Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৫
এবার বিল ক্লিনটনকে নিয়ে হিলারিকে আক্রমণ ট্রাম্পের
প্রতিদিন ডেস্ক
এবার বিল ক্লিনটনকে নিয়ে হিলারিকে আক্রমণ ট্রাম্পের

বিতর্কে জড়াতেই পছন্দ করেন মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বেফাঁস মন্তব্যে তার জুড়ি নেই। এত দিন ট্রাম্প তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটনের নানাবিধ সমালোচনাতেই ব্যস্ত ছিলেন। এবার এই রিপাবলিকান প্রার্থী তাতে যোগ করলেন হিলারির স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে। তার যৌন কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, হিলারি বিজয় লাভ করলে তার স্বামীর যৌন কেলেঙ্কারিকে ফিরিয়ে আনবেন হোয়াইট হাউসে।

বৃহস্পতিবার নিউ হ্যাম্পশায়ারে নির্বাচনী প্রচারণায় এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমেরিকার জনগণ বছরের পর বছর ধরে ক্লিনটনের দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারি দেখে এসেছে। মিথ্যা বলার জন্য অভিশংসন হওয়া প্রয়োজন। মনে আছে? অভিশংসন।’ সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন তিনি। স্বতন্ত্র একটি পর্ষদের তদন্তের পর ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিংশসনের বিল উত্থাপন করে। পরে সিনেটের কল্যাণে তিনি অভিশংসনের হাত থেকে মুক্তি পান। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবির থেকে জানানো হয়,  সোমবারের বিতর্কেই মনিকা লিউনস্কিকে নিয়ে স্ক্যান্ডালের বিষয়টি উত্থাপনের প্রস্তুতি ছিল। তবে বিতর্কে ক্লিনটন দম্পতির কন্যা চেলসি উপস্থিত থাকায় আর সেটা উত্থাপন করা হয়নি।

অন্যদিকে সোমবারের বিতর্কে ভালো করায় হিলারি মূলত ভোটারদের মনোযোগ কাড়তে ইতিবাচক কথা বলে যাচ্ছেন। কিন্তু খেপাটে ভাব কমেনি ট্রাম্পের, নিউ হ্যাম্পশায়ারে তার প্রমাণ দিলেন।

এদিকে ট্রাম্প ও তার মিত্ররা স্বীকার করে নিয়েছেন, প্রথম বিতর্কে তাদের প্রস্তুতি যথাযথ ছিল না। ট্রাম্পের প্রচারণা দল ও রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি এর মধ্যে অনলাইনে একটি জরিপ পরিচালনা শুরু করেছে। তাতে সমর্থকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় বিতর্কে সন্ত্রাসবাদ, অর্থনীতি ও বাণিজ্য নিয়ে হিলারির নীতি নিয়ে সমালোচনা করা উচিত হবে কিনা। তবে বিল ক্লিনটনের কেলেঙ্কারির বিষয়টি ট্রাম্প বিতর্কে তুলবেন কিনা, তা জানতে চাওয়া হয়নি ওই জরিপে।

অবৈধভাবে কিউবায় ব্যবসা করেছিলেন ট্রাম্প : কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ১৯৯৮ সালে  দেশটিতে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন ট্রাম্প। ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতায় থাকাকালীন ট্রাম্প নিয়ন্ত্রিত একটি কোম্পানি দেশটিতে গোপনে ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক সংবাদ ম্যাগাজিন নিউ উইকের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। আর খবরটি প্রকাশের পর এ ঘটনাকে কিউবায় আরোপিত বাণিজ্যিক অবরোধের ঐতিহাসিক লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছেন প্রতিদ্বন্দ্ব্বী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ১৯৯৮ সালে কিউবায় যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা চলছিল, তখন ব্যবসার কাজে ৬৮ হাজার ডলার ব্যয় করেছিলেন ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞাকালীন এ ধরনের বাণিজ্যিক বিনিয়োগকে অবৈধ বলে বিবেচিত হয়। নিউজ উইকের দাবি, ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্বাহীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং   কোম্পানির অভ্যন্তরীণ রেকর্ডপত্র ও আইনি কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে কিউবায় তার ব্যবসা করার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ট্রাম্পের মুখপাত্র কেলিয়ান কনওয়ে দাবি করেছেন, ট্রাম্প ওই খানে ব্যবসার জন্য টাকা দেননি এবং তিনি কিউবার সঙ্গে চুক্তির বিরোধী ছিলেন। ট্রাম্পও বরাবরই দাবি করে আসছেন যে কিউবায় বিনিয়োগের প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিউবায় বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন হিলারি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের আইন আছে। কিউবান বাজার ধরতে ট্রাম্প যে প্রচেষ্টা চালায় তাতে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও নীতিমালার  চেয়ে নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দেন ট্রাম্প।’ বিবিসি, গার্ডিয়ান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow