Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪১
অষ্টম কলাম
‘গরিবের চাল’ বড়লোকের পেটে
প্রতিদিন ডেস্ক

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মধ্যে স্বল্পমূল্যে (১০ টাকা কেজি মূল্যে) চাল বিক্রির জন্য তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশালের গৌরনদীতে ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালোবাজারে ও মিলারদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজগঞ্জে ৬৫ বস্তা চাল, দুটি পিকআপ ভ্যানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

নগরকান্দায় তালিকায় হতদরিদ্রদের নাম বাদ দিয়ে এলাকার ‘সচ্ছল’ ও ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে চাল বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের এক হাজার দুজন সুবিধাভোগী পরিবারের মধ্যে স্বল্পমূল্যে চাল বিতরণের জন্য দুজন ডিলার নিযুক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন রামনগর ইউনিয়নের গজগা গ্রামের ছরোয়ার মোল্যা ও শহিদুল ইসলাম। ডিলার ছরোয়ার মোল্যা ৫০১টি সুবিধাভোগী পরিবারের মধ্যে এবং শহিদুল ইসলাম ৫০১টি সুবিধাভোগী পরিবারের মধ্যে ১০ টাকা  কেজি মূল্যে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করছেন। সরেজমিন চাল বিতরণের সময় দেখা গেছে, ইউনিয়নের গজগা গ্রামের গেদা দফাদার, ওসমান খান, জলিল মাতব্বরসহ কিছু ‘সচ্ছল’ ব্যক্তি ১০ টাকা কেজি মূল্যে চাল নিচ্ছেন। নামের তালিকা অনুসারে এলাকা ঘুরে তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, রামনগর ইউনিয়নের এক হাজার দুজন সুবিধাভোগীর মধ্যে ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মনোরঞ্জন দাস, মোসলেম কারিকর, হারুন কারিকর, বকুল প্রামাণিক, কুঞ্জনগর গ্রামের সেফার মাতব্বর, রাধানগর গ্রামের সামাদ সিকদার, গজগা গ্রামের ফারুক মণ্ডলসহ এলাকার শতাধিক ধনী ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের অনেকের বাড়িতে পাকা ভবন রয়েছে, কেউ আবার বড় ব্যবসায়ী ও অনেক জমি-জমার মালিক। কারও ছেলে থাকে বিদেশে। হতদরিদ্রদের নাম বাদ দিয়ে তালিকায় এলাকার ‘সচ্ছল’ ও প্রভাবশালীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুবিধাবঞ্চিতরা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,  ইউনিয়নের কুঞ্জনগর গ্রামের বিধবা ও অসহায় রওশনআরা বেগম এবং জমেলা বেগম, গজগা গ্রামের বিধবা ছবুরন বেগম, গোপালপুর গ্রামের এতিম কুদ্দুস হোসেন, রাধানগর গ্রামের ভ্যানচালক লিয়াকত খান, রামনগর গ্রামের ভূমিহীন ও অসহায় সদগার মোল্যা, গৌর চন্দ্র মালো, রাধানগর গ্রামের বিল্লাল ফকির, গজগা গ্রামের ভূমিহীন নুরু শেখ, মাসুদ মণ্ডল, জয়নাল হোসেন, গোপালপুর গ্রামের সেবক মালোসহ এলাকায় অনেকেই হতদরিদ্র ও অসহায় হওয়া সত্ত্বেও তালিকায়  নাম দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোজাহারুল ইসলাম বলেন, হতদরিদ্রদের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ১০ টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছে। তালিকায় কোনো সচ্ছল ব্যক্তির নাম দেওয়ার নিয়ম নেই। যদি তদন্ত করে কোনো সচ্ছল ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়, তাহলে তার নাম বাদ দেওয়াসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৌরনদীতে ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ : বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সরকারের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন ডিলারের বিরুদ্ধে ১০ টাকা কেজি দরের চাল কালোবাজারে ও মিলারদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গৌরনদীতে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই বাজারে প্রদীপ কুমার দত্ত ও ভূরঘাটা বাজারে ফরিদ হোসেন বেপারী ১ হাজার ৯০৫, বার্থী ইউনিয়নের বামসিদ্দি বাজারে গণেশচন্দ্র বাড়ৈ ও বার্থী বাজারে আবদুল আজিজ বেপারী ১ হাজার ৮৩৮, চাঁদশী ইউনিয়নে আতিকুর রহমান রতন ও মাহবুব রহমান রোমান ৭৫৭, মাহিলাড়া ইউনিয়নের বিল্বগ্রাম বাজারে শহিদুল ইসলাম সরদার ও মাহিলাড়া বাজারে জালাল সরদার ১ হাজার ৮৭, বাটাজোড় ইউনিয়নের চন্দ্রহার বাজারে বুলবুল ইসলাম ও বাটাজোড় বাজারে কামাল শিকদার ১ হাজার ৬৫৫, নলচিড়া ইউনিয়নের পিঙ্গলাকাঠি বাজারে মাসুদ মল্লিক খোকন ও নলচিড়া বাজারে জাকির হোসেন হাওলাদার ১ হাজার ৫৫০, শরিকল ইউনিয়নের শরিকল বাজারে হিরণ হোসেন হীরা ও সুরেন শিকদার হাটে রত্তন বেপারীকে ১ হাজার ৬৬০টি কার্ডের বিপরীতে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য ডিলার নিয়োগ করে খাদ্য বিভাগ। তবে তারা সবাই সরকারি দলের নেতা-কর্মী।

সিরাজগঞ্জে ৬৫ বস্তা চালসহ দুটি পিকআপ ভ্যান জব্দ, আটক ৩ : সিরাজগঞ্জে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ টাকা দরের চাল কালোবাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় ৬৫ বস্তা চাল, দুটি পিকআপ ভ্যানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গত রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকার মিরপুর ওয়াপদা বাঁধ এলাকা থেকে সদর থানা পুলিশ এদের আটক করে। তারা হলেন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার হোসেনপুর মহল্লার মাসুম হোসেনের ছেলে সোহাগ (২৮), সদর উপজেলার শিয়ালকোল গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রাকিব (২৩) ও শিবনাথপুর গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে আলগীর হোসেন (২৩)। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow