Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩৩
মামলা থেকে বাঁচতে তারা যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

নাশকতাসহ একাধিক মামলার আসামি জামায়াত নেতারা গতকাল আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। দলে যোগদানকারীদের মধ্যে আছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত ও জামায়াত নেতা মাওলানা সোহরাব আলী, জামায়াতের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির  সদস্য মো. আফরোজ জুলমাত আলী, জামায়াত নেতা নবাবগঞ্জ মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল্লাহেল কাফী এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঠিকাদার মসিদুল হক মাসুদ ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মোতাহার আলী। সাবেক পৌর কমিশনার শওকত আলীর নেতৃত্বে সদর উপজেলার আলাতুলি, চর অনুপনগর ও শাহজাহানপুর ইউনিয়ন জামায়াত-বিএনপির ৫০০ নেতা-কর্মী যোগদান করেন। এ যোগদান নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল মাহমুদ খান খান্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সদর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওদুদের হাতে ফুল দিয়ে জামায়াত-বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জামায়াতের অঙ্গসংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা আফরোজ জুলমাত, মাওলানা সোহরাব আলী, মসিদুল হক মাসুদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম প্রমুখ। সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে আর কোনো মামলা হবে না এবং সদর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত করা হবে এই নিশ্চয়তা পেয়ে জামায়াত নেতা মাওলানা সোহরাব আলী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মইনুদ্দীন মণ্ডলসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা জেলা, পৌর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই এ যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মিজান নাশকতা মামলার আসামিদের আওয়ামী লীগে যোগদানে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, যারা স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগে ঢোকাচ্ছেন তারা আসলে দলের নীতি-আদর্শবিরোধী কাজ করছেন। জামায়াত-শিবিরের কোনো সন্ত্রাসীকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা মেনে নেবে না। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মইনুদ্দীন মণ্ডলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই যোগদানের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। হত্যা, নাশকতাসহ একাধিক মামলার আসামি জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রবু বলেন, আদর্শিক বা সাংগঠনিক কোনো কর্মকাণ্ড নয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদ এমপি নিজের ব্যক্তিগত বলয় তৈরির জন্য স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-বিএনপিকে দলে ভিড়িয়ে দলকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র করছেন। কোনো সময় দলের দুর্দিন এলে এসব নব্য আওয়ামী লীগারই দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবেন। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তাজিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও জামায়াত-বিএনপির নির্যাতনের শিকার নেতা-কর্মীদের দূরে সরিয়ে রেখে নাশকতা ও হত্যা মামলার আসামি জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীদের দলে ঢুকিয়ে এমপি আবদুল ওদুদ স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগকে জাতীয়তাবাদী জামায়াত লীগে পরিণত করার চেষ্টা করছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow