Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩১
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন
ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজে ১২ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি পরিবহন
ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) নিয়মে সমুদ্রপথে দ্বিস্তরের কাঠামোবিশিষ্ট (ডাবল বটম ও ডাবল হাল) জাহাজ দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাংলাদেশে তা মানা হচ্ছে না। আইএমওর নির্দেশনা না মেনেই সিঙ্গেল বটম ও সিঙ্গেল হালের ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ দিয়ে বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি পরিবহন করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

৩০ বছরের পুরনো ও চলাচলের অনুপযোগী জাহাজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের কারণে দুর্ঘটনায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ আশঙ্কা দূর করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট দফতরের তথ্যমতে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানি করা সব জ্বালানি পরিবহন করে বিএসসি। বর্তমানে বিএসসির তিনটি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলার সৌরভ ও বাংলার জ্যোতি দিয়ে বিপিসির অপরিশোধিত জ্বালানি পরিবহন করা হয়। অন্য জাহাজটি কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহার হয়। এর মধ্যে ভাড়া করা মাদার ভেসেলে আসা জ্বালানিগুলো বহির্নোঙর থেকে বিএসসির দুটি জাহাজের মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছানো হয়। আইএমওর সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশেরও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার কথা। কিন্তু দেশীয় আইনে এ-সংক্রান্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় মুনাফার লোভে সরকারি সংস্থা বিএসসি এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ১৯৯১ সালের পর বিএসসির বহরে নতুন কোনো জাহাজ যুক্ত হয়নি। তাই সংস্থার (বিএসসি) বাণিজ্যিক স্বার্থে সিঙ্গেল হাল ও পুরনো জাহাজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন করতে হচ্ছে। তবে চীন থেকে নতুন তিনটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাঙ্কার ও তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার কেনার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জ্বালানি পরিবহনকারী দুটি লাইটারেজ জাহাজ এমটি বাংলার জ্যোতি ও এমটি বাংলার সৌরভ কেনা হয় ১৯৮৭ সালে। সেই হিসেবে ডেনমার্ক থেকে কেনা জাহাজ দুটির বয়স ৩০ বছর। আইএমওর নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে জাহাজগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও সিঙ্গেল হাল ট্যাঙ্কার দিয়ে জ্বালানি পরিবহন করায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, আইএমও কনভেনশন অনুযায়ী ভোলাটাইল পদার্থ হিসেবে জ্বালানি তেল পরিবহনে ডাবল বটম ও ডাবল হালবিশিষ্ট নৌযান ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। আইএমওর সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও এটি প্রযোজ্য। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনের দোহাই দিলে চলবে না। কারণ দ্বিস্তরের হালে দুর্ঘটনায় উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভিতরের স্তর অক্ষত থাকে। এতে দুর্ঘটনায় জাহাজ ডুবে গেলেও তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক কম। তাই পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি চিন্তা করে দ্রুততম সময়ে এসব জাহাজ চালানো বন্ধ করা দরকার। জানা যায়, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের প্রধান বাণিজ্যিক উপকরণ সমুদ্রগামী জাহাজ। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির ৩৮টি জাহাজ ছিল। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ ও অলাভজনক হয়ে পড়ায় বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানটি ৩৫টি জাহাজ বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে যে তিনটি জাহাজ রয়েছে এর মধ্যে দুটির মেয়াদ ৩০ বছর পার হতে চলেছে। কনটেইনার বহনকারী বাকি জাহাজটি (এমভি বাংলার শিখা) সর্বশেষ ১৯৯১ সালে কেনা হয়, যার মেয়াদ ২৫ বছর পার হতে চলেছে। বিভিন্ন সময় ৩৫টি জাহাজ বিক্রি করলেও গত ২১ বছরে কোনো নতুন জাহাজ কেনেনি সংস্থাটি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow