Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৯
নৌকাবাইচ উৎসব বালু নদে
রাশেদুর রহমান
নৌকাবাইচ উৎসব বালু নদে
বালু নদে গতকাল নৌকাবাইচ উৎসবে ঢল নামে মানুষের —জয়ীতা রায়

‘হেই হেই হেইয়োরে....হেই হেই হেইয়ো’। নৌকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে একজন সুর তুলছেন।

বাকিরা তার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছেন। পাশে আছেন ঢোল বাদক। কোনো কোনো নৌকায় ঢোলের পরিবর্তে কাঁসা আর মঞ্জিরা বাজছে। সারি গান আর বাদ্যের তালে-তালে নৌকা চালিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন মাঝি-মাল্লারা। আবহমান কাল থেকে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সারি গান আর বাদ্য-বাজনার অপূর্ব সুরের কত শত গল্প গাঁথা! গতকাল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমানায় অবস্থিত বালু নদেতে বেরাইদ ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো নৌকা বাইচ উৎসব।

দেশের নানা প্রান্ত থেকে ৩৮টি দল বালু নদের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, খুলনা, পাবনা, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ থেকেও এখানে কোষা, ছিপ আর  খড়কী নৌকা নিয়ে হাজির হয় মাঝি-মাল্লার দল। প্রতিটা নৌকারই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম। কোনো কোনোটার নাম মধুমাঝি, পানি রাজ, বাংলার ঐতিহ্য, সোনার বাংলা, গনেশ পাগল ইত্যাদি। গ্রুপ পর্বে লড়াই করে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাড্ডা থানার সাতারকুল এলাকার নৌকা ‘মাসুদ রানা’। চ্যাম্পিয়নদের হাতে সোনার নৌকা পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ, এমপি। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ফ্রিজ জিতে নেয় একই এলাকার নৌকা ‘মধু মাঝি’। মুন্সীগঞ্জের ‘খান বাড়ি’ নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে জিতে নেয় একটি টিভি। বালু নদের কামসাইস থেকে বেরাইদ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ স্থানে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। নৌকা বাইচ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, এমপি। তিনি বক্তব্য দিতে গিয়ে বেরাইদবাসীদের ৫০০ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা বর্ণনা করেন। স্থানীয় এমপি এ কে এম রহমতউল্লাহ এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের সমাজ। এখানে নদীর ভূমিকা অনেক। ’ নৌকা বাইচকে তিনি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হিসেবে বর্ণনা করেন। এ কে এম রহমতউল্লাহ তার বক্তব্যে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এ নৌকা বাইচ বেরাইদের ঐতিহ্য। ’ বালু নদের তীরে লাখো মানুষ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও বহু দূর থেকে বেরাইদের নৌকা বাইচ উৎসব দেখতে এসেছে। আর স্থানীয়দের জন্য এটা যেন ‘মহা উৎসবে’ পরিণত হয়েছে। ছোট ছেলে-মেয়েরাও বাবা কিংবা দাদার হাত ধরে নদীর তীরে দাঁড়িয়েছে নৌকা বাইচ দেখবে বলে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নেহারুল বলেন, ‘আমাদের এখানে নৌকা বাইচটাই সবচেয়ে বড় উৎসব। এখানে মানুষ ধর্ম-বর্ণ নিবিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করে। ’ বালু নদের দুই পাড় জুড়ে অসংখ্য নৌকা নোঙ্গর করা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো দর্শক এখানে এসেছেন এই নৌকা বাইচ উৎসব দেখতে। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় চেয়ারম্যান হাজী মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকেই ধরে রাখার চেষ্টা করছি। ’ এছাড়াও নৌকা বাইচ উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মো. ওয়াকিল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান ও হাবিব হাসান, দফতর সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ সাইফুল, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। উপস্থিত ছিলেন বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের ২১ ওয়ার্ড সভাপতি মো. ওসমান গনি, বেরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সৈকত ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আনসার মিন্টু।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow