Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০
আইভী প্রশ্নে নীরব দুদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বড় বড় রাঘববোয়ালের বন্ধ থাকা ফাইল পুনরায় খোলা হলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত এক বছরেও শুরু করতে পারেনি দুদক। নারায়ণগঞ্জের মেয়রের প্রশ্নে অনেকটা নীরব দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ফলে, মেয়রের প্রশ্রয়ে গত ১২ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার টেন্ডার অনিয়মকারীরা  ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। জবাবদিহিতা না থাকার সুযোগে সিটি করপোরেশনের কতিপয় কর্মকর্তা বীরদর্পে কোনো ছুটি না নিয়েই মেয়র আইভীর পরিবারের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশ-বিদেশে। বসবাস করছেন নিজেদের কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাটে। নিয়মনীতি না মেনেই বিক্রি করে দিচ্ছেন নিজেদের নামে-বেনামে নেওয়া সিটি করপোরেশনের কোটি কোটি টাকার দোকানপাট। গত ৭ মাসে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে দুর্নীতিবাজদের ভিত্তি কাঁপিয়ে দিয়েছে দুদক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত না হওয়ায় দুদকের সাম্প্রতিক অর্জন ম্লান হতে চলেছে।  

ইতিমধ্যেই মেয়র আইভীর দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ তার ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি অবৈধ রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ মিটিয়ে ফেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দুর্নীতির বিষয়টি ফাইল চাপাই রয়ে যাচ্ছে।

গত বছর জাতীয় সংসদের ৫ম অধিবেশনে নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রেরিত অসত্য ও ভুল তথ্য প্রদানের অভিযোগ বিষয়ে ওই বছরের ১১ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে। ওই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক পদে পরিবর্তন এনে দীর্ঘ চার মাস পরে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনের সার্বিক মন্তব্য পর্যালোচনা করে গত বছরের ২৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সরোজ কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে দুদককে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনকে আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সংস্থাটির উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করা হয়। দলের অন্য সদস্যরা হলেন— সহকারী পরিচালক শেখ আবদুছ সালাম এবং উপ-সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার মনি। কিন্তু তিনি বর্তমানে পরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়ায় অপর উপ-পরিচালক শেখ আবদুছ সালামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ১০ মাস ধরে নাসিকের অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত কমিটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করতে পারেনি।

সূত্র জানায়, ১২ বছর ধরে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতি করা হয়েছে। পৌরসভা আমল থেকে মেয়রের ঘনিষ্ঠ আবু সুফিয়ান তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মুনিয়া ট্রেডার্স, মেসার্স মুনিয়া এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মুনিয়া এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজ (জেবি) এবং মেসার্স রত্না কনসোর্টিয়ামের নামে ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র পৌরসভা আমলেই প্রায় ২০০ কোটি টাকার টেন্ডার কাজ সম্পন্ন করেছে। এ ছাড়াও সিটি করপোরেশন হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি ওই একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকার টেন্ডার কাজ বরাদ্দ হয়েছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাথে টাইলস বসানোর কয়েক কোটি টাকার তিনটি কাজও এই সিন্ডিকেটকে দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৌশলীদের ধার্যকৃত ৪৩ টাকার টাইলসকে ১১৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে শুধু আবু সুফিয়ানের কারণে। বন্দরে নির্মিতব্য ইকো পার্কের প্রথম ধাপের ৩০ কোটি টাকার সব টেন্ডারও কুক্ষিগত করেছে এই সুফিয়ান সিন্ডিকেট। নারায়ণগঞ্জ পৌর পাঠাগার নির্মাণে আবু সুফিয়ানের মেসার্স মুনিয়া ট্রেডার্সের নামে মাত্র ১টি দরপত্র জমা পড়লেও মুনিয়া ট্রেডার্সকে ৮% বেশি দরে কাজটি দেওয়া হয়। যার টেন্ডার মূল্য ১০ কোটি টাকা। নিমতলা বোটখাল ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের কাজেও আবু সুফিয়ানের মালিকানাধীন মুনিয়া টেডার্সের নামে মাত্র ১টি দরপত্র জমা পড়ে এবং ৯% বেশি দরে তাকে কাজটি দেওয়া হয়। যার টেন্ডার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। যদিও সরকারি প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী একটি মাত্র দরপত্র দাখিল হলে তাকে বেশি দরে কাজ দেওয়ার বিধান নেই।

২০১০ সালের ৮ এপ্রিল ফতুল্লার পঞ্চবটীর হরিহরপাড়ায় সিটি করপোরেশনের ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ৬.২০ একর জমিতে পার্ক নির্মাণের জন্য জুলফিয়া ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সঙ্গে ইজারা চুক্তিনামা দলিল করে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রক্রিয়ায় কোনো টেন্ডার ছাড়াই চুক্তিবদ্ধ হওয়াটিও একটি বড় অনিয়ম। এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মালিক হলেন মেয়র আইভীর আপন মামাতো ভাই রেজাউল ইসলাম রনি ও তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সার্ভেয়ার সামসুল ইসলাম (বর্তমানে তিনি ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনের সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা)। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নকশাকারক অরুন মোল্লাও একই কায়দায় ওই চুক্তিতে নিজের স্ত্রী কানিজ ফাতেমার নাম ব্যবহার করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের পর্যালোচনায় উল্লেখ করে, ‘জুলফিয়া ইন্টারন্যাশনালের দুই মহিলা পরিচালক সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনকালে স্বামীর তথ্য গোপন করে পিতার নাম ব্যবহার করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেননি। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা বা তাদের স্ত্রীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অংশীদার হতে পারেন না। ’ তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে তাদের মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ‘পার্ক নির্মাণের সঙ্গে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ত্রীদের স্বামীর নাম গোপন করে পিতার নাম ব্যবহার করে লিজ চুক্তি সম্পাদন সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত। ’ অপরদিকে ৬ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও ওই পার্কের কাছ থেকে বার্ষিক ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা ভাড়া হিসেবে প্রায় ৪০ লাখ টাকা জমা হয়নি সিটি করপোরেশনের কোষাগারে। তাছাড়া পার্কের প্রবেশ মূল্যসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে নির্দিষ্ট হারে ট্যাক্স দেওয়ার কথা থাকলেও সেটিও দেওয়া হয়নি। অথচ পার্কের মালিকপক্ষ দাবি করছেন, এই টাকা তারা পরিশোধ করেছেন পার্কের পরিচালক ও মেয়র আইভীর ভাই রেজাউল ইসলাম রনির কাছে। পাশাপাশি পার্কের চেয়ারম্যান লিখিতভাবে দুদক ও স্থানীয় সরকার সচিবের কাছেও জানিয়েছেন, কীভাবে পার্কের জন্য জমি দেওয়ার শর্তে চাপ দিয়ে কোনো মূলধন ছাড়াই মেয়র আইভীর ভাই রেজাউল ইসলাম রনি, সাবেক পৌরসভার দুই কর্মকর্তার স্ত্রীকে পরিচালক বানানো হয়েছিল।

প্রায় ৫০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে আস্থাভাজন ও বহুল সমালোচিত একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও রেল মন্ত্রণালয়ের বিশাল দুটি সম্পত্তি আয়ত্তে নিতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকলেও বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট বা তার পরিবারের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি নাসিক। শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ে বন্দরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সোনাকান্দা মাঠে একটি ইকো পার্ক করতে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় ৩০ কোটি টাকার টেন্ডার দেয় নাসিক। ওই টেন্ডারের সব কাজই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দখলে নিয়েছেন মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার আবু সুফিয়ান। ওই বিশাল মাঠটি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি হলেও নাসিক জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি বা পার্ক তৈরির ব্যাপারে কোনো অবগতিপত্রও দেয়নি। জানা গেছে, ওই পার্কটির নাম প্রথমে সোনাকান্দা ইকোপার্ক নির্ধারণ করার কথা থাকলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিক বাধা আসার পরপরই সেটি বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের নামে শেখ রাসেল ইকো পার্ক নামকরণ করেই টেন্ডার দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী সোনাকান্দা হাট ও মাঠের জায়গায় পার্ক নির্মাণের ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভ জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। অপরদিকে নগরীর জিমখানা এলাকায় রেলওয়ের বিশাল লেক ও লেক সংলগ্ন বস্তি দখল করতে সেখানেও একটি পার্ক নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই কোটি টাকার টেন্ডার দিয়েছেন মেয়র আইভী। তাও গেছে তার প্রিয় আস্থাভাজন আবু সুফিয়ানের কাছে। বিশাল ওই সম্পত্তি রেল মন্ত্রণালয়ের হলেও রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। উল্টো রেলওয়ের কর্মকর্তারা ওই পার্কের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে কাগজপত্র দেখতে চাইলে চিহ্নিত বিএনপির ক্যাডাররা তাদের ওপর চড়াও হয়। জিমখানায় গড়ে ওঠা বস্তির প্রায় ১ হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে সেখান থেকে উঠে যেতেও বলা হয়েছে নাসিকের পক্ষ থেকে। স্থানীয়রা জানান, জিমখানার লেকটি প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মাহমুদের নামে নামকরণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। কিন্তু মেয়র আইভী ওই লেকটি তার প্রয়াত পিতা সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহমদ চুনকার নামে নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেখানে ওই নামের পার্ক করতে একটি সাইনবোর্ডও লাগানো হয়। কিন্তু আলী আহমদ চুনকা লেক কার্যক্রম বস্তিবাসীর বাধার মুখে পড়লে নতুন নাম প্রকাশ পায়। জিমখানায় রেলওয়ের ভূমিতে ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে চুনকা লেকের পরিবর্তে বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পার্কের নাম প্রকাশ পায় এবং ওই নামেই টেন্ডার দেওয়া হয়। অথচ এ ব্যাপারে রেলওয়েকে কোনো কিছু জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি নাসিক। মূলত বেগম ফজিলাতুন নেছার নামে পার্ক করার পেছনে ওই বিশাল সম্পত্তি দখল করার পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

সাবেক পৌরসভা থেকে বর্তমান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন আমল পর্যন্ত নাসিকের নিজস্ব দোকান ও ফ্ল্যাট নিয়ে হরিলুট চালানো হয়েছে। সাবেক পৌরসভা আমল থেকে নির্মিত বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে দোকান বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে জাতীয় সংসদকে দেওয়া সিটি করপোরেশনের তথ্যপত্রে কমপক্ষে শতাধিক ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে যাদের কোনো ঠিকানা নেই এবং বেশ কিছুর ঠিকানা থাকলেও অসম্পূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, এসব নামে-বেনামে দোকান-ফ্ল্যাট বরাদ্দের নামে হরিলুট চালানো হয়েছে এবং সংরক্ষিত কোটার নামে নামমাত্র মূল্যে বহু দোকান ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার নজির পাওয়া গেছে। বিশেষ করে মেয়রের নিজস্ব সংরক্ষিত কোটার পাশাপাশি নামে-বেনামে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা মূল্যের দোকান ও ফ্ল্যাট আত্মসাৎ করেছে সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মূল হচ্ছেন মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ঠিকাদার আবু সুফিয়ান এবং সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি পরিদর্শক আলমগীর হোসেন হিরণ। শুধু আবু সুফিয়ান পরিবারের নামেই রয়েছে ৫ কোটি টাকা সমমূল্যের ১০টি দোকান। পাশাপাশি স্যানিটারি পরিদর্শক আলমগীর হিরণের স্ত্রীসহ নামে-বেনামে রয়েছে কমপক্ষে ১০ দোকান ও থানার পুকুরপাড়, টানবাজার এলাকায় নাসিকের নিজস্ব আবাসিক ভবনে রয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা আমল থেকে এ পর্যন্ত থানার পুকুরপাড়ের পদ্ম পৌর প্লাজা, চাষাঢ়া মাধবী পৌর প্লাজা, দ্বিগুবাবুর বাজার আধুনিক পৌর মার্কেট, খানপুর ধর্মতলা পৌর মার্কেট, খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে পৌর মার্কেট, চাষাঢ়া পৌর মার্কেট, পঞ্চবটী ট্রাক টার্মিনালের মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে বাজারদর অনুযায়ী ১ কোটি টাকা সমমূল্যের প্রায় দেড় শতাধিক দোকান নামমাত্র মূল্যে (৫-৭ লাখ টাকায়) বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে, নামে-বেনামে হরিলুট চালিয়ে স্বল্প মূল্যে, বিনা টেন্ডারে নেওয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow