Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৩
প্রাণেরমেলা প্রতিদিন
জমেনি মেলা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ
মোস্তফা মতিহার
জমেনি মেলা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ

চরম অব্যবস্থাপনার কারণে পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের কাঠগড়ায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে এবারের মেলা।

সরকারের সর্বত্র প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উৎকর্ষতার জয়জয়কার চললেও এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় এখনো প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ওয়াইফাই এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ক্রেতাদের সুবিধার্থে গুগল স্ট্রিট ভিউ, নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য গাছ ও আলোকসজ্জা, মেলায় আগতদের বিশ্রামের সুবিধার্থে বসার আসন থাকার কথা থাকলেও কোনো কিছুর ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন প্রকাশিত নতুন বইয়ের জন্য একটি স্টল থাকার কথা থাকলেও সব কিছুই এখনো প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রকাশক জানান, সন্ধ্যার পর স্টলগুলোতে আলোর স্বল্পতা দেখা দেয়। এত বড় একটি আয়োজনের জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুতের দরকার সে পরিমাণ বিদ্যুৎ তারা পাচ্ছেন না। ক্ষীণ আলোতে বিকিকিনি করতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ ছাড়া নিয়মিত পানি না ছিটানোর ফলে ধুলার কবলে পড়তে হচ্ছে আগতদের। মেলার গুণগতমানেরও পরিবর্তন হচ্ছে না। রাজধানীর রামপুরা থেকে মেলায় আসা শামসুল হক রিপন বলেন, এবারের মেলার নান্দনিক সৌন্দর্য, বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা ও ডিজিটালাইজের বিষয়ে পত্র-পত্রিকা পড়ে যা জানা গেছে তার কোনো কিছুই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একুশের চেতনার এই মেলায় একুশ এবং ভাষা আন্দোলনের ওপর বইয়ের সংখ্যা নিতান্তই সামান্য। ধানমন্ডি থেকে আসা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া আমির বলেন, পত্রিকা পড়ে যা জেনেছি মেলায় এসে কোনো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। পানির ফোয়ারা, ওয়াইফাই, গুগল স্ট্রিট ভিউ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ইত্যাদি কথা বলা হলেও এখন কোনো কিছুই নেই। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বাংলা একাডেমি। এ বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, মেলায় এবার বাহ্যিক সাজসজ্জার পাশাপাশি আমরা গুণগত পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছি। এবারের বইমেলায় সিরিয়াস বই বিক্রি হচ্ছে নাকি হালকা বই বিক্রি হচ্ছে, পাঠক কি সৃজনশীল বই বেশি কিনছে নাকি সায়েন্স ফিকশন বই বেশি কিনছে এ বিষয়গুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। বইয়ের আঙ্গিক প্রকাশের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন কী কী এসেছে সে বিষয়কেও আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। তিনি বলেন, যেটুকু অব্যবস্থাপনা ছিল তা আগামীকালের (আজ সোমবার) মধ্যে কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করি। এদিকে গতকাল পঞ্চম দিনেও মেলা জমে ওঠেনি। এক সপ্তাহ না যাওয়া পর্যন্ত মেলার সফলতা আর ব্যর্থতা নিয়ে কিছু বলতে নারাজ লেখক, প্রকাশক ও মেলায় আগতরা। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা ছাড়া বেশির ভাগ প্রকাশনা সংস্থার বিক্রয়কর্মীদের অবসর সময় কাটাতে দেখা গেছে।

নতুন বই : গতকাল মেলার পঞ্চম দিনে ৮৭টি নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে— গল্প ১৪, উপন্যাস ১২, প্রবন্ধ ৫, কবিতা ২৫, গবেষণা ১, ছড়া ২, শিশুসাহিত্য ৩, জীবনী ১, রচনাবলি ১, মুক্তিযুদ্ধ ৪, বিজ্ঞান ২, ভ্রমণ ১, ধর্মীয় ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ৫ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপরে নতুন বই এসেছে ১০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে — হুমায়ূন আহমেদের ‘রচনাবলী নয়’, অন্যপ্রকাশ, মুনতাসীর মামুনের ‘উনিশ শতকের পূর্ববঙ্গের থিয়েটার ও নাটক’, সময়, সাহাদাত পারভেজের ‘গজারিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’, উৎস, ইমদাদুল হক মিলনের ‘ছোট্ট হরিণ ও ইলিশ মাছ’, পাঞ্জেরি, মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘আবারও টুনটুনি ও আবারও ছোটাচ্চু’, পার্ল, মোস্তফা কামালের ‘প্রিন্স উইলিয়ামের আংটির খোঁজে’, অনন্যা, আনিসুল হকের ‘হাসির গল্প সমগ্র’, অন্বেষা প্রকাশন। এ ছাড়াও গতকাল সাতটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।

মূল মঞ্চ : গতকাল বিকালে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আহসান হাবীব জন্মশতবর্ষ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি তুষার দাশ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. অনু হোসেন ও ড. তারেক রেজা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জুলফিকার মতিন। শতবর্ষী এক ফলদবৃক্ষের জন্মবার্ষিকীতে তার সৃজনশীলতার বয়ান শিরোনামের প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রাবন্ধিক বলেন, আহসান হাবীব কবি, শতবর্ষী এক ফলদবৃক্ষই যেন। তার রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো যেন ধীরে ধীরে আরও বেশি আলোপ্রদায়ী একেকটি পরশপাথরে পরিণত হতে চলেছে। তরুণ ও তারুণ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে তার জীবন ও জীবনযাপনের অনুপম সব কাহিনী এখনো আমাদের স্মৃতির মুঠোয়। তিনি বলেন, কাব্যবিচারের ক্ষেত্রে আহসান হাবীবকে আমরা চিনে নিয়েছি একজন প্রধান কবি হিসেবে। আলোচকবৃন্দ বলেন, দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, স্বাধীনতার সংগ্রাম, ক্ষুধা ও আশা ইত্যাদি সব সমসাময়িক অনুষঙ্গ আহসান হাবীব তার কবিতায় বাঙ্ময় করেছেন সুনিপুণ শিল্প দক্ষতায়। প্রেমের কবিতাতেও আহসান হাবীব অসামান্য।

 সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক জুলফিকার মতিন বলেন, আহসান হাবীব কবি হিসেবে অনন্য-সাধারণ। পাশাপাশি কথাসাহিত্য ও শিশুতোষ রচনাতেও তার স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর মুদ্রিত রয়েছে। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সালমা আকবর, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, লাইসা আহমেদ লিসা, অণিমা রায়। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), মো. হাসান আলী (বাঁশি), সুমন রেজা খান (কি-বোর্ড) এবং নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)।

up-arrow