Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২১
১০ টাকার চালে চলছেই হরেক রকম চালবাজি
প্রতিদিন ডেস্ক
১০ টাকার চালে চলছেই হরেক রকম চালবাজি

গরিববান্ধব ১০ টাকা কেজির সরকারি চাল নিয়ে হরেক রকম চালবাজি চলছেই। কোথাও ওজনে কম দেওয়া, গরিবদের বাদ দিয়ে বিতরণ করা, কোথাও মৃতব্যক্তিদের তালিকাভুক্তি করে চাল চুরির কারবার চালানো হচ্ছে।

প্রভাবশালী এবং তাদের অনুগত ডিলাররা বেপরোয়াভাবে এরকম অপতত্পরতা চালাচ্ছেন। এমনকি অভিযোগ, বিক্ষোভ সত্ত্বেও এ বিষয়ে দায়িত্বশীলদের টনক নড়ছে না। এসব বিষয়ে বিভিন্নস্থান থেকে নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আধা কেজি করে কম : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সরকার ঘোষিত ১০ টাকা দরের চাল বিক্রির সময় কেজিপ্রতি আধা কেজি করে কম দিচ্ছেন শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ও মনকষা ইউনিয়নের ডিলাররা। তবে তার বদলে ৫ টাকা করে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, এভাবে চাল জমিয়ে তা বেশি দামে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। বিনোদপুর ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে আরও দেখা গেছে, চাল বিতরণের নামের তালিকায় রয়েছে একই ব্যক্তির নামে একাধিক ও এক পরিবারে একাধিক সদস্যের নামে কার্ড। চেয়ারম্যান ও আনসার ভিডিপির দেওয়া নামের তালিকা থেকে হতদরিদ্রদের নাম বাদ দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন আনসার-ভিডিপি দলনেতা আবদুস সালাম জানান, তিনি নিয়মানুযায়ী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জন্য ২৪৭ জনের নামের তালিকা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ৬৭ জনের নাম বাদ দিয়ে তালিকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ কেজির স্থলে আধা কেজি করে চাল কম দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট ডিলার। বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই তালিকা করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এলাকার হতদরিদ্র ৫০০ জনের নামের তালিকা দিলেও তাদের অনেককে চাল দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। বিতরণে নামের তালিকাও ঠিক নেই। বিতরণ ডিলার নিজে তালিকা করে ইচ্ছেমতো চাল বিতরণ করছেন। ’ এ ব্যাপারে জানার জন্য গতকাল ডিলার মালিক সাবেক ওয়ার্ড সদস্য খাইরুল ইসলামের কাছে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে মনাকষা ইউনিয়নেও চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা অমল চন্দ্র সরকার জানান, যদি বিনোদপুরের ডিলার খাইরুল ইসলাম আধা কেজি চাল কম দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাল পেল বিএনপি-জামায়াতের সচ্ছলরা : দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরের চাল পাওয়াদের তালিকায় নাম উঠেছে জামায়াত-শিবিরের বিত্তবানদের। তবে তালিকায় স্থান পায়নি আওয়ামী লীগ সমর্থিত হতদরিদ্র ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অতিদরিদ্ররা। এ ব্যাপারে গতকাল দুই সদস্যের তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার হতদরিদ্ররা বিএনপি-জামায়াত নেতা কর্মীদেরকে ১০ টাকা কেজি চালের রেশন কার্ড দেওয়ার অভিযোগ এনে গত ১০ অক্টোবর বিরামপুরের কাটলা ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন, সচিব মশিউর রহমান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক পৃথক আবেদন করেছেন। বিরামপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হেনা মোস্তাফা জানিয়েছেন, দুটি আবেদনপত্রের বিষয়েই স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন।

এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১০ টাকা কেজির চাল পাওয়ার কার্ড পেয়েছেন ২ নম্বর কাটলা ইউনিয়নের যে আফজাল হোসেন (ক্রমিক নং ২১৬), তার ৬ বিঘা জমি ও পাকা বাড়ি রয়েছে। একইভাবে ৭২৫ ক্রমিকের মমিনুর রহমানের ছেলে পুলিশের চাকরি করছেন। ৭২৬ ক্রমিকের এন্তাজ আলির ৮ বিঘা জমি রয়েছে এবং ছেলেও বিদেশে চাকরি করছে। ৫৭ ক্রমিকে রয়েছেন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মমতাজ আলি। তার দুই ছেলে সোহেল ও শামীমও কার্ড পেয়েছেন, যার ক্রমিক নম্বর যথাক্রমে ৭৯ ও ৫০। আরও কার্ড পেয়েছেন তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলি ক্রমিক নম্বর ৪৯, ভাই আক্কাস আলি ক্রমিক ৫৪সহ একই পরিবারে সাতজন। ক্রমিক নম্বর ৫৮-তে রয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ, যার ১০ বিঘা আবাদি জমি ও ইটের পাকা বাড়ি রয়েছে। ক্রমিক নম্বর ২০৬-তে রয়েছেন ইউনিয়ন জামায়াতের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আক্তার আলি, যার ৬ বিঘা ফসলি জমি ও পাকা বাড়ি রয়েছে। ক্রমিক নম্বর ২৮০-এর আছির উদ্দিন ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তার পাকা বাড়িসহ ফসলি জমি রয়েছে ১০ বিঘা। ক্রমিক নম্বর ২১০-এর আজাবুল ইসলাম ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সাধারণ সম্পাদক, তার ৭ বিঘা ফসলি জমি ও ইটের পাকা বাড়ি রয়েছে। ক্রমিক নম্বর ৬১-এর শাহিন আলমের আবাদি জমি ৭-৮ বিঘা ও পাকা বাড়ি রয়েছে। ক্রমিক ৬৩-এ মোস্তফার ৫ বিঘা জমি ও পাকা বাড়ি রয়েছে। ক্রমিক নম্বর ৮৭৩-এর সাহারা বানু বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জামাল উদ্দিনের স্ত্রী, তাদের ফসলি জমির পরিমাণ ৯ বিঘা ও ইটের পাকা বাড়ি রয়েছে। ক্রমিক নম্বর ২৪৭-এর মতিয়ার রহমান ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, তার ৪ বিঘা জমি ও পাকা বাড়ি রয়েছে। ক্রমিক নম্বর ২৪০-এর নূর আলমের ফসলি জমি ১২ বিঘা ও পাকা বাড়ি রয়েছে। এ ধরনের অনেক অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের ব্যাপারে কাটলা ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, নির্বাচনের সময় ইউপি সচিব মশিউর রহমান ও গ্রাম পুলিশ তালিকা করেছে। ওই তালিকার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। এখন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১০ টাকা কেজি চালের রেশন কার্ড তালিকা সংশোনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তালিকা সংশোধন করে স্বচ্ছ তালিকা দেওয়া হবে।

তালিকায় মৃত ব্যক্তি : সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে অভিনব চালবাজি ধরা পড়েছে। জানা গেছে, উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের এক হাজার দুস্থর তালিকা তৈরি করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেন। তালিকা অনুযায়ী এক হাজার কার্ড তৈরি হয়। চাল বিতরণের জন্য দুজন ডিলার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু চাল দেওয়ার সময় ডিলার ফেরদৌস বেগমের কাছে দেওয়া তালিকায় চারজন মৃত ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে চেয়ারম্যান শুরু করেন নানা ফন্দিবাজি। নিজেকে বাঁচাতে তার পক্ষের ৭০-৮০ জন হতদরিদ্রকে ডিলারের কাছ থেকে চাল নিতে বাধা দেন। আবার কিছু সুবিধাভোগীকে চেয়ারম্যান কৌশল অবলম্বন করে আরেক ডিলার আইয়ুব আলী ফরিদের কাছ থেকে চাল নেওয়ান। উদ্যোগ নিয়ে তিনিই ডিলার ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করান। অভিযোগ দেওয়ান বিভিন্ন দফতরে। এরপর শুরু হয় নানান জটিলতা। এসব কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসীর অনুকূলে চাল বরাদ্দ বন্ধ রাখেন। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার ৫০০ কার্ডধারী হতদরিদ্র নারী-পুরুষ চলতি মাসের চালের জন্য ডিলারের দোকানে ভিড় জমান। একপর্যায়ে কার্ড নিয়ে চেয়ারম্যানের চালবাজির বিরুদ্ধে তারা বিক্ষোভ করেন ও অবিলম্বে চাল বরাদ্দের দাবি জানান। ডিলার ফেরদৌসী আরার ম্যানেজার মিঠুন জানান, খাদ্য অফিস থেকে সরবরাহ করা তালিকায় শুকুর আলী, মোহাম্মদ, শহিদুল ও সাইফুল নামে চারজন মৃতব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। সুবিধাভোগী আবদুল খালেক বলেন, ‘আমরা ডিলার আইয়ুব আলী ফরিদের কাছ থেকে চাল নিয়েছি। কিন্তু পরে জানতে পারি আমাদের তালিকা ডিলার ফেরদৌসীর কাছে। তখন বুঝলাম ফেরদৌসী বেগমকে ফাঁসানোর জন্যই চেয়ারম্যান এ কাজ করেছেন। ’ এ সময় মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, ‘ভিজিএফর চাল দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান আমাদের ডেকে নিয়ে ডিলার ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করাইছে। ’ এ বিষয়ে ডিলার আইয়ুব আলী ফরিদ বলেন, ‘তালিকায় একটি ওয়ার্ডের দরিদ্রদের নাম বাদ পড়েছিল। পরে চেয়ারম্যান সুপারিশ করে কয়েকজনকে চাল নিয়ে দেন। কিন্তু পরে জানলাম আরেক ডিলার ফেরদৌসী বেগমকে ফাঁসানোর জন্যই চালগুলো নিয়ে ফেরদৌসীর তালিকার সুবিধাভোগীদের দিয়েছে। ’ এ বিষয়ে ডিলার ফেরদৌসী বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিরোধ ছিল। এ ছাড়াও সে আমার কাছে একশটি সাদা কার্ড চেয়েছিল। কিন্তু দেওয়া হয়নি। তাছাড়া তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নামের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। আর এসব কারণেই নিজেকে বাঁচাতে এবং আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে ফাঁসানোর জন্য তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। চাল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন সুবিধাভোগীরা এসে দোকানের সামনে ভিড় করছে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও করছে। ’ এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ সেখ বলেন, ‘আমি কোনো তালিকা করিনি। শুধু স্বাক্ষর করেছি। ’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দ্বীপ কুমার বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির পাশাপাশি কিছু ভুয়া লোকের নাম তালিকায় রয়েছে। এ জন্য চালের ডিও বন্ধ রয়েছে। তদন্তের পর বিষয়টির সুরাহা করা হবে। ’

প্রভাবশালীদের দরিদ্রের অভিনয় : ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে গরিব, ফকির ও দিনমজুর শ্রেণির অভিনয় করছেন প্রভাবশালীরা। কারণ তাদের নামেই ১০ টাকা কেজির চাল পাওয়ার রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর গান্না বাজারের ডিলার গৌতম অধিকারীর কাছে যারা ১০ টাকা কেজি দরের চাল নিয়েছেন তাদের বেশির ভাগ অর্থশালী। যেমন চান্দেরপোল গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম রাজা ও তার স্ত্রী মুসলিমা খাতুন দুজনই চাকরিজীবী। রেজাউল কালুহাটী স্কুলের শিক্ষক। অথচ তাকে ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড দেওয়া হয়েছে। দহিজুড়ি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে লিয়াকত আলীর দুইতলা মার্কেট রয়েছে গান্না বাজারে। পোড়া এলাকার সচ্ছল পরিবার হিসেবে বেতাই গ্রামের হুজুর আলী, কাশিমপুরের আলমগীর ডাক্তার ও চান্দেরপোলের রবিউল ইসলাম রবি ড্রাইভারকে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাঠে যাদের প্রচুর জমি আছে তারাই এই কার্ডের সুফলভোগী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বমূলক কার্ড বাতিলের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ গান্না ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গবির ও ফকিরদের যারা কার্ড থেকে বঞ্চিত করেছেন তাদের বিচার হওয়া উচিত। ’ এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। গান্না ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ময়নাল হোসেন বলেন, ‘এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আগে দেখিনি। যাদের বিলাসবহুল মার্কেট রয়েছে, আর্থিকভাবে সচ্ছল— তারা কীভাবে কার্ড পায়?’ অবিলম্বে তিনি এসব কার্ড বাতিলের দাবি জানান। এ ব্যাপারে গান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন মালিথা বলেন, ‘যারা বাদ পড়েছেন তাদের ইচ্ছা করেই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। তাদের বিষয় অন্যভাবে সমাধান করা হবে। ’ এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘এ পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ও ঘটনাটি সঠিক হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’

ডিলারদের খামখেয়ালি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে ৭২৪টি হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পারেননি। তালিকায় নাম থাকার পরও ডিলারদের গাফিলতির কারণে তারা চাল কিনতে পারেননি। উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের ৭২৪টি হতদরিদ্র পরিবারকে এই চাল দেওয়ার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় দুজন ডিলার নিয়োগ দেয়। এরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক ও সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কবির আহমেদ। জিয়াউল হকের ৩৭৪টি পরিবার ও কবির আহমেদের ৩৫০টি হতদরিদ্র পরিবারকে চাল দেওয়ার কথা। সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম জানান, তালিকা অনুসারে খিরাতলা গ্রামের ৫০ জন, শ্রীপুরের ১০০ জন ও কাঞ্চনপুরের ৫০ জন হতদরিদ্র মানুষ চাল পায়নি। সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের খিরাতলা গ্রামের কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর চাল বিতরণের শেষ দিনে তালিকায় নাম থাকার পরও কেউ চাল পায়নি। ডিলার জিয়াউল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বরাদ্দের তুলনায় গরিব লোকের সংখ্যা বেশি। সবাইকে চাল দিচ্ছি। ’ ডিলার কবির আহমেদ দাবি করেন, খিরাতলা গ্রামের মাত্র ২৫ জনের জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী চাল দেওয়া হচ্ছে। বিজয়নগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খিরাতলা, শ্রীপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে হতদরিদ্ররা চাল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পেয়েছি। যারা চাল পাননি তাদের চাল দেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow