Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৪

টিআইবির প্রতিবেদন

রাজনৈতিক প্রভাব ত্রাণ বিতরণেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক প্রভাব ত্রাণ বিতরণেও

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর দুর্যোগ মোকাবিলায় অনেক এলাকায় ত্রাণ বরাদ্দ, বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং অনিয়ম কাজ করেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল টিআইবির কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

‘ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু : দুর্যোগ মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করার সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অনেক প্রশংসা পেয়েছি। এক্ষেত্রে অর্জনও অনেক রয়েছে। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরগুনার দুটি করে উপজেলায় মাত্র ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে গত বছর জুন মাসে গবেষণা চালায় টিআইবি। এসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করা, জনগণকে তথ্য জানানোয় ঘাটতি, মহড়া আয়োজন না করা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ছয়টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়েছে। চট্টগ্রাম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেখানে ৪০১ টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছে, সেখানে একই দুর্যোগে ভোলা এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা চট্টগ্রামের চেয়ে ছয়গুণ বেশি বরাদ্দ পেয়েছে। এতে আরও বলা হয়, দেশের উপকূলীয় এলাকায় পাঁচ হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের চাহিদার বিপরীতে ৩ হাজার ৭৫১টি রয়েছে। বিভিন্ন সরকারের সময় নির্মিত অধিকাংশ আশ্রয় কেন্দ্র নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহারের অনুপযোগী। এসব আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে গড়ে মোট বরাদ্দের ৭০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় এবং বাকি অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগবাটোয়ারা হয়ে যায়। এ ছাড়া এসব আশ্রয় কেন্দ্র যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। তথ্য তুলে ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু মোকাবিলায় আক্রান্ত জেলায় খাবার, টাকা বরাদ্দ, আশ্রয় কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ ও মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াসহ সরকারের অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী নানা পদক্ষেপে অনিময়-বৈষম্য থাকায় ক্ষতিগ্রস্তরা সঠিকভাবে এর সুফল পাননি। সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও জনসচেতনতার অভাবে প্রাণহানি ঘটেছে ২০১৬ সালের ২১ মে রোয়ানুর আঘাতে। আক্রান্ত আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে ফিরে আসায় এটা হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় গুণগত অনেক ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে পছন্দসই এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রভাবে কোনো এলাকায় বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার সময় স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণেও রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব এবং বৈষম্য। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্যোগ মোকাবিলার অর্জন ধরে রাখতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, অস্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার চর্চায় ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে হবে। অনুষ্ঠানে টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের ও গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য