Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৪৭
ছয় পণ্যে শুল্ক কমাতে বলেছে ভারত
বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে ডেপুটি হাই কমিশনারের বৈঠক
রুকনুজ্জামান অঞ্জন

চিনি, বাইসাইকেল, কমলা, স্টিল বিলেট, সয়া কেক এবং রেপ সিডস—এ ছয় পণ্যে আরোপিত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা থেকে ডেইরি মিল্ক ও দুগ্ধজাত পণ্য দুটিকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি।

পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিছু পণ্যের ন্যূনতম আমদানি মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে বৈঠক করে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার ড. আদর্শ স্বোইকা তার দেশের পক্ষে এসব বাণিজ্যিক ইস্যু তুলে ধরেন।

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এসব ইস্যু সমাধানে আলোচনা করবে দুই পক্ষ। ১৬ নভেম্বর ঢাকায় এই বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মূলত দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকের ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতেই ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার এসেছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, দ্বিপক্ষীয় এই বাণিজ্য ইস্যু নিয়ে আগামী রবিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ইস্যুগুলো চূড়ান্ত করে ভারতকে জানানো হবে। তবে এরই মধ্যে কয়েকটি ইস্যু নিয়ে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। সূত্র জানায়, পাটজাত পণ্যে ভারত যে অ্যান্টি ডাম্পিং ও রুলস অব অরিজিনের শর্ত আরোপ করেছে সেটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করছে বলে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারকে জানানো হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের মাননিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসটিআই কর্তৃক পণ্যের মান পরীক্ষাকে ভারত অনুমোদন দিলেও সেই নির্দেশনা দেশটির এলসি স্টেশনে পাঠানো হয়নি। ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে মাননিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছেন। এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়। ভারতের পক্ষ থেকে ত্রিপুরা ও মেঘালয় সীমান্তে যে নতুন বর্ডার হাট স্থাপনের বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে সেগুলো নির্মাণে বাংলাদেশের অনুমোদন চাওয়া হয়। জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের মধ্যে বর্ডার হাট স্থাপনে যে চুক্তি ছিল সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন ওই চুক্তি নবায়ন না করে নতুন কোনো বর্ডার হাট স্থাপনের অনুমোদন দিলে সেটির আইনগত ভিত্তি থাকবে না। বর্ডার হাট চুক্তি নবায়নের বিষয়ে এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের মতামত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও ডেপুটি হাইকমিশনারকে জানানো হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow