Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৭
ফের শঙ্কায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা
আলী রিয়াজ
ফের শঙ্কায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা

টানা কয়েক দিন চাঙ্গা মেজাজে লেনদেন হয়ে শেয়ারবাজারে ফের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। হঠাৎ বড় ধরনের দরপতনের ঘটনায় ফের শঙ্কায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

দীর্ঘদিন পরে যারা শেয়ারবাজারে ফিরে এসেছিলেন তাদের অনেকেই আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। গত কয়েক দিন ধরে একটানা কমেছে শেয়ারের সূচক। তিন দিনের ব্যবধানে ডিএসইতে প্রায় ৩০০ পয়েন্ট কমেছে সূচক।

জানা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কয়েক দিনের ব্যবধানে লেনদেন ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। যা গত এক মাস আগেও ছিল ৩০০ কোটি টাকার নিচে। এই সময় বৃহৎ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের বেশি হাতবদল হয়। যার প্রভাব পড়ে বাজার লেনদেনেও। বাজারের এত বেশি উল্লম্ফনে বাজার বিশ্লেষকরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাজারে কঠোর নজরদারির ঘোষণা দেওয়া হয়।

ফলে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন লগ্নিকারীরা। লেনদেনে কিছুটা ভাটা শুরু হয়। তবে বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটানা দর বৃদ্ধির পর কিছুটা সংশোধন হয়েছে। বাজারে শঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। জানতে চাইলে ডিএসই পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, এই সময় ব্যাংকের ডিভিডেন্ড ঘোষণার সময় চলে এসেছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাজারে যে মন্দাভাব ছিল ব্যাংকের সুদহার কমে যাওয়ায় অনেকেই বাজারে ফিরে এসেছেন। ফলে শেয়ার লেনদেন বেড়েছে। আবার কিছুটা কমেছেও। তবে এটা থাকবে না। আমার ধারণা, দ্রুত এটা ফের ইতিবাচক ধারায় ফিরবে। ডিএসইর বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে সূচক কমেছে তিন দিন। বেড়েছে দুই দিন। এ দুই দিনে সূচক বেড়েছে মাত্র ৫০ পয়েন্ট। কমেছে প্রায় ৩০০ পয়েন্ট। এই সময় ডিএসইর গড় লেনদেন হয়েছে ৯৫৯ কোটি টাকার শেয়ার। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি। শতাংশ হিসেবে কমেছে প্রায় ৪৫ ভাগ। সপ্তাহের শেষ দিনে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৭০০ কোটি টাকার শেয়ার। এই সময় হাতবদল হওয়া ৩৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর কমেছে ২৮১টি কোম্পানির। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। বাজার মূলধনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পাঁচ দিনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে শেয়ার মূলধন যেখানে ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ তা ৩ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে গভর্নর ফজলে কবীর ঘোষণা করেন, শেয়ারবাজার বিরাজমান মন্দা থেকে বেরিয়ে আসায় এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী বাজার যাতে কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে থাকে এ বিষয়ে কার্যকর নজরদারি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সতর্কতা হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নজরদারি রয়েছে। এ ঘোষণার পরেই বাজারে বড় ধরনের দরপতনের ঘটনা ঘটে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, শেয়ারবাজার সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের দেশে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি সচেতন নয়। তাই বাজার মেনুপুলেট বেশি হয়। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গত কয়েক দিনে বাজার কিছু নিম্নমুখী হয়েছে। আমার ধারণা, বিনিয়োগকারীরা সতর্ক রয়েছেন। তারা বোঝার চেষ্টা করছেন বাজার কোনদিকে যায়। তাই এটা একটা ভালো দিক। সবাই যদি সচেতন থাকেন তাহলে ২০১০ সালের মতো ঘটনা আর ঘটবে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow