Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩৫
অবৈধ টিভি চ্যানেলের ৪ জন গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশিদের যোগসাজশে বাংলাদেশের একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার চালাচ্ছে। দেশীয় বিভিন্ন জনপ্রিয় ও সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত সিনেমা-নাটকসহ অশ্লীল সিনেমা তাদের চ্যানেলে প্রচার করছে। চক্রটি দেশের ৩৪টি জেলায় লোকাল ক্যাবল অপারেটরের সহায়তায় ফাইলজিলা নামক সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিঙ্গাপুর থেকে  স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। এরকম অবৈধভাবে টিভি চ্যানেলের কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর শাহাজাদপুরের পলাশ টাওয়ারে অবস্থিত ‘নেহা টেলিভিশন ও এইচ বাংলা টিভি’ অফিসে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তারা হলেন— চ্যানেল দুটির এমডি ইব্রাহিম হোসেন হাওলাদার, মার্কেটিং অফিসার রাশেদ হোসেন স্বপন, এডিটর শামীম আহম্মেদ ও বিশেষ প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, পাঁচটি মনিটর, ছয়টি সিপিইউ, চারটি ইউপিএস, ছয়টি কিবোর্ড, ১৪টি রিসিভার, ১৪টি রিসিভার রিমোর্ট, দুটি টিভি কার্ড, ১৮টি পেনড্রাইভ, একটি প্রিন্টার, একটি স্ক্যানার, চারটি স্পিকার, একটি রাউডার, নয়টি মোবাইল সেট, ১১ হাজার টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্যাটেলাইট সম্প্রচারের ইলেকট্রনিক সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে। র‌্যাব বলছে, বাংলাদেশের মূলধারার টিভি চ্যানেলের বাইরে বেশ কিছু অবৈধ স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করাসহ অপসংস্কৃতির বিস্তার করে আসছে। এরা বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি অশ্লীল ভিডিও প্রচার এবং ভিডিও পাইরেসির মতো অপকর্মগুলো করে থাকে। নতুন সিনেমা মুক্তির পর ওই অফিসে বিভিন্ন ছবির পাইরেসির কাজ করত। এ ছাড়া অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ছবি ও বিজ্ঞাপন তৈরি কাজও এখান থেকে করা হতো। ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম এর আগেও র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, গতকাল ভোরে টেলিভিশন দুটির কার‌্যালয় থেকে বিভিন্ন ধরনের বাংলা ছায়াছবি, নাটক, বিজ্ঞাপন ও অশ্লীল ছবি জব্দ করা হয়। দেশের প্রায় ৩৪টি জেলায় এদের সম্প্রচার চলছে। এদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ক্যাবল অপারেটর জড়িত। এ চক্রটি বাংলাদেশে বসেই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান তৈরি করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে সম্প্রচার কেন্দ্রে পাঠাত। সেখান থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্যাবল অপারেটরদের মাধ্যমে প্রচার করত। এ চক্রটি পূর্ব থেকে সিডি পাইরেসি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের এসব কাজে বাংলাদেশের কিছু বেসরকারি টিভি চ্যানেলের কয়েকজন সহায়তা করত। এ টিভি চ্যানেলের মালিকরা চ্যানেল প্রতি মাসিক চার হাজার ডলার করে সিঙ্গাপুরে পাঠাত। সিঙ্গাপুর থেকে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র বিভিন্ন দেশে তাদের স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ক্যাবল অপারেটরদের সঙ্গে তাদের আর্থিক লেনদেনও রয়েছে। এই টেলিভিশন দুটি বাজারে শেয়ার ছেড়েছে। এ চক্রটি টিভি চ্যানেলের এমডি, সিইও, সিএনইসহ বিভিন্ন জনের ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করত এবং অনেককে জনপ্রিয় মডেল বা নায়ক-নায়িকা করে দেওয়ার কথা বলে সর্বনাশ ও সর্বস্বান্ত করত। এ চক্রটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। এদের অন্যতম ব্যবসা ছিল প্রতারণা ব্যবসার মাধ্যমে বিভিন্ন হারবাল সামগ্রীকে মুখরোচক ও কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন তৈরির মাধ্যমে তা জনপ্রিয় করা এবং গ্রামগঞ্জের নিরীহ মানুষদের বিভ্রান্ত করা। তাদের কিছু কর্মচারী নিজেদেরকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে পদচারণা করত এবং নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত টিভি চ্যানেল হিসেবে পরিচয় প্রদানের জন্য স্যুভেনির প্রকাশ ও তাদের লোগো সংবলিত মগ, টি-শার্ট ও ফাইল তৈরি করে বিতরণ করত। এ ছাড়াও বিভিন্ন সিনেমা পরিচালকদের পাইরেটেড সিডির ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow