Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২১
কে হচ্ছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল
শফিকুল ইসলাম সোহাগ

জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমির নির্বাচিত হওয়ার পর সেক্রেটারি জেনারেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহের মনোনয়ন নিয়ে তত্পরতা চলছে দলটিতে। মকবুল আহমাদ নতুন আমির নির্বাচিত হওয়ার পর জামায়াতের কর্মী-সমর্থক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যেও এ নিয়ে কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। সবার একই প্রশ্ন, কে হচ্ছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। সূত্র জানায়, চার বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা. শফিকুর রহমানই দলটির নতুন সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হচ্ছেন। কারণ হিসেবে সূত্রটি বলছে, ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ আমির নির্বাচিত হওয়ায় ডা. শফিকুর রহমানের সেক্রেটারি জেনারেল হওয়ার সম্ভাবনাই সর্বাধিক। তবে ক্ষমতা ও নেতৃত্বের বিচারে জামায়াতের এই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ এ পদটির জন্য আরও কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন ঢাকা মহানগরী আমির রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলম, নির্বাহী পরিষদের সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক আমির শামসুল ইসলাম। নিয়মানুযায়ী নতুন আমিরের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার নির্বাচন হবে। নবনির্বাচিত মজলিসে শূরার মতামত নিয়ে আমির পর্যায়ক্রমে সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, বিভাগীয় সেক্রেটারি মনোনয়ন নেবেন। শূরা নির্বাচনের পাশাপাশি জেলা ও মহানগরী আমির নির্বাচনও সম্পন্ন হবে। জানতে চাইলে জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর দায়িত্বশীল নেতা আবদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং জেলা ও মহানগর কমিটির নির্বাচন চলছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে শামসুল ইসলামের পরিবর্তে মো. শাহজাহান নতুন আমির হয়েছেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা গঠনের পর নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

জানা যায়, শেষ দিকে মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি নাশোখ ছিলেন। ফাঁসির আগে এ দুই নেতা পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের কাছে শফিকুরের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এদিকে দলের একটি অংশের অভিযোগ, রফিকুল ইসলাম খান দলের মধ্যে উগ্রচিন্তার অনুসারীদের প্রতি দুর্বল। এ অবস্থায় সেক্রেটারি জেনারেল কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের ভিতরে নানা গুঞ্জন চলছে। তবে নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, মকবুল আহমাদ দায়িত্ব নেওয়ার পর যেভাবে যে বক্তব্য জাতির সামনে তুলে ধরেছেন তাতে শফিকুর রহমানেরই সেক্রেটারি জেনারেল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। জামায়াতের এক তরুণ সদস্যের মতে, দলের এ সংকটময় মুহূর্তে সার্বিক বিবেচনায় মকবুল আহমাদ আমির নির্বাচিত হয়েছেন। একইভাবে সেক্রেটারি জেনারেল পদে ডা. শফিকুর রহমানই সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন। মকবুল আহমাদ আমির নির্বাচিত হওয়ায় ডা. শফিকুর রহমান সেক্রেটারি জেনারেল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ২০১০ সালে সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ গ্রেফতার হলে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আজহারুল ইসলাম গ্রেফতার হলে দায়িত্ব নেন ডা. শফিকুর রহমান। ২০১২ সালে শফিকুর রহমান গ্রেফতার হলে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হন ঢাকা মহানগরী আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। পরে শফিকুর রহমান জামিনে মুক্তি পেলে মাওলানা রফিক স্বপদে ফিরে যান। এর পর থেকে ভারপ্রাপ্ত আমিরের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল জামায়াতের হাল ধরেন। আত্মগোপনে থেকে বক্তৃতা-বিবৃতিসহ নানা মাধ্যমে দল পরিচালনা করে আসছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow