Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২০
বড় প্রকল্পে কর্তৃত্ব চায় বিশ্বব্যাংক
সমীক্ষা পরামর্শক নিয়োগ অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করতে চায় এককভাবে
মানিক মুনতাসির

অবকাঠামো খাতের বৃহৎ প্রকল্পে অর্থায়ন ও সে প্রকল্প বাস্তবায়নে একক কর্তৃত্ব চায় বিশ্বব্যাংক। এ ক্ষেত্রে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণের মতো ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিলে সেখানে এককভাবে অর্থায়ন করতে আগ্রহ দেখিয়েছে সংস্থাটি।

শুধু তাই নয়, এ ধরনের প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রাথমিক সমীক্ষা, পরামর্শক নিয়োগ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এককভাবে অর্থায়ন ও কর্তৃত্ব নিতে আগ্রহী বিশ্বব্যাংক। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত ৬ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পৃথক বৈঠক হয়েছে। সেখানে মেট্রোরেল লাইন-৪ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে কথা হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক প্রধানের ঢাকা আসার কথা রয়েছে। সে সময় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে অর্থমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ (বাংলাদেশ কার্যালয়) ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঢাকা কার্যালয়ে এই মুহূর্তে এ ধরনের খবর নেই। তবে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতর থেকে এ ধরনের পরিকল্পনা থাকতেই পারে। জানা গেছে, দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে ২০১১ সালে সরে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাংক। ওই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ১২০ কোটি ডলার। এদিকে ঢাকায় বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল লাইন-৬ এর পুরো অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন করছে রাশিয়া। মেট্রোরেল লাইন-৫, ২, ৪ এর প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে জাইকা। এর যে কোনোটিতে অর্থায়ন করতে চায় বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া পদ্মা দ্বিতীয় সেতুতেও বিশ্বব্যাংক এবং চীন উভয়েই এককভাবে অর্থায়ন করতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় বিশ্বব্যাংক এখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জাতিসংঘ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেতে পারে। আর মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে বাংলাদেশের অনুদান ও সহায়তা কমে আসবে। তখন হয়তো ঋণের চাহিদা আরও বাড়বে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্রিক, এডিবি, আইএমএফকে টপকে নিজেদের অর্থায়ন বাড়াতে চায় বিশ্বব্যাংক। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের স্বীকৃতি পেলে সব ধরনের বৈদেশিক ঋণের সুদহারও বেড়ে যাবে নিয়ম অনুযায়ী। এতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রকল্পে বা বিনিয়োগ তাদের জন্য আরও লাভজনক হবে। ফলে এ ধরনের সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় বিশ্বব্যাংক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow