Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৭
কুমারীপূজায় ভক্তদের ঢল
প্রিন্স বিশ্বাস
কুমারীপূজায় ভক্তদের ঢল

শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিন গতকাল মহাঅষ্টমীতে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোয় মানুষের ঢল নেমেছিল। কুমারী পূজা দেখার জন্য রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে সকাল থেকেই হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীদের সমাগমে মহাসাড়ম্বরে সম্পন্ন হয় কুমারী পূজা। আজ দুর্গোৎসবের চতুর্থ দিন মহানবমী। আগামীকাল মঙ্গলবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসব।

গতকাল মহাঅষ্টমীর দিন প্রতিটি মণ্ডপে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাঅষ্টমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা শেষে অঞ্জলি ও ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতি প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাত ১০টা     ৩৭ মিনিটে রামকৃষ্ণ মিশন মঠে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। দেবী দুর্গার কাছে জবরদস্তি ও অকল্যাণের প্রতীক মহিষাসুর বধের চূড়ান্ত পর্বই হলো সন্ধিপূজা। গতকাল সকাল ১১টায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় কুমারীপূজা। এবারের পূজার কুমারী সর্বাণী ভট্টাচার্য বিদ্যা। নারায়ণ ভট্টাচার্য ও অনিতা ভট্টাচার্যের মেয়ে সর্বাণী ভট্টাচার্য। সে নারায়ণগঞ্জের আউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। শাস্ত্রমতে, সর্বাণীকে ফুলচন্দন, প্রসাধন ও বিভিন্ন অলঙ্করণে দেবীদুর্গার প্রতীকরূপে সজ্জিত করে রামকৃষ্ণ মিশন মঠের মন্দিরে সকাল পৌনে ১১টায় অধিষ্ঠান করা হয়। এরপর শাস্ত্রীয় বিধি ও মন্ত্রোচ্চারণ পূর্বক মাতৃজ্ঞানে তাকে পূজা দেওয়া হয়। এ সময় হাজারো ভক্তের উলুধ্বনি, ঢাক-ঢোল আর শঙ্খ আওয়াজে রামকৃষ্ণ মিশন মঠ-মন্দির আলোড়িত হয়ে ওঠে। পৃথিবীতে সব নারীর মমত্ববোধ ও শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মাটির প্রতিমার পাশাপাশি দেবী প্রতীকী কিশোরীকে দেবীরূপে আরাধনা করেন কুমারী পূজা দেখতে আসা ভক্তরা। কুমারী পূজা শেষে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অধ্যক্ষ স্বামী ধর্মবেশ্বানন্দ পূজাশেষে সাংবাদিকদের বলেন, নারীপুরুষ সবাই সমান। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যাতে নারীদের ওপর কোনো অত্যাচার কিংবা উত্পীড়ন না হয় সে দৃষ্টিকোন থেকে আমরা কুমারীরূপে মায়ের আরাধনা করি। কুমারী পূজা দেখতে আসা দেবানন্দ গোস্বামী বলেন, ‘দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ এ কুমারী পূজা। এ কুমারী পূজা পৃথিবীতে নারীদের প্রতি সহনশীলতার শিক্ষা দেয় আমাদের’। কুমারীপূজা নির্বিঘ্নে পালনে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

 মিশন গেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পর ভক্তদের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে গোপীবাগ মোড় থেকে গোপীবাগ মাজার পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুর্গোৎসবের চতুর্থ দিন আজ (সোমবার) মহানবমী। সকাল ৯টা ৩ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে যথারীতি পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ সন্ধ্যায় ভোগ-আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি জানায়, আগামীকাল বিকাল ৪টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টঙ্গীর তুরাগ নদী, বেড়িবাঁধ ও পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow