Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৮
মন্দায় কেরানীগঞ্জের গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা
মাহবুব মমতাজী

বেচাকেনায় মন্দা দেখা দেওয়ায় ভাটা পড়েছে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্ট ব্যবসায়। ঋতু পরিবর্তন আর মৌসুম ঠিক না থাকায় তারা এ সমস্যায় পড়েছেন।

সহজ ঋণসুবিধা থাকলে তারা এ খাতকে আরও সম্ভাবনাময় করে তুলতে পারতেন বলে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তবে এখনো চীনের হুয়াংহু থেকে আমদানি করা পণ্যের চেয়েও এখানকার তৈরি পোশাক অনেক বেশি গুণগত মানসম্পন্ন বলে জানিয়েছেন তারা।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট মালিক ও দোকান মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় বুড়িগঙ্গার কোল ঘেঁষে দুই হাজার সাতশর কিছু বেশি ছোট-বড় গার্মেন্ট কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানার   পণ্য বিক্রির জন্য আছে আরও চার হাজার ৪০০ পাইকারি দোকান।

এই সমিতির সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম জানান, ১৯৯০ সালের পর থেকে এখানকার গার্মেন্ট কারখানাগুলো জমে উঠতে শুরু করে। আর কারখানাগুলোর সব কাঁচামাল ও ফেব্রিকস নিয়ে আসা হয় পুরান ঢাকার ইসলামপুর থেকে। গার্মেন্ট কারখানাগুলোর পণ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে শফিকুল নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আলম মার্কেট ও জিলা পরিষদ মার্কেটসহ আশপাশের যত কাপড়ের দোকান আছে, সেগুলোর বেশির ভাগেরই নিজস্ব কারখানা আছে। তারা তাদের পণ্যগুলো নিজেদের দোকানের মাধ্যমে পাইকারি দরে বিক্রি করে থাকে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকা ও এর বাইরে ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে যেসব তৈরি পোশাক বিক্রি করা হয়, সেগুলো এখানকার কারখানা থেকেই বানানো হয়। কিন্তু ডিজাইন এবং অন্যান্য কাঁচামাল সামগ্রী শো-রুমের মালিকরা সরবরাহ করে থাকেন। তবে শুধু তাদের পছন্দ অনুযায়ী কারখানাগুলোতে তৈরির কাজটি করা হয়। এসব করা হয় সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে। আর এর পরিমাণ সব গার্মেন্ট ব্যবসার ১০ শতাংশ। এখানকার গার্মেন্টগুলোতে শার্ট, পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট, গ্যাবাডিং, বোরকা, ফ্রক, জ্যাকেট ও মেয়েদের জামাকাপড় তৈরি করা হয়। এর কোনোটিই রপ্তানি উপযোগী করে বানানো হয় না। কিন্তু এখান থেকেই দেশের সব অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এসব পণ্য তৈরিতে পিস অনুসারে ৪০-৫০ টাকা দেওয়া হয় শ্রমিকদের। জানা গেছে, এ এলাকায় গার্মেন্ট কারখানা ও সেগুলোর পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্রে প্রায় দেড় লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা ওঠানামা করতে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার লোকের বেকার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর কারণ সম্পর্কে হায়দার আলী নামে জিলা পরিষদ মার্কেটের এক দোকানদার জানান, দু-এক বছর ধরে মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেক সমস্যার মধ্যে আছেন। যাদের নিজস্ব কারখানা, বাড়ি ও দোকান আছে, তারাই মূলত এ ব্যবসা নিয়ে কোনোভাবে টিকে আছেন। উদাহারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেকেই শীত উপলক্ষে যে মাল তৈরি করেছিলেন তা তেমন বিক্রি হয়নি। শীত মৌসুম ঠিকমতো না থাকায় এবং ঋতু পরিবর্তনই এর অন্যতম কারণ। ব্যবসায়ীরা তাদের তৈরি করা দুই থেকে দশ হাজার পিস মাল বিক্রি করতে না পারায় পুঁজি হারিয়ে ফেলেন। ফলে তারা দেনা পরিশোধের ভয়ে রাতের আঁধারে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এ ছাড়া ওই ব্যবসায়ীরও কোনো কিছু করার উপায় ছিল না। জসিম নামের গার্মেন্ট কারখানার এক সেলাই মেশিন অপারেটর জানান, এখানকার কারিগররা অত্যন্ত দক্ষ। চীন থেকে যে মাল আসে তা এনে এদের দিলে তারা অবিকল তা তৈরি করে দেবেন। চীনের তৈরি একটা পণ্য কিনতে খরচ হবে প্রায় দেড় হাজার টাকা আর এখানে তৈরি করলে দাম পড়বে হাজার খানেকের মতো। মান অনুসারে একটা পণ্য তৈরিতে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এসব পণ্য অনেক ক্ষেত্রে চীনের তৈরি পোশাকের চেয়েও মানসম্মত। ১২ বছর ধরে গার্মেন্ট সেক্টরে শ্রম দিয়েও জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি সালেহা বেগমের। তার পরিবারে স্বামী-সন্তান মিলে পাঁচজন সদস্য, যাদের প্রত্যেকে কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত। সালেহা জানান, ২০০৩ সালের পর তিনি তার স্বামী আর ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে আসেন। এরপর তিনি স্থানীয় একটি কারখানায় বোতাম লাগানোর কাজ শুরু করেন। স্বামী জড়ান রিকশা চালানোর কাজে। এখানে আসার পর তার আরেকটি ছেলেসন্তান হয়। এ পর্যন্ত তিনি ২০টিরও বেশি গার্মেন্টে কাজ করেছেন। আর গার্মেন্টগুলোর শ্রমিকদের বেশির ভাগই নারী, যাদের নির্দিষ্ট কোনো বেতন দেওয়া হয় না। তৈরি পোশাকের পিস অনুসারে দেওয়া হয় মজুরি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow