Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫০
মানবাধিকার কমিশনকে দুর্বলবান্ধব হওয়ার পরামর্শ
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে জনগণের আস্থা অর্জন করার ও দুর্বলবান্ধব হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকেরা। জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

এতে সম্পাদকেরা মানবাধিকার কমিশনকে এ পরামর্শ দেন। সম্পাদকদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী  রিয়াজুল হক বলেন, মানবাধিকার কমিশন দুর্বলের পাশে দাঁড়াতে চায়। কিন্তু জনবলের দিক থেকে এখনো কমিশন শিশু অবস্থায় আছে। কিছু সময়ের প্রয়োজন আছে। এর পরও কমিশন চেষ্টা করছে। তিনি যে কোনো বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে কমিশনের সঙ্গে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থার বিবৃতি প্রচারের ক্ষেত্রেও কমিশনের সঙ্গে যাচাই করার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, তারা (আন্তর্জাতিক সংস্থা) কোনো একটা বার্তা দিলে তা নিজেরা যাচাই-বাছাই করার। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকল, তারা কোনো বার্তা দিলে আপনারা আমাদের সঙ্গে ভেরিফাই করে নেবেন। তারপর আপনারা যা লিখবেন, তা আপনাদের মতো লিখবেন। ’ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বাধীন। আইনে কমিশনকে যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, জনগণের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণে তা কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাধা এলে গণমাধ্যম কমিশনের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, সমাজে যারা ক্ষমতাবান, তারাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন। বাসস চেয়ারম্যান রাহাত খান বলেন, বিগত কমিশন হয়তো অত কিছু করতে পারেনি। কিন্তু কথা তো বলেছে। মানুষের মনে সে কথাগুলো আলোড়িত করেছিল। মানুষ ও গণমাধ্যমের মধ্যে এই বিশ্বাসটা হয়েছে, কমিশন কথা বলছে। নতুন কমিশনের দায়িত্ব সেগুলোকে কাজে বাস্তবায়ন করা। সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, সরকার মানবাধিকার কমিশন গঠন করে। কমিশন গঠিত হওয়ার পর তা আর সরকারের নয়, জনগণের। শুধু কথা নয়, সবার অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। মানবাধিকার কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার শিরদাঁড়া কতটুকু শক্ত, আমরা দেখতে চাই। ’ কলাম লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের অনেক শক্তি বা সংস্থা আছে। কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দেখতে আছে শুধু মানবাধিকার কমিশন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দুর্বলবান্ধব হতে হবে। প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাদের যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে, এতে আরও গুণগত পরিবর্তন এনে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো কোনো বিষয় তুললে এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করার পরামর্শ দেন তিনি। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, ধর্মের নামেই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সময় টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা দানিশ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow