Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৬
পাঁচ কারণে মিলছে না স্মার্টকার্ড
প্রতিবন্ধীদের কার্ড দেওয়া নিয়ে জটিলতা
গোলাম রাব্বানী

পাঁচ কারণে মিলছে না উন্নত জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড)। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে, চোখের আইরিশের ছবি, দশ আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে স্মার্টকার্ড না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন অনেক নাগরিক।

এক্ষেত্রে পরবর্তীতে কবে, কোথায়, স্মার্টকার্ড পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। চলমান স্মার্টকার্ড বিতরণের পাইলট প্রজেক্টে কয়েকদিন সরেজমিন ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কার্ড বিতরণ নিয়েও দেখা দিয়েছে জটিলতা। বিশেষ করে অন্ধ ব্যক্তিদের আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হলেও কার্ড দেওয়া হচ্ছে না। পরে তাদের দেওয়া হবে বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে স্মার্টকার্ড না পাওয়ার পেছনে মূলত পাঁচ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইসির সার্ভারে নাগরিকের তথ্যে ভুল থাকা, আঙ্গুলের ছাপ না মেলা, সার্ভারে ছবি অস্পষ্ট থাকা, কারিগরি ত্রুটি, ভোটারের ঠিকানা স্থানান্তর ও কার্ড সংশোধন করা। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ক্যাম্পে আমিদাবাদ কলোনি, ইস্টার্ন হাউজিং অ্যাপার্টমেন্ট, পশ্চিম মালিবাগ ও মিন্টোরোডের ভোটারদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রমনা থানার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ক্যাম্পে স্মার্টকার্ড বিতরণ করছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে এসে কেউ সহজে স্মার্টকার্ড পেলেও আব?ার কেউ শিকার হচ্ছেন চরম ভোগান্তির। নির্ধারিত লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন সংগ্রহ করছেন নাগরিকরা। এরপর কক্ষের ভিতরে নির্ধারিত বুথের সামনে উপস্থিত হলে ভোটারদের ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি দিয়ে পুরনো কার্ড জমা দিতে হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে কেউ সহজে পেয়ে যাচ্ছেন তার স্মার্টকার্ড, আবার সার্ভারে যথাযথ তথ্য না থাকায় বহুজনকে কার্ড না নিয়েই ফেরত যেতে হচ্ছে। স্মার্টকার্ড না পেয়ে খালি হাতে চলে যেতে হয় ইস্টার্ন হাউজিং অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা আজহার আলীকে। তিনি বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন নিয়ে স্মার্টকার্ড নিতে গেলে তারা আমার ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেন। এরপর অপারেটররা জানান, আমার কার্ডের তথ্য সার্ভারে না থাকায় আপাতত স্মার্টকার্ড পাচ্ছি না। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের একজন ভোটার (আইডি নম্বর হচ্ছে ১৯৬৫২৬৯৯৫০১৯৩৯৩৯৪) অভিযোগ করেন তার পরিবারের অন্য সদস্যদের স্মার্টকার্ড পাওয়া গেলেও তার স্মার্টকার্ড পাওয়া যাচ্ছে না। বলা হচ্ছে—কার্ড এখনো প্রিন্ট হয়নি। কেন প্রিন্ট হয়নি, কবে নাগাদ কার্ড পাওয়া যাবে তাও বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। শুধু এই ভোটার নয় এমন অসংখ্য ভোটার রয়েছেন যাদের কার্ড পাওয়ার বিষয়ে সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারছেন না ইসির কর্মকর্তারা। এসব বিষয়ে স্মার্টকার্ড সরবরাহ বুথে কার্ড সরবরাহের কাজে নিয়োজিত কমিশনের ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা জানান, কার্ড নিতে এসে কিছু সমস্যা হচ্ছে, অনেকের  ক্ষেত্রে সার্ভারে তাদের যথোপযুক্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। যারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করেছিলেন সাধারণত তাদের বেলায় এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাদের স্মার্টকার্ড দেওয়া হচ্ছে না। তাদের মোবাইল নম্বর রেখে চলে যেতে বলা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান করে তাদের ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রচারণা কম থাকায় স্মার্টকার্ড কম বিলি হচ্ছে  : ঢাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে সাড়ে ৩৫ হাজার ভোটারের মধ্যে মাত্র অর্ধেক কার্ড বিলি হয়েছে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় ‘টার্গেটের’ অর্ধেক নাগরিকের হাতেও স্মার্টকার্ড পৌঁছেনি বলে মনে করছেন ইসির কর্মকর্তারা। খোদ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বেশ আয়োজন নিয়ে বিতরণে নামলেও মাঠ পর্যায়ে ‘সমন্বয়হীনতা ও প্রচারণার অভাবে’ পরীক্ষামূলক কাজে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে না। বিতরণের কাজের তদারকি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের হাতে থাকলেও ইসির এনআইডি উইংয়ের আইডিইএ প্রকল্পের লোকজন প্রচারণার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করেনি। এমনকি মাঠকর্মকর্তাদের বরাদ্দের টাকাও এখনো দেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় সার্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় পরিসরে বিতরণে যাওয়ার আগে পুরো কার্যক্রম ঢেলে সাজানোর সুপারিশ করছে সংশ্লিষ্টরা। গত ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্টকার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ৩ অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই ভাগে ও কুড়িগ্রামে বিতরণ শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্মার্টকার্ডের প্রচারের জন্য প্রকল্প থেকে বিশাল বাজেট রয়েছে। অথচ এখনো পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো বরাদ্দ যায়নি মাঠপর্যায়ে। বরং ইসি কর্মকর্তারা নিজেদের উদ্যোগেই প্রচারের কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে; সার্বিক বিষয়ে পুরো কাজে সমন্বয়হীনতা চলছে। বিতরণের বিষয়ে উত্তরা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা  মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, আমরা পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্ড বিতরণ করছি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার জন্য। আগামীতে এমন সমস্যা থাকবে না।

up-arrow