Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৩
সংকট না থাকলেও বাড়ছে চালের দাম
মোস্তফা কাজল

চিনির পর এবার চালের বাজার অস্থির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে বাড়ছে চালের দাম। এক থেকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি)   চালের দাম বেড়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা এর পেছনে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না। অনেকে দেশের বন্যা পরিস্থিতির, কেউবা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কথা বলছেন। আবার অনেকে বলছেন, এর পেছনে দায়ী মালিকরা। তবে অজুহাত যা-ই হোক, পাইকারি বাজারের প্রভাব পড়ছে চালের খুচরা বাজারে। ঢাকার মিরপুর ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এলাকার পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্বর্ণা চালের দাম কেজিতে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যান্য চালের দামও কেজিতে বেড়েছে ১ টাকা করে। চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে এসে ধান সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের কারণে মোটা চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া সবজির বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, কাঁচাবাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ শাক-সবজির দাম প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে।

চালের বাজার : খুচরা বাজারে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫-৬ টাকা। মাসখানেক আগেও মোটা জাতের গুটি ও স্বর্ণা চালের দাম কেজি ২৮-২৯ টাকা ছিল। এরপর তা কয়েক দফায় বেড়েছে। এ ছাড়া মিনিকেট চালের দাম ছিল কেজি ৪১-৪২ টাকা। বর্তমানে একই পরিমাণ পণ্যে ৪৩-৪৪ টাকা দাম হাঁকাচ্ছেন মিলমালিকরা। মোকাম থেকে ওই চাল ঢাকায় আনতে কেজিতে আরও ১ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। ফলে লাভ রাখতে মিনিকেট চাল তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫-৪৬ টাকায়। আর খুচরা বাজারে ৪৭-৪৮ টাকায়। রাজধানীর মিরপুর বড়বাজারের কাশেম রাইস এজেন্সির মালিক আবুল কাশেম বলেন, এবার সরকার চাল একটু দেরি করে কিনছে। এ ছাড়া মোটা ধানের আবাদ কম হয়েছে। এতেই দাম বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ আসন্ন কার্তিকে দেশে আমনের নতুন ধান উঠবে। এ অবস্থায় মিলাররা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে দাম বাড়িয়েছেন। আগে মোকাম মালিকরা চাল সরবরাহের পর পাইকারি ব্যবসায়ীরা সুবিধামতো দামে বিক্রি করতেন। কিন্তু সম্প্রতি মিলমালিকরা মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কমে বিক্রি করলে এর দায় ব্যবসায়ীদের নিতে হচ্ছে। মিলমালিকরা প্রতিদিনই চালের দাম বাড়াচ্ছেন বলেও জানান পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়তদার সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক বাবর আলী বলেন, বাজারে চালের কোনো সংকট নেই। দেশের বিভিন্ন বাজারে যে পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ছয় মাস পর্যন্ত চালানো সম্ভব। তবে ঢাকা জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, চালকল মালিকরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ৮০ শতাংশ মিলমালিক ঋণখেলাপি হতেন না।

বাংলাদেশ রাইস এজেন্সিস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিন্টু মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারি গুদামে চালের সরবরাহ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই মোটা চালের বাজারে দামের কিছুটা হ্রাস-বৃদ্ধি মোটেও অস্বাভাবিক নয়। এ ছাড়া চিকন জাতের জিরাশাইল, মিনিকেটসহ কিছু জাতের ধানের চাষ বছরে একবারই হয়। তাই মৌসুমের শেষ দিকে সেসব জাতের চাল পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।

সবজির বাজার চিত্র : রাজধানীর কাঁচাবাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ শাক-সবজির দাম প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল মিরপুর ও মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত সপ্তাহে বাজারভেদে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়। গতকাল বিক্রি হয় ৫০ টাকায়। কাঁকরোলের দাম ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা। বেগুন ৪০ থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঝিঙা প্রতি কেজি ৫০, বরবটি ৪৮-৫০, টমেটো ৮৫-৯০, চিচিঙ্গা ৫০, শিম ৮০, পেঁপে ২৫, ঢেঁড়স ৪০, কচুর লতি ৫০, কচুর মুখি ৪৫, আলু ২০-২৪, ধুন্দল ৪০, গাজর ৫০, পটোল ৩৫ এবং প্রতি পিস বাঁধাকপি ৪০, ফুলকপি ৩০, মিষ্টিকুমড়া ৫০-৬০ ও লাউ ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুর বড় কাঁচাবাজারের এক বিক্রেতা বলেন, সবজির দাম খুব একটা বাড়েনি। ৩ থেকে ৫ টাকার মতো বেড়েছে, যা প্রতি সপ্তাহেই বাড়ে। মাঝেমধ্যে একই হারে কমে।

 এ ছাড়া বাজারে পিয়াজ, রসুন, আদা ও ডালের দাম অপরিবর্তিত আছে। পিয়াজ (দেশি) ৩০-৩৫ আর আমদানি করা পিয়াজ ২৫ টাকা কেজি। এদিকে মাংসের বাজার রয়েছে স্থিতিশীল। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪২০ টাকায়। খাসি ৬৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। লেয়ার প্রতি কেজি ১৭০ টাকা। আকারভেদে দেশি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। এ ছাড়া ইলিশ মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গত সপ্তাহের তুলনায় দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা। গতকাল ১ কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকায়। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৭০০। অন্যান্য মাছ গত সপ্তাহের দামে স্থিতিশীল রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow