Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৭

পর্নো অভিনেত্রীও অভিযোগ করলেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

প্রতিদিন ডেস্ক

পর্নো অভিনেত্রীও অভিযোগ করলেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

একের পর এক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ লেগেই আছে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। এই তালিকায় এবার যোগ হলেন পর্নো অভিনেত্রীও। অথচ নির্বাচনের আর বাকি সাকুল্যে ১৫ দিন। ট্রাম্প অবশ্য ঘোষণা দিয়েছেন যেসব নারী তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন তাদের তিনি একহাত দেখে নেবেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন এবং জেলে ভরবেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।

পর্নো অভিনেত্রী জেসিকা ড্রেক। তিনি অভিযোগ করেছেন, ১০ বছর আগে ট্রাম্প তাকে একা তার হোটেল কক্ষে যাওয়ার জন্য ১০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ নিয়ে অন্তত ১১ জন নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনলেন।

শনিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড্রেক বলেন, ১০ বছর আগে ২০০৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গলফ মাঠে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হয়। সেখানে তিনি (ট্রাম্প) তাকে যৌন উত্তেজক অনেক কথা বলেন। পরে তাকে হোটেলে আমন্ত্রণ জানান।

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ড্রেক আরও দুজন মেয়েকে নিয়ে যান। ট্রাম্প তাদের দেখেই প্রত্যেককে চেপে জড়িয়ে ধরেন ও চুমু খান। অথচ এজন্য তিনি কোনো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। এমনকি তাদের কাছে জানতে চান, পর্নো মুভিতে অভিনয় করতে কেমন লাগে। এরপর সেখান থেকে চলে আসার পর ট্রাম্প তাকে  ফোন করেন এবং তাকে নিজের সুটে যেতে ও একটি পার্টিতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ সময় বলেন, ‘তুমি কী চাও? কত চাও?’ ড্রেক এতে রাজি না হওয়ায় আবারও তার কাছে ফোন করেন ট্রাম্প। এ সময় তাকে ১০ হাজার ডলার প্রস্তাব করেন এবং রাজি থাকলে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিমানে করে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড্রেকের এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার আইনজীবী গ্লোরিয়া অ্যালরেড। সেখানে গলফ মাঠে ট্রাম্প ও ড্রেকের একটি ছবি দেখানো হয়। তবে ট্রাম্পের সমর্থকেরা ড্রেকের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ গল্প পুরোপুরি মিথ্যা ও হাস্যকর। ট্রাম্প এই নারীকে চেনেন না। এমনকি তিনি কে, এ ব্যাপারে তার কোনো আগ্রহও  নেই।’ এটা হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের আরেকটি প্রপাগান্ডা বলে দাবি করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনটি পৃথক জরিপে এগিয়ে থাকা ট্রাম্পকে অপবাদ দিতে এটি করা হয়েছে।

ওই সব নারীকে দেখে নেবেন ট্রাম্প : যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করা নারীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। যারা তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, অভিযোগকারী সব নারীর ভাষ্য ‘মিথ্যা’। শনিবার পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের গেটিসবার্গে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এসব বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালে এই গেটিসবার্গেই ঐতিহাসিক বক্তব্য দেন। সেখান থেকে কিছুটা দূরে এক নির্বাচনী প্রচারে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনে কী করবেন, তারও চিত্র তুলে ধরেন। ট্রাম্প জানান, ১০০ দিনের মধ্যেই তিনি অবৈধ অভিবাসীদের বিতারিত করবেন। অভিবাসীদের মধ্যে যাদের অপরাধের রেকর্ড আছে, তাদের দুই থেকে পাঁচ বছরের বাধ্যতামূলক কারাবাসে পাঠাবেন। শুধু অভিযোগকারী নারীদের ওপর ঝাল ঝেড়েই ট্রাম্প ক্ষান্ত হননি, এ সময় তিনি মার্কিন গণমাধ্যমেরও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মিডিয়া সব মিথ্যাবাদী। কোনো কিছু যাচাই না করেই মিডিয়া তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। তবে ইয়েল ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক সানড্রা বেরন বলেন, মামলা করে ট্রাম্প অভিযোগকারীদের হেনস্তা করতে পারবেন না। টাইম সাময়িকীকে তিনি বলেন, আইনি পথে গেলে ট্রাম্পকে প্রমাণ করতে হবে, অভিযোগকারী নারীরা মিথ্যা বলছেন। এমন কাজ ট্রাম্পের পক্ষে সহজ হবে না।

ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত নন নারীরা : যৌন হয়রানির অভিযোগকারী নারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকির ব্যাপারে মুখ খুলেছেন অভিযোগকারী কিছু নারী। তারা বলেছেন, যদি ট্রাম্প অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তাহলে শুধু ট্রাম্প একা নন, তার সঙ্গে থাকা সবার বিরুদ্ধে মামলা করার শক্তি আমাদের আছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির শিকার জিল হার্থ অন্যতম। তার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন লিসা ব্লুম। তিনি অভিযোগ করেছেন, ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে দুটি আলাদা ঘটনায় জিলের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের জবাবে টুইটারে শনিবার বিকালে লিখেছেন, যদি ট্রাম্প অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তাহলে শুধু ট্রাম্প নন, তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও আদালতে যাওয়ার শক্তি আছে তাদের। আরেক অভিযোগকারী ক্যাথি হেলার সিএনএনকে বলেছেন, আমি মনে করি এ হুমকি অন্যদের (নির্যাতিত নারীদের) বিরত রাখতে পারবে না। আরও অনেক নারী তাদেও গোপন কথাগুলো খুলে বলে দেবেন।


আপনার মন্তব্য