Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৫
দুই ঘাটের ইজারা পেলেন এমপি আউয়ালের পত্নী
পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুর জেলা ও বরিশাল বিভাগীয় প্রকৌশলীদের অভিমত এবং হাইকোর্টে দাখিলকৃত রিট পিটিশন উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য (পিরোজপুর-১) এ কে এম এ আউয়ালের স্ত্রী লায়লা পারভীনের দুটি ফার্মকে বেকুটিয়া ফেরি ও বলেশ্বর সেতু ইজারা দিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ফার্ম দুটির নাম হচ্ছে ‘বুশরা এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘সুভাষ এন্টারপ্রাইজ’। এ দুই সেতুর  টোল আদায়ের দায়িত্ব দিয়ে ফার্ম দুটিকে মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছেন সওজের এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। অভিযোগ উঠেছে, এই ইজারার ফলে সরকারের হাতছাড়া হচ্ছে ৬২ লাখ টাকার রাজস্ব। এ চিঠির বিরোধিতা করে বিভিন্ন অনিয়মের দালিলিক প্রমাণসহ অভিযোগ করছেন অন্য ঠিকাদাররা। সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বলেশ্বর সেতু ও বেকুটিয়া ফেরির টোল আদায়ের ইজারাদার নিয়োগের জন্য চলতি বছরে পৃথকভাবে ১০ বার দরপত্র আহ্বান করে সওজ বিভাগ। এ দুই ক্ষেত্রে দরপত্রে অংশ নেয় রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স, এমপিপত্নীর দুটি প্রতিষ্ঠান ও আজমীর এন্টারপ্রাইজ। এর মধ্যে বলেশ্বর সেতুর জন্য ছয়বার ও বেকুটিয়া ঘাটের জন্য চারবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। বলেশ্বর সেতুর ক্ষেত্রে হাবিবুর রহমান মালেকের ‘রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স’ ইজারার জন্য পর পর পাঁচবার দরপত্রে অংশ নেয়। কিন্তু এ সময় প্রতিবারই এক বা দুইয়ের অধিক দরপত্র জমা না পড়ায় তা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি। ষষ্ঠবার দরপত্রের সময় হাবিবুর রহমান মালেক দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকায় দরপত্র দাখিল করতে পারেননি। এ সুযোগে একটি মাত্র দরপত্র দাখিল করে সুভাষ এন্টারপ্রাইজ ১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে। বলেশ্বর সেতুর টোল আদায়ের ইজারাদার ছিল রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স। এই ফার্মের মালিক হাবিবুর রহমান মালেক দেশে ফিরে এ দরপত্রের বিরুদ্ধে আপত্তি দিয়ে আগের অর্থবছরে তার প্রতিষ্ঠানের পাওয়া দর ১ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার ৪৮০ টাকার অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ দর বাড়িয়ে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ৭২০ টাকার দরপ্রস্তাব দিয়ে ইজারা তার প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেন। এদিকে আজমীর এন্টারপ্রাইজের মালিক আজমীর হোসেন মাঝি অভিযোগ করেন, তিনি সওজের ঠিকাদার হিসেবে বেকুটিয়া ফেরিঘাটের দীর্ঘদিনের ইজারাদার। এ ফেরিঘাটে পরপর তিনবার দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং প্রতিবারই তিনি দরপত্রে অংশ নেন। কিন্তু চতুর্থবার দরপত্র আহ্বানে তিনি অংশ নেননি। কারণ হিসেবে বলেন, ইজারা প্রদানের বিধি অনুযায়ী ট্রাফিক কাউন্ট সার্ভে না হওয়ায় তিনি এ দরপত্রে অংশ নেননি। এ সুযোগে লায়লা পারভীনের বুশরা এন্টারপ্রাইজ একটি মাত্র দরপত্র দাখিল করে। অভিযোগ উঠেছে এমপি আউয়াল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান দুটিকে ইজারা পাইয়ে দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন হাবিবুর রহমান মালেক ও আজমীর। তারা দুটি রিট পিটিশন করলে কারণ দর্শানোর জন্য আদালত রুল জারি করে। এরপর ২৩ জুন পৃথক চিঠিতে সওজ পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলে রাব্বি বরিশাল সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে জানান, রাজ ও আজমীর এন্টারপ্রাইজকে ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হলে সরকারের অতিরিক্ত ৬২ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হবে। সে অনুযায়ী নতুনভাবে দরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করেন বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। এ মুহূর্তে হঠাৎ সওজের ঢাকার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সাইফুল আলম বলেশ্বর সেতু ও বেকুটিয়া ঘাটের টোল আদায়ের দায়িত্ব দেন লায়লা পারভীনের দুটি প্রতিষ্ঠানকে। আজমীর হোসেন মাঝি জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করায় ইতিমধ্যে আদালত অবমাননার একটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রভাব খাটানোর বিষয় এমপি এ কে এম এ আউয়াল অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রভাব খাটালে এসব আগেই নিতে পারতাম। সবকিছু নিয়ম মেনে হয়েছে।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow