Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৬
কৃষি সংবাদ
হলিবার্ড মুরগির খামার করে সফল দুই বন্ধু
দিনাজপুর প্রতিনিধি
হলিবার্ড মুরগির খামার করে সফল দুই বন্ধু

আমেরিকান হলিবার্ড বাংলাদেশে টার্কি মুরগি নামে পরিচিত। আর এ অঞ্চলে টার্কি মুরগি পালন করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন মাহফুজার রহমান রুহুল কুদ্দুস ও আওরঙ্গজেব পলাশ নামে দুই বন্ধু।

তারা শখের বশে পালন করলেও এতে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তাদের এ সাফল্য এনে দিয়েছে অনেক বেকার যুবকের অনুপ্রেরণা। অনেকে খামারটি দেখতে বা পরামর্শ নিতে যাচ্ছেন। তারাও চান বেকার যুবকরা এ মুরগি চাষ করে স্বাবলম্বী হোক। মাহফুজার রহমান রুহুল কুদ্দুস দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামে নিজ বাড়িতে স্বল্প পরিসরে আরেক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকান হলিবার্ড বা টার্কি মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। তিনি পেশায় একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং একই এলাকার আরেক বন্ধু আওরঙ্গজেব পলাশ এনজিও কর্মী। মুরগিসহ বিভিন্ন খরচে দুই বন্ধুর বিনিয়োগ হয়েছে ২৪ হাজার টাকা। আর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ৪৫ হাজার টাকা। লাভজনক হওয়ায় এই খামারে এক হাজার হলিবার্ড বা টার্কি মুরগি পালনের ব্যবস্থা নিয়েছেন দুই বন্ধু।

মাহফুজার রহমান জানান, চাকরির সুবাদে ৭ মাস আগে খাগড়াছড়ি থেকে তিন জোড়া আমেরিকান হলিবার্ড বা টার্কি মুরগি কিনে আনেন। ১০ দিনের মাথায় ডিম দেয় মুরগিগুলো। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো হয়। বিক্রির পর এখন তার ছোট-বড় মিলিয়ে ৮০-৯০টি মুরগি রয়েছে খামারে। এরই মধ্যে ২০০ ডিম বিরামপুর ও সিরাজগঞ্জের হ্যাচারিতে ফোটানোর জন্য দেওয়া হয়েছে। ফোটানোর জন্য ২০ টাকা করে দিতে হবে। ২৮ দিন সময় লাগবে। দেশি মুরগির কাছে দিয়েও ডিম ফোটানো যায়। শান্ত স্বভাবের টার্কির মাংস খুব পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। একটি মুরগির ওজন ১০ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটি মুরগি ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়।

আর একটি টার্কি মুরগির বিক্রয় মূল্য ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। টার্কি মুরগি যে কেউ বসতবাড়িতে পালন করতে পারে। কারণ এটা লাভজনক। টার্কির পাশাপাশি তার খামারে আরও রয়েছে কয়েক প্রজাতির বিদেশি কবুতর ও দেশি মুরগি। এ মুরগি আমেরিকানদের খুব প্রিয়। সে দেশের বড় বড় অনুষ্ঠানে এ মুরগি উপহার হিসেবে একে অপরকে উপঢৌকন দিয়ে থাকে। এ মুরগির রোগ কম হয় এবং খাবারও খুব কম খায়। খাবারের মধ্যে অন্য মুরগির মতোই পোলট্রি ফিড খায়। তবে বাড়তি শুধু শাক-সবজি খায়। ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. মামুন-উর-রশিদ জানান, খামারটি নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow