Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪০
জাল সনদের তথ্য দিচ্ছে না শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ
দফায় দফায় চিঠি মন্ত্রণালয়ের
আকতারুজ্জামান

শতাধিক সন্দেহজনক জাল সনদ শনাক্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কোনো সহায়তাই করছে না শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রায় এক বছর ধরে চিঠি চালাচালি চললেও সনদের সত্যতা সম্পর্কে কোনো জবাব মেলেনি এ সংস্থার পক্ষ থেকে।

ফলে জাল সনদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারছে না মন্ত্রণালয়। শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে জাল সনদধারীকে শনাক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জাল সনদ ধরতে ২০১৩ সাল থেকে মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর জোরেশোরে মাঠে নামে। বিভিন্ন শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই জাল সনদের অভিযোগ ওঠে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সনদ প্রদানকারী সংস্থার (শিক্ষা বোর্ড/ বিশ্ববিদ্যালয়/ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান) কাছে এই সনদের সত্যতা সম্পর্কে  জানতে চায়। প্রদানকারী সংস্থা সনদগুলো যাচাইবাছাই শেষে অসত্য আখ্যা দিলে সনদগুলো জাল বলে প্রমাণিত হয়। পরে জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ বিভিন্ন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, জাল সনদের মধ্যে শিক্ষক নিবন্ধন সনদের সংখ্যাই বেশি। সম্প্রতি ১০৫ সন্দেহভাজন শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য দফায় দফায় চিঠি পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। এসব শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন— দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোসাম্মৎ রুবিনা বেগম (রেজি নং- ৯০০০১৪৯০/২০০৯), মো. এরশাদ আলী (রেজি- ৯০০০৩৪০০/২০০৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জে গোমস্তাপুরে আলীনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. নারুল ইসলাম (রেজি- ৭০০৫৭০৯/২০০৭), নাটোরের সিংড়ায় বাদোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেল আহমেদ (রেজি- ৮০০০৪৩৯২/২০০৮), গাইবান্ধায় সাঘাটা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. কফিল উদ্দীন সরকার (রেজি- ৯০০০৫২২৫/২০০৯)-সহ আরও অনেক শিক্ষক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুবিনা বেগম ও এরশাদ আলীর নিবন্ধন সনদের সত্যতা জানতে চেয়ে দশবার চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নারুল ইসলাম, রাসেল আহমেদ, কফিল উদ্দিনের সনদ যাচাই চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে ৯ বার, ৮ বার ও ৭ বার। একইভাবে নাটোরের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রভাষক আবদুল খালেক (রেজি-৬৪০৮৭৯৬/২০০৬), প্রভাষক মাসুদ আহমেদ (রেজি- ৬৪০৮৯৯৩/২০০৬), মোছা. তাবাসসুম শাহনাজ আজমীর (রেজি-৭০১০৬০৩/২০০৭) নিবন্ধন সনদ যাচাই চেয়ে ৭ দফায় চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এসব কোনো চিঠিরই জবাব দেয়নি এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রের অভিযোগ, গত ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত এনটিআরসিএর একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করেছে। এ জন্যই মন্ত্রণালয় দফায় দফায় এই সন্দেহজনক সনদের ব্যাপারে তথ্য চাইলেও তারা কোনো তথ্য সরবরাহ করছে না। এ ব্যাপারে কথা বলতে গিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম আজহারের কাছে এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে দফায় দফায় মোবাইলে ফোন কল ও মেসেজ দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক আহাম্মেদ সাজ্জাদ রশীদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাব না পাওয়ায় আমরা এসব জাল সনদের ব্যাপারে কোনো রিপোর্ট করতে পারছি না। এসব জাল সনদধারী অসাধু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তারা একেবারেই তথ্য দিচ্ছে না বিষয়টা এমন নয়। সন্দেহজনক সনদের সংখ্যা বেশি হওয়াতেই হয়তো এটি বিলম্বিত হচ্ছে। আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি তাদের কাছ থেকে দ্রুতই ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow