Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৭
কৃষি সংবাদ
সমৃদ্ধির গ্রাম কমলপুর
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
সমৃদ্ধির গ্রাম কমলপুর

কমলপুর। কুমিল্লা সদর উপজেলার একটি ছোট গ্রাম।

গ্রামের রাস্তায় চলতে গিয়ে চোখে পড়বে নানা রঙের প্রদর্শনী। লাল, সবুজ, হলুদ বিভিন্ন রঙের কাপড় শুকানো হচ্ছে। কাপড়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন রঙের ডিজাইন। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে বাটিকের (ডিজাইন) সালোয়ার-কামিজ, লুঙ্গি, শাড়ি, বেডশিট তৈরি করা হচ্ছে। ১৫টি কারখানায় এ কাজে জড়িত ৫ শতাধিক শ্রমিক। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ নারী শ্রমিক। তাদের আয়ে সচ্ছলতা এসেছে পরিবারগুলোতে। কমলপুরের পাশের আনন্দপুর ও গলিয়ারায়ও কয়েকটি কারখানা গড়ে উঠেছে। গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কেউ কাপড়ে ব্লক দিচ্ছেন, কেউ রঙের পানিতে কাপড় ভেজাচ্ছেন। কেউ কাপড় শুকাচ্ছেন। শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম ও সালমা বেগম বলেন, গ্রামের কারখানায় কাজ হওয়ায় বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে এসে কাজ করছেন। এখানে বাটিক কাপড়ের কারখানায় কাজ করে তারা পরিবার চালাচ্ছেন। খাদি আহমদিয়ার আবুল কালাম আজাদ ও মা-মণি ডাইংয়ের মালিক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমরা বংশপরম্পরায় এ ব্যবসা করছি। বাইরে থেকে কাপড় কিনে তার ওপর ডিজাইন ও রং করে বিক্রি করি। কুমিল্লার বাটিক লুঙ্গির সুনাম দেশজোড়া। বিভিন্ন কোম্পানি এখানে অর্ডার দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়। প্রচার পেলে আমাদের আয় আরও বাড়ত। আরও বেশি শ্রমিকের কাজের সুযোগ হতো। সরকার থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেলে ব্যবসা আরও বড় করা যাবে। এ ছাড়া এখানে কাপড় বিক্রির একটি বাজার সৃষ্টিরও চেষ্টা করছেন বলে তারা জানান। এ কাপড় কুমিল্লা নগরী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে বিক্রি হয়। মধ্যপ্রাচ্যেও যাচ্ছে কমলপুরের কাপড়। কুমিল্লা নগরীর খাদি কাপড়ের ব্যবসায়ী খাদিঘরের প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, কুমিল্লার খাদি ব্যবসায় সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন কমলপুরের ব্যবসায়ীরা। দিন দিন তাদের ব্যবসা প্রসার লাভ করছে। সৃজনশীল কাজ করলে তাদের ব্যবসা আরও দ্রুত বাড়বে। স্থানীয় জগন্নাথপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, কমলপুর গ্রামে বেকারত্বের সংখ্যা কম। এখানে যেন আরও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। কুমিল্লা সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম টুটুল বলেন, কমলপুরের বাটিক শিল্প কুমিল্লার ঐতিহ্য। এ শিল্পকে প্রতিষ্ঠিত করতে বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।

up-arrow