরণকালে কার্ডপ্রতি ১৮০ টাকা হারে অর্থ আদায় করেন উপজেলার বেশ কয়েকজন ডিলার। টাকা না দেওয়ায় অনেক হতদরিদ্র পরিবার কার্ড সংগ্রহ করতে পারেনি। তবে ডিলার সোহেল ও শফিকুল অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, সঠিকভাবেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালীরা হতদরিদ্রের তালিকায় নাম উঠিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। সারপুকুর ইউনিয়নের বিভার গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে কর্মকর্তা আকমল হোসেন, মহিষখোঁচা ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা আরএফএলের ডিলার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলীসহ অনেক প্রভাবশালীর নাম রয়েছে এ তালিকায়। তালিকা থেকে বাদ পড়েননি ট্রাক মালিক, ইউপি সদস্য, শিক্ষক, চাকরিজীবীরা। কিছু এলাকায় ডিলাররাই তালিকা প্রণয়ন করায় তারা নিজেদের আত্মীয়স্বজনের নামে কার্ড তৈরি করে সরকারি চাল উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সুষ্ঠু মনিটরিং না থাকায় ডিলাররা ওজনে কারচুপি করছে বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত হতদরিদ্রদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় এমপি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আদিতমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার আটটি ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য ১০ হাজার ৫৪১ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রতি কেজি চাল গোডাউন থেকে ৮.৫০ টাকায় ক্রয় করে কার্ডধারীদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য ২৫ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   আদিতমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ টি এম সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী তালিকায় প্রভাবশালীর নামের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘শুনেছি বেশকিছু প্রভাবশালীর নাম রয়েছে তালিকায়। জনবল সংকটের কারণে সঠিকভাবে মনিটর করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব দ্রুত তদন্ত করে প্রভাবশালীদের নাম বাদ দেওয়া হবে এবং ওজনে কম দেওয়া ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহীনুর আলম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে উভয়পক্ষকে ডেকে তদন্ত করা হবে। তদন্তে যে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এ এফ এম আলাউদ্দিন খান জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow