Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩২
বিতর্কিতদের নেতৃত্বে আনায় জামায়াতে চরম কোন্দল
শফিকুল ইসলাম সোহাগ

দেশজুড়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা দলে নিষ্কলুষ নেতৃত্ব চেয়েছিলেন। অর্থাৎ যাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ আছে, তাদের বাদ দিয়ে দলে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ছিল তাদের।   কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। দলীয় নেতৃত্বে বিতর্কিতদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের নবনিযুক্ত আমির মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তদন্ত চলছে। নবনিযুক্ত পাঁচজন নায়েবে আমিরের মধ্যে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত এবং আবদুস সোবহান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেও বর্তমানে তা উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে বিচারাধীন আছে। সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের মধ্যে এ টি এম আজাহারুল ইসলাম মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি আপিল করায় বর্তমানে তা  উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধেও মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার কথা শোনা যায়। এই বিতর্কিতদের নেতৃত্বে আনায় বর্তমানে দলে চরম কোন্দল চলছে। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর হাতেগড়া প্রতিষ্ঠান একের পর এক হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। বিএনপির কাছেও দলটি এখন আর তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকায় দাঁড়িপাল্লা দলের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে পারেনি দলটি। তাছাড়া জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের ওপর নানা মহলের চাপ বাড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থা অনেকটা  ছন্নছাড়া। জানতে চাইলে জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকার অঘোষিতভাবে জামায়াতের প্রকাশ্য কাজ-কর্ম নিষিদ্ধ করে রেখেছে। কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সব অফিস তালাবদ্ধ করে রেখেছে। দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংক-বীমা, মিডিয়া, প্রযুক্তি, রিয়েল এস্টেট এবং পরিবহন সেক্টরে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বছর আর্থিক নিট মুনাফা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। জামায়াত মতাদর্শের পরিচালকদের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। একইভাবে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংক-বীমা, মিডিয়া-প্রযুক্তি, রিয়েল এস্টেট, পরিবহন সেক্টরে তাদের নিজেদের গড়া প্রতিষ্ঠান একে একে হাতছাড়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের পরিবর্তন  আসছে। জামায়াত-শিবির পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ফোকাস কোচিং সেন্টার এবং মেডিকেলে ভর্তির জন্য রেটিনা কোচিং সেন্টারের বিভিন্ন শাখা বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ হচ্ছে আয়ের উৎস। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান জোটে আগের মতো মজবুত নেই। জোটের গুরুত্বপূর্ণ অনেক বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিকে দেখা যায় না। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ আদালত এক নির্দেশনায় উল্লেখ করেছেন, ‘দাঁড়িপাল্লা’ ন্যায়ের প্রতীক। এটি কোনো রাজনৈতিক দল তাদের প্রতীক হিসেবে যেন ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে আদালত। কমিশন নিজস্ব ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে, দাঁডিপাল্লা প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এর আগে ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর তিনবার নিষিদ্ধ হয় জামায়াত। এর মধ্যে ১৯৫৯ ও ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানে এবং ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াত নিষিদ্ধ হয়। ৭ বছর পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে আবার প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ পায় জামায়াত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow