Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০২:১৪
রাতেই আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা জেলার দোহারে তথাকথিত ভণ্ডপীর ‘হজবাবা’র আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। টিভি চ্যানেল ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’ গত রাত ৯টায় তাদের ‘টিম আন্ডারকাভার’ অনুষ্ঠানে ‘হজবাবার’ ভণ্ডামি ও নষ্টামি বিশদভাবে তুলে ধরার পরপরই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। সাড়াজাগানো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রচারের পরপরই দোহারে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে ভণ্ডপীর ডা. মতিউর রহমান ওরফে হজবাবার লটাখোলা এলাকার আস্তানায় অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ ভণ্ডপীরের আস্তানা সিলগালা করে দেয়। বেশকিছু সিডি, ওষুধসহ নানা সামগ্রী জব্দ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা আস্তানায় ভাঙচুর চালায়।

এদিকে সাড়াজাগানো অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য দোহারবাসী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারসহ কর্তৃপক্ষকে। এ প্রতিবেদনে তোলপাড় সৃষ্টি হয় উপজেলাজুড়েই। আর প্রতিবেদনটি প্রচারের খবর পেয়েই গাঢাকা দেন মতিউর রহমান ওরফে হজবাবা। ভণ্ডপীরের লোকেরা বলে বেড়ান ‘হজ করতে আপনাকে লাখ টাকা খরচ করে মক্কায় যেতে হবে না, ঢাকার দোহারেই সেরে নিতে পারেন হজব্রত। যার নেতৃত্বে এই সওয়াবের কাজটি করতে পারবেন তার নাম ডা. মতিউর রহমান ওরফে হজবাবা।’ জানা যায়, প্রতিবেদনটির প্রচার বিঘ্নিত করতে বিভিন্ন এলাকায় ডিস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দোহারের পালামগঞ্জ এলাকার সাখাওয়াত হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, ‘প্রতিবেদনটি প্রচার হবে, আমরা বাংলাদেশ প্রতিদিনে বিজ্ঞাপন দেখে পরিবারের সবাই টেলিভিশন সেটের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। যথাসময়ে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয়। কিন্তু ১০ মিনিট পরই আমাদের ডিস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জানতে পাই এলাকার অনেক বাড়িতে একই অবস্থা।’ লটাখোলার আরমান আলী জানান, ‘৯টায় অনুষ্ঠানটি শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই ডিস সংযোগ অকেজো হয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানতে পাই, পাশের জয়পাড়ায় সংযোগ চালু আছে। তখনই বুঝতে পারি এটা ওই ভণ্ডপীর মতির লোকদের কারসাজি।’

রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি প্রচারের পরপরই দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন ও দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ভণ্ডপীর মতিউর রহমানের আস্তানায় অভিযান শুরু করে। এ সময় আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে কথিত ওই পীরের প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বই, সিডি ও ছবি জব্দ করা হয়।

উত্তেজিত জনতা আস্তানায় ভাঙচুর চালাতে যায়। ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আর এখানে করতে দেওয়া হবে না’ বলে পুলিশ তাদের আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসী ভণ্ডপীর মতির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবেদনটি প্রচারের পরপরই আমরা ভণ্ডপীরের আস্তানা সিলগালা করেছি। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন বলেন, ‘এ ধরনের ভণ্ডামি জঘন্যতম অপরাধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভণ্ডামি যাতে কেউ করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখবে প্রশাসন।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow