Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৩
প্রকৃতি
লাজুক পাখি কমলাবউ
মোস্তফা কাজল
লাজুক পাখি কমলাবউ

স্বভাবে লাজুক এবং রসিক বলেই পাখির নাম কমলাবউ। দুর্লভ এ পাখি অন্য পাখির বাসার পাশে বসে সেই পাখির ডাক নকল করতে পারে।

কোথাও কোথাও এরা কমলাফুলি বা কমলা দোয়েল নামেও পরিচিত। কমলা মামা বলেও ডাকা হয় কোথাও কোথাও। দেশের হাতে গোনা কয়েকটি জেলায় এ পাখি কম-বেশি দেখা যায়। এদের অবস্থান থাকে শালবন এলাকায়।   দক্ষিণ এশিয়ায় চারটি দেশে এ পাখির ১৫টি প্রজাতি রয়েছে। এরই মধ্যে কেবল কমলাবউয়েরই বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে বসবাস রয়েছে। বাকি ১৪ প্রজাতিকে শীতকালে মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে দেখা যায়। কয়েক দিন আগে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এ পাখি দেখা গেছে। তিন পার্বত্য জেলা ও সিলেট জেলায় কিছু পাখি রয়েছে বলে জানা যায়।

কমলাবউ আকারে অনেকটা দোয়েলের মতো। পুরুষ কমলাবউ দেখতে সুন্দর। লম্বায় ২১ থেকে ২২  সেন্টিমিটার। এ পাখির চোখ টলমলে নীল জলের মতো। তাতে আছে কালচে পিঙ্গলের আভা। পাখির ঠোঁট হয় হালকা গোলাপি। মাথার চাঁদি, ঘাড়, গলা ও বুকের রঙ গাঢ় কমলা রঙের। শরীরে হালকা হলুদের ছোঁয়াও আছে। আরও আছে লালচে আভা। পেট ও লেজের নিচের রঙ সাদা ও হালকা হলুদ। পাখা বন্ধ করে রাখা অবস্থায় পিঠের রঙ ছাই রঙের হয়ে থাকে। লেজের উপরের রঙও কিছুটা কালচে। এ পাখি উড়ার সময় চোখে পড়ে। ডানার প্রান্তে পরপর তিনটি সাদা গোলাকার ছোপ আছে। পায়ের রঙও হালকা গোলাপি। সব মিলে তাকে সামনে থেকে কমলা রঙের দেখায়। স্ত্রী কমলাবউও দেখতে সুন্দরী। তবে পুরুষ পাখির মতো নয়। কমলাবউ গ্রামের ঝোপঝাড়, বন-জঙ্গল কিংবা বাঁশঝাড়ের স্যাঁতসেঁতে নির্জন জায়গায় থাকতে বেশি পছন্দ করে। প্রজননের সময় ছাড়া সাধারণত একাকী ছোট  ছোট লাফ দিয়ে চলাফেরা করে। মাটিতে পড়ে থাকা পাতা উল্টে পোকামাকড়, কেঁচো ইত্যাদি খায়। এরা ‘চিরি-চিরি-রিরি...ঝিরি বা কিরি-কিরি...কিরি-কিরি’ স্বরে ডাকে। এপ্রিল থেকে জুন এ পাখির প্রজননকাল। এক  থেকে পাঁচ মিটার উঁচু কোনো গাছের ঘন পাতাওয়ালা দুই ডালের ফাঁকে শুকনো পাতা, ঘাস, শিকড় ও মাটি দিয়ে বাসা বানায়। পিরিচের মতো প্রথম স্তর এবং গোলা বাটি কিংবা চায়ে কাপের মতো বেশ শক্তপোক্ত দ্বিতীয় স্তরের বাসা বানানো শেষ করে। এরপর স্ত্রী কমলাবউ তিন থেকে চারটি ডিম পারে। ডিমের রঙ গোলাপি। তাতে থাকে নীল ও ফিকে আভা। পুরুষ-স্ত্রী উভয়ই ডিমে তা দেয়। প্রায় ১৪ দিন পর ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। উড়তে শেখে ১০ থেকে ১৫ দিনে। কমলাবউ গায়ক পাখি। এ পাখি গান শুনিয়ে যেমন মুগ্ধ করে তেমনি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশ সুন্দর রাখে। নানা কারণে এ পাখি বংশ বৃদ্ধি না করায় বিপন্নের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow