Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৯
অভিমানে আত্মহত্যা করল মেয়েটি
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুর শহরে ফাতেমা জান্নাত ঝিলিক (১৯) নামের এক কলেজছাত্রী রবিবার সন্ধ্যায় আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধারকালে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে।

তাতে তার মৃত্যুর জন্য তিনি প্রেমিকের ফুফু হীরা খাতুনকে দায়ী করেছেন। পুলিশ হীরা খাতুনকে আটক করেছে। ঝিলিক মেহেরপুর শহরের মণ্ডলপাড়ার সোহেল রানা ঝন্টুর মেয়ে। তিনি এবার মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঝিলিকের সঙ্গে একই মণ্ডলপাড়ার নিলয় নামের এক কলেজছাত্রের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নিলয়ের পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে না নিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পারিবারিক ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। নিজ বাড়ির পাশের নানার বসতবাড়ির ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ঝিলিক। বাড়ির লোকেরা তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি দল লাশ ও সুইসাইড নোট উদ্ধার করে। রাতেই ঝিলিকের পিতা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেছেন। নিহতের মা পারুল খাতুন ও পরিবারের অভিযোগ, মণ্ডলপাড়ার মাসুদ হোসেনের ছেলে মেহেরপুর সরকারি কলেজের ছাত্র নিলয় হোসেনের সঙ্গে ঝিলিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি তারা জানতেন না। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি নিলয়ের পরিবার। এর জেরে শনিবার দুপুরে নিলয়ের ফুফু হীরা খাতুন আসেন ঝিলিকের কাছে এবং নিলয়ের মোবাইল থেকে কোনো মোবাইল ফোন এসেছে কিনা জোরপূর্বক মোবাইল ফোন সেট নিয়ে পরীক্ষা করতে চান। মোবাইল না দেখানোকে কেন্দ্র করে নানাভাবে ঝিলিক ও তার পরিবারের সদস্যদের সাবধান করেন। একপর্যায়ে ঝিলিককে চড়-থাপড় মারেন। নিলয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে এর চেয়েও বড় পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেন হীরা। সুইসাইড নোটে ঝিলিক লিখেছেন— ‘আমার প্রেমের কারণে মারধরে পরিবারের মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে, আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, আমার মৃত্যুর জন্য হীরা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা দায়ী। ’ মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, সুইসাইড নোট ও পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হীরা খাতুনকে আটক করা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow