Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:২০
গরু পাচার বন্ধ হলে সীমান্ত হত্যা কমবে
বিজিবি মহাপরিচালক
নিজস্ব প্রতিবেদক

গরু পাচার বন্ধ হলে সীমান্তে হত্যা কমে আসবে। গরুর সঙ্গে সোনা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টিও জড়িত। ফলে গরু চোরাচালান রোধ করা গেলে সীমান্তে হত্যা বন্ধের পাশাপাশি অন্য অপরাধও কমে আসবে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সীমান্তে ২৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে ২২ জন। সীমান্তে ৯৫ শতাংশ হত্যার পেছনে দায়ী গরু পাচার। গতকাল সকালে বিজিবি সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এসব কথা বলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ভারতের নয়াদিল্লিতে দুই দেশের শেষ হওয়া ৪৩তম সীমান্ত সম্মেলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে ২২ সদসে?্যর বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ এবং বিএসএফের ২৫ সদস?্য দলের নেতৃত্বে দেন বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মা। বিজিবি প্রধান বলেন, দেশি গরুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের গরু আমাদের প্রয়োজন নেই। আগে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ১৫০০-৩০০০ গরু আসত। কিন্তু এবার কোরবানির ঈদে ৪০০-৫০০ গরুর বেশি আসতে পারেনি। গরু যেহেতু ভারত থেকে আসে, তাই এই চোরাচালান বন্ধে বিএসএফের ভূমিকা মুখ্য। বিএসএফ মহাপরিচালককে গরু চোরাচালান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিএসএফ মহাপরিচালক সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন। গরু পাচারকারীদের ‘হামলায়’ এ বছর তিনজন বিএসএফ সদস্য নিহত এবং ১৫৭ জন সদস্য আহত হওয়ার তথ্য সম্মেলনে জানিয়ে বলা হয়, বিএসএফ আমাদের বলেছে, আক্রমণের শিকার হওয়ায় তারা গরু পাচারকারীদের গুলি করতে বাধ্য হয়। গরু আসা বন্ধ হলে সীমান্ত হত্যা কমবে। গরু পাচারকারীদের ধরে আমরা অন্য সংস্থার কাছে ?তুলে দিই। আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই, আছে সীমাবদ্ধতা।

ভারত সীমান্ত হয়ে আসা কয়েকজন ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ার কথা জানিয়ে বিজিবি প্রধান বলেন, এত দিন আমাদের ধারণা ছিল, ইয়াবা আসে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে। কিন্তু এখন দেখছি ভারতীয় সীমান্ত দিয়েও ইয়াবা আসছে। ভারত সীমান্তের কাছে ইয়াবা তৈরির কোনো কারখানা আছে কিনা, কীভাবে সেগুলো আসছে তা বিএসএফ খতিয়ে দেখবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। বিএসএফকে ২৫০ জন অপরাধীর একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিজিবিকে বিএসএফ সহায়তা করছে। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বিএসএফ সবসময় অজুহাত দেয় আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। কিন্তু আমরা তা মানতে রাজি নই। সম্মেলনে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তাদের আমরা বলেছি, আমরা লেথাল ওয়েপন (মরণঘাতী অস্ত্র) ব্যবহার করি। বিএসএফ নন লেথাল ওয়েপন (মরণঘাতী নয়) ব্যবহার করে। মরলে আমাদের হাতে মরবে। কিন্তু তা হচ্ছে না। বাংলাদেশি যারা মারা যাচ্ছে তাদের মাথায়-বুকে গুলির চিহ্ন দেখেছি। সুতরাং তাদের আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানোর বক্তব্য অজুহাত মাত্র। তিনি বলেন, ভারতসংলগ্ন সীমান্তের ৭৯ শতাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। আর বাংলাদেশ শিগগিরই ২৮২ কিলোমিটার সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করবে। টেকনাফ থেকে এ কাজ শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরও ৯৫০ কিলোমিটার সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। ভারত থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য ও ইয়াবার চোরাচালান বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হওয়ায় গত চার বছরে অন্তত ৩০ জন বিজিবি সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএসএফের সহযোগিতায় ভারত সরকার প্রতি বছর বিজিবি সদস্যদের ২০ জন সন্তানকে স্কলারশিপ প্রদান করবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow