Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৪
ভাঙল বাউল মেলা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
ভাঙল বাউল মেলা

সোমবার মধ্য রাতে সমাপনী আলোচনা সভা ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়া বাড়িতে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসব। ভেঙে গেছে বাউল সাধু গুরুদের মিলন মেলা।

বাউল সাধক সাধু গুরুদের বেশির ভাগই আখড়া বাড়ি ছেড়ে গেছেন। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যায় এ উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

বাংলা ১২৯৭ সালের পহেলা কার্তিক সাধক পুরুষ লালন সাঁই মারা যান। এরপর থেকে লালনের অনুসারীরা প্রতি বছর ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এদিনটি পালন করে আসছেন। তবে লালন একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর এ আয়োজনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বাউল উৎসব শুরুর কয়েকদিন আগে থেকেই জড়ো হয়েছিলেন ছেঁউড়িয়ার লালন ধামে। নির্লোভ, নিরহংকার সহজ সরল এই মানুষগুলো আধুনিক সামাজিক লোকাচারের বাইরে থেকে ঈশ্বরকে পাওয়া আর আত্মশুদ্ধির সাধনা করেন বাউল তীর্থ ছেঁউড়িয়া এসে। ভাবগান আর বাউল আচারের যজ্ঞ পালন ছাড়াও বাউল পথ ও মতের দীক্ষাও নিচ্ছেন অনেকে। স্মরণোৎসব মানেই বাউল ফকিরদের মহাসম্মেলন। এখানে আগত বাউলরা ভাব বিনিময় করেন আপন মনে, নিজস্ব রীতিতে। গুরুবাদি এ ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছে গুরুই সব। গুরুর নির্দেশিত পথে সাধন-ভজন এবং রস আস্বাদনের সব পথই উন্মুক্ত। আর এ যজ্ঞ সম্পাদনের মধ্যদিয়েই সীমার মাঝে অসীম খুঁজে ফেরে এই মতে বিশ্বাসীরা। লালন আখড়া বাড়ি তাদের কাছে পরম ভক্তির তীর্থস্থান। উৎসব শেষে গতকাল বাড়ি ফেরার সময় তাই তাদের কণ্ঠে বিষাদের সুর বেজে উঠে। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা প্রবীণ বাউল আলম শাহ একতারা বাজিয়ে দরাজ গলায় গাইছেন ‘আর কি হবে এমন মানব জনম, বসবো সাধুর সনে’। গান শেষে বিদায় বেলার অনুভূতি জানতে চাইলে আলম শাহ বলেন, ‘সাঁইজির চরণ তলে কটা দিন পড়েছিলাম। এখন বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে, কিন্তু মনতো চাইছে না বাড়ি ফিরতে। আরও কটা দিন থেকে যেতে পারলে ভালো হতো, মনটা কেমন করছে, আর যদি আসতে না পারি কোনো দিন। ’ আরেক বাউল ইসলাম শাহ বলেন, ‘বাবা বাড়ি ফিরতে মন চাইছে না, ভাবছি আরও কটা দিন গুরু ধামে থেকে যাব। মহিলা বাউল করিমন খাতুন বলেন, ‘বাবা বাড়ি ফিরে যাচ্ছি ঠিকই, মনটা পড়ে রইলো আখড়া বাড়িতে। এখন থেকেই ফালগুনের দোল উৎসবের প্রহর গুনতে থাকব।

up-arrow