Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৯
বাংলাদেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা ভারতে
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
বাংলাদেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা ভারতে

তিন দিক থেকে সিলেটকে ঘিরে আছে ভারতের সাত রাজ্য। বাংলাদেশ ও ভারতে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামেই এই সাত রাজ্যের পরিচিতি।

ভৌগোলিক কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই সাতটি রাজ্য দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে। দুর্বল অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ সাত রাজ্যের মানুষ বাংলাদেশি পণ্যের ওপরই অনেকটা নির্ভরশীল। এ সুযোগ কাজে লাগানো গেলে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ হতে পারে বাংলাদেশি পণ্যের অপার সম্ভাবনার বাজার, এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ভৌগোলিক কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল— এই সাত রাজ্যে শিল্পায়নের বিস্তৃতি ঘটেনি। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে এই সাত রাজ্যে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ব্যয় হয় ব্যবসায়ীদের। তাই ওই রাজ্যগুলোর ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেছে নেন বাংলাদেশকে। যোগাযোগ সহজ হওয়ায় সিলেট বিভাগের স্থলবন্দরগুলো দিয়েই তারা আমদানি করে থাকেন ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতের এই সাতটি রাজ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি জনসংখ্যার বসবাস। সেখানে রয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বাজার।

ভারতের অন্যান্য স্থান থেকে এসব রাজ্যে পণ্য পরিবহন সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নির্ভর করতে হয় সেখানকার ব্যবসায়ীদের। ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের বৃহৎ শিল্পগ্রুপগুলো বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের এই সাত রাজ্যে পোশাক, সিমেন্ট, ইট, টিস্যু পেপার, মেলামাইন ও সিরামিক সামগ্রী, মাছ, ওষুধ, বাইসাইকেল, ব্যাটারি, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক পণ্য, টাইলস, টয়লেট ফিটিংস, প্লাস্টিক পণ্য, প্যাকেটজাত ফলের রস, মিনারেল ওয়াটার, রড, পাথর, পিভিসি পাইপসহ নানা জাতের ভোগ্যপণ্য রপ্তানি করে থাকে। সিলেটে প্রস্তাবিত স্পেশাল ইকোনমিক জোন স্থাপিত হলে ভারতের সেভেন সিস্টার্সে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে রপ্তানিকারকদের একদিকে যেমন পরিবহন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে সময়ও লাগবে কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে যেসব পণ্য ওই সাতটি রাজ্যে প্রবেশ করে, সিলেটে ইকোনমিক জোন স্থাপনের কাজ শেষ হলে সেসব পণ্যের বাজারও বাংলাদেশ দখল করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ওই রাজ্যগুলোর গোটা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স কালাম ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম বলেন, সেভেন সিস্টার্স হিসেবে খ্যাত ভারতের ওই সাত রাজ্যে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেটে ইকোনমিক জোন গড়ে উঠলে একদিকে পরিবহন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে আরও বেশি পরিমাণ পণ্য সেখানে রপ্তানি করে ব্যবসা-বাণিজ্যের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বাংলাদেশ। তখন ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ওই রাজ্যগুলোয় পণ্য আসা বন্ধ হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সিলেটের গবেষণা কর্মকর্তা কাজী মো. মহিউদ্দীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের সাত রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের বাজারের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সেখানকার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ আরও নিবিড় করতে হবে। তাদের কাছে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির সুবিধাগুলো আরও বিস্তৃত আকারে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি আমাদের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। এ ছাড়া ভারতের সেভেন সিস্টার্সের পণ্যের চাহিদা পূরণ এবং স্বল্প ব্যয় ও সময়ে পণ্য রপ্তানি নিশ্চিতের জন্য সিলেটে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন খুবই জরুরি। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow