Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:১৯
চুক্তি বাতিলের আহ্বান
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের ‘তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য ফেরত নেওয়া হবে না’— এমন খবরে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এ প্রকল্পের জন্য পরিবেশ ও নিরাপত্তাজনিত সকল প্রকার ঝুঁকি নিরসনমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তা না করা পর্যন্ত এর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল এক বিবৃতিতে নাগরিক সমাজ এ আহ্বান জানায়। তারা বলেন, আইন অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উদ্ভূত সব তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের হ্যান্ডলিং, ট্রিটমেন্ট, কন্ডিশনিং ও ডিসপোজাল নিশ্চিত করে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর আগে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা রাশিয়ার চুক্তিভুক্ত কোম্পানি এ বর্জ্যের পুরো ব্যবস্থাপনার দায়ভার গ্রহণ করবে বলে জানায়। কিন্তু রাশিয়া এখন প্রকল্পের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে, যা বাংলাদেশের পক্ষে কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ প্রকল্পের অস্বচ্ছতার বিষয়ে দেশের নাগরিক সমাজ এর আগে বার বার উদ্বেগ জানিয়েছে। কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে সরকার রূপপুরে এ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি কোনোরকম জনমত যাচাই না করে সরকার এ প্রকল্পের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং স্থান নির্বাচন ও চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আর এ স্বাক্ষরিত চুক্তিও জনসম্মুখে এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অথচ বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে পারমাণবিক বর্জ্য মজুদ রাখা এবং তা পরিশোধন করা একেবারেই অসম্ভব। এ অবস্থায় নাগরিক সমাজ বিবৃতিতে সরকারের কাছে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রসংক্রান্ত চুক্তি বাতিল এবং এর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে টেকসই জ্বালানি বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানায়।

বিবৃতিতে নাগরিক সমাজের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ (সদস্যসচিব, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি), অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল (মানবাধিকারকর্মী), রাশেদা কে চৌধুরী (নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান), খুশী কবির (সমন্বয়ক, নিজেরা করি), হামিদা হোসেন (মানবাধিকারকর্মী), ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম (অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (প্রধান নির্বাহী, বেলা), এম হাফিজউদ্দিন খান (সভাপতি, সুজন), সৈয়দ আবুল মকসুদ (সাংবাদিক) এবং ইফতেখারুজ্জামান (নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি)।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow