Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৭
প্রানেরমেলা প্রতিদিন
শিশুদের মিলনমেলা
মোস্তফা মতিহার
শিশুদের মিলনমেলা
অমর একুশে বইমেলায় গতকাল ছিল বিপুল সংখ্যক শিশুর উপস্থিতি —জয়ীতা রায়

একুশে গ্রন্থমেলার তৃতীয় দিনের চিত্রটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। গতকাল ছিল মেলার প্রথম ছুটির দিন ও প্রথম শিশুপ্রহর। এদিন বইকেনায় বড়দের চেয়ে এগিয়ে ছিল শিশুরা। বাবা-মায়ের হাত ধরে মেলায় এসে পছন্দের বই কেনা আর ছোটাছুটিতে ব্যস্ত ছিল ছোট্ট সোনামণিরা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশুকর্নার অংশের স্টলগুলো বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ছোটদের কলকাকলি আর কোলাহলে মুখর ছিল। বিশেষ করে শিশুকর্নারে অবস্থিত সিসিমপুরের স্টলে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। শিশুপ্রহরে হঠাত্ করে শিশুদের সামনে এসে হাজির হয় সিসিমপুরের ‘টুকটুকি, হালুম, শিপু, ইকরি’ চরিত্রগুলো। এ সময় নানা পারফরম্যান্সে শিশুদের মাতিয়ে রাখে তারা। রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল থেকে বাবার হাত ধরে মেলায় আসে ফারিয়াজ মায়ান হক। আধো আধো গলায় কথা বলতে গিয়ে ফারিয়াজ হক বলে, ‘প্রতিদিন আমি সিসিমপুর দেখি। সিসিমপুরের বই কিনব বলে বাবাকে আগেই বলে রেখেছিলাম। ’ সোনামণি আরও জানায়, সিসিমপুরের বই কেনার পাশাপাশি সে ডাইনোসর ও ড্রয়িংয়ের বইও কিনেছে। গতকাল শিশুদের উপযোগী ৬২টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে শিশুপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ৬, শিশুকিশোর প্রকাশনা থেকে ৪, ঢাকা কমিক্স থেকে ২৫, বইপড়ি থেকে ৩, পঙ্খিরাজ প্রকাশনী থেকে ৩, আদিগন্ত থেকে ৫, ঝিঙেফুল থেকে ৬, শব্দশিল্প থেকে ৩, রেজা পাবলিকেশন্স থেকে ৬, শিশুরাজ্য থেকে ৬, প্রগতি পাবলিশার্স থেকে ২টি বই। দুপুর ১টায় শিশুপ্রহর শেষ হওয়ার পর মেলাপ্রাঙ্গণ কিছুটা ফাঁকা হয়ে পড়ে। তবে বিকালে মানুষের ঢল নামে। সকালে শিশুপ্রহরের বিক্রেতারা ব্যস্ত থাকলেও বিকালে সেই ব্যস্ততা চলে যায় বড়দের বইয়ের স্টলে। সন্ধ্যা থেকে মেলার দ্বার বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় সব স্টলেই বিকিকিনি ছিল আশাব্যঞ্জক। গতকাল মেলায় এসেছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও আনিসুল হক।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্যে গতকাল মেলায় ১৩০টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে গল্প ১৩, উপন্যাস ২৮, প্রবন্ধ ৩, কবিতা ৪১, গবেষণা ৪, ছড়া ৭, শিশুসাহিত্য ৪, জীবনী ৪, মুক্তিযুদ্ধ ৭, নাটক ১, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ১, ইতিহাস ৩, রম্য/ধাঁধা ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ১ এবং অন্যান্য বিষয়র ওপর এসেছে ১০টি বই। এ ছাড়া গতকাল মেলায় ১৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন : গতকাল ছিল বাংলা একাডেমি আয়োজিত চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের তৃতীয় দিন। সকাল ১০টায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বাংলা কবিতা বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পশ্চিমবঙ্গের কবি শ্যামলকান্তি দাশ ও বাংলাদেশের অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি অসীম সাহা, ইকবাল হাসান, তুষার দাশ, ফরিদ কবির। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী। বিকাল ৪টায় দ্বিতীয় পর্বে অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে বাংলা প্রবন্ধ-সাহিত্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শান্তনু কায়সার ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাবন্ধিক সুমিতা চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের গবেষক সুনন্দা সিকদার, কথাসাহিত্যিক পূরবী বসু, প্রাবন্ধিক মোরশেদ শফিউল হাসান, অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান, অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল, পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র গবেষক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, চীনের অনুবাদক ইয়াং উই মিং সরনা, পশ্চিমবঙ্গের গবেষক ইমানুল হক। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার। এরপর বিকাল ৫টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মফিদুল হক, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন, ড. আমিনুর রহমান সুলতান, পশ্চিমবঙ্গের গবেষক জিয়াদ আলী। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন। একই সময়ে শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে সাহিত্য ও ফোকলোরের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফিরোজ মাহমুদ ও শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফিকুর রহমান চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ, সাইমন জাকারিয়া ও সাকার মুস্তাফা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সন্ধ্যায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অন্য ভাষার কবির স্বরচিত কবিতা এবং ছড়া পাঠ। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সুকুমার বড়ুয়া। আজ শেষ হবে চার দিনের এ আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow