Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:১৯
রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে বি. চৌধুরী
নেপথ্য কারণ কী পলিটিক্যালি ভাবতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক

রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংসের দায়ে ১০০ বছর পরে হলেও সংশ্লিষ্টরা বিচারের সম্মুখীন হতে পারেন। সব মতকে উপেক্ষা করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের নেপথ্যে কী আছে, তা আমাদের পলিটিক্যালি ভাবতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী গতকাল সকালে রাজধানীর হোটেল ফার্স-এ এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ‘রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেই সেমিনারের আয়োজন করে ‘শত নাগরিক কমিটি’ নামে একটি সংগঠন। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ হলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ক্ষতি হবে—এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুব ভালো করেই জানেন। কিন্তু ক্ষমতায় থাকলে নেতা-নেত্রীর আশপাশে যারা থাকেন, তাদের কাছ থেকে সুপরামর্শ পাওয়া বড় কঠিন হয়ে যায়। তাদের খুব বেশি কানকথা শুনতে হয়। ফলে সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বদরুদ্দোজা চৌধুরী আরও বলেন, বহু বছর পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। আজ যারা সুন্দরবন ধ্বংস করছে, পরবর্তীতে তাদেরও বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। তিনি বলেন, এই বিদ্যুেকন্দ্রটি সুন্দরবন সংলগ্ন রামপালে না করে অন্য কোথাও করা যেতে পারে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের যে অংশে সুন্দরবন আছে, সেখানে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি। শ্রীলঙ্কার কয়লাভিত্তিক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে বাংলাদেশের সুন্দরবনে কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে? সবার বিরোধিতা প্রধামন্ত্রীকে আমলে নিতে হবে। গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের চেয়ে বাংলাদেশকে কম ভালোবাসেন না। কিন্তু সমস্যাটা হয়েছে অন্য জায়গায়। তাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আশপাশে যে উপদেষ্টারা আছেন, তারা তাকে সুপরামর্শ দিচ্ছেন না। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তিনি পাচ্ছেন না। তবে রামপাল ইস্যুতে তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। এটা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাফর?উল্লাহ বলেন, ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরামে কয়লা মজুদ আছে। ভারত চাইলে ময়মনসিংহের কামালপুরে এ বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণ করতে পারে। এ ছাড়া বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ ইস্যুতে গণভোট দাবি করেছেন ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী। শত নাগরিকের আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আ ন হ আখতার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, সুন্দরবন রক্ষা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow