Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫৪
ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে মানোন্নয়ন হবে না
——— এ কে আজাদ চৌধুরী
ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে মানোন্নয়ন হবে না

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোর ট্রাস্টি বোর্ড যদি যত্নবান হয় তবে এ সেক্টরে শিক্ষার মান এগিয়ে যাবে। ট্রাস্টি বোর্ড ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা   করলে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস এ দেশে বেশি দিনের নয়। খুব কমসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার মান ভালো। মান ও সার্টিফিকেটের বিচারে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় সংকটে রয়েছে। দেশের সিংহভাগ শিক্ষার্থী এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ গ্রহণ করছে। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চালাতে গিয়ে শিক্ষার মানের সঙ্গে কমপ্রোমাইজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদারকি ও মনিটরিং কার্যকর করতে ইউজিসিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তর করা জরুরি। মাত্র ৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে ১৯৭৩ সালে ইউজিসি অ্যাক্ট গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর বেড়েছে অনেক। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০০ ছুঁই ছুঁই। এসব বিশ্ববিদ্যালয় তদারকির জন্য শক্তিশালী আইন দরকার। ইউজিসিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরের পাশাপাশি এর কাঠামোও ঢেলে সাজাতে হবে। আমি ইউজিসির চেয়ারম্যান থাকাকালে এ ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। আমার বিশ্বাস, সরকার উচ্চশিক্ষার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে ইউজিসিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তর করবে। এটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য বলেন, নতুন অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের মানের সংকট রয়েছে। অবকাঠামোর সংকট রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নের জন্য সরকারকে নজর দিতে হবে। ইউনেসকোর সুপারিশ অনুযায়ী মোট জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের দেশে এ বরাদ্দের পরিমাণ ২ শতাংশের কিছু বেশি। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow