Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১১
ফের সক্রিয় ‘প্রশ্নফাঁস চক্র’
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে অনলাইনে জমজমাট বাণিজ্যের আয়োজন, জিরো টলারেন্সের ঘোষণা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
আকতারুজ্জামান

দেশের সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোয় এমবিবিএস শিক্ষার্থী ভর্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র’। ভর্তিচ্ছু কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জিম্মি করে চক্রটি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদিকে প্রশ্নফাঁস বন্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই মেডিকেল কোচিং বন্ধ করেছে। কিন্তু প্রতারক চক্র ফেসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে ‘সরব প্রচারণা’ চালিয়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ফেসবুক পাবলিক গ্রুপে অনেক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রই সক্রিয় রয়েছে। এরা টাকার বিনিময়ে মেডিকেল অ্যাডমিশনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের  প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বিনিময়ে অনলাইন মানি ট্রান্সফার, বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। অথবা প্রশ্নফাঁসের কথা বলে ভর্তিচ্ছুদের মূল মার্কশিট ও সনদপত্র আটকে রাখছে। পরে তাদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।

‘পিএসসি টু মাস্টার্স, মেডিকেলস অ্যান্ড নিবন্ধন এক্সাম ১০০% রিয়াল প্রশ্ন অল বোর্ড’ শীর্ষক ফেসবুক গ্রুপের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এস কে আবদুল আলম নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে গতকাল একটি পোস্ট দেওয়া হয় গ্রুপে। ০১৭৭১৫৫৬৩২০ মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মেডিকেলের প্রশ্নফাঁসের আশ্বাস দেন এই প্রতারক। এই প্রতিবেদক মোবাইল নম্বরটিতে ফোন দিলে অন্য প্রান্ত থেকে তিনি জানান, পরীক্ষার আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল মার্কসিট তাকে পাঠাতে হবে। এ শর্তে তিনি পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় ফেসবুকেই মেডিকেলের প্রশ্ন সরবরাহ করবেন। সরবরাহকৃত প্রশ্ন পরীক্ষার সঙ্গে মিললেই তাকে দিতে হবে ৪ লাখ টাকা। এর আগে তাকে কোনো টাকাই দিতে হবে না, জানান তিনি। ‘রকি ভাই’ নামের আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে, পরীক্ষার আগে টাকা না দিয়ে কিছু শর্ত পূরণ করলে মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রশ্ন দেবেন তিনি। ০১৭৫৯১২৬০৬৮ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হয়েছে পোস্টটিতে। এই নম্বরে কয়েক দফা কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। ‘পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, বিএ/মাস্টার্স, নিবন্ধন অ্যান্ড মেডিকেল এক্সাম কোয়েশ্চন্স অল বিডি’ নামের আরেকটি পাবলিক গ্রুপে প্রশ্ন ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। গ্রুপটিতে ‘এমডি সোহাগ ইসলাম’ নামের আইডি থেকে একটি পোস্ট করে সেখানে বলা হয়েছে কিছু টাকা অগ্রিম পরিশোধ করার শর্তে তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পরীক্ষার আগের দিন সরবরাহ করবেন। প্রতারকের উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরে (০১৭৫০৩১৪৩৩০) যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কল দিতে বলেছেন। সাগর খান নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন দেবেন তিনি। তিনি বলেন, কাজ হওয়ার পরে টাকা দিতে হবে। এ প্রতারকের (০১৭৫৬৭৪১০০৫) নম্বরে ফোন দিলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে পরে কল দিতে বলেন। নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধনবিহীন সিমকার্ড ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। যদি চক্রটির ব্যবহার করা সিমগুলো নিবন্ধন করা হয়েই থাকে, তবে কেন তাদের খুঁজে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, এমন প্রশ্ন অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলের। মাঝেমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব চক্রের কোনো কোনো সদস্যকে গ্রেফতার করলেও তাদের তত্পরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আগামী শুক্রবার ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ডিগ্রিতে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে তাকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, একশ্রেণির অসাধু চক্র সব সময় ভর্তি পরীক্ষার আগে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারসাজি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। তাদের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে বিভ্রান্তির শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। এদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একটি মহল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এমন ঘটলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

up-arrow