Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৭
আগ্রহ এখন জিএসপি প্লাসে
বাজার-সুবিধা খতিয়ে দেখতে তিন বিশেষজ্ঞ কমিটি হচ্ছে
রুকনুজ্জামান অঞ্জন

এখন ‘জিএসপি প্লাস’ নিয়ে ভাবছে সরকার। এ জন্য গত সপ্তাহে বৈঠক করে অন্তত তিনটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক সপ্তাহের মধ্যে মতামত চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় ও বিজনেস বডিগুলোর কাছে। এ ছাড়া বিএফটিআই (ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্র জরুরিভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার জন্য। আর এই সবকিছু হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে বাংলাদেশকে উন্নীত করার প্রস্তুতি হিসেবে। ২০২১ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ফলে বাংলাদেশ রপ্তানি খাতে এখন যে পদ্ধতিতে জিএসপি (জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস) সুবিধা পাচ্ছে, উন্নত বিশ্বে এটি আর ভবিষ্যতের ভাবনায় থাকছে না। জানা গেছে, ১ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ‘জিএসপি প্লাস’ নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। ওই সভাতেই অ্যাডভাইজরি কমিটি, আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি ও বিশেষজ্ঞ কমিটি নামে তিনটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। অ্যাডভাইজরি কমিটি হবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধির সমন্বয়ে। বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে হবে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি। আর বিশেষজ্ঞ কমিটি হবে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিনিধির সমন্বয়ে। বিষয়টি স্বীকার করে হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের চোখ এখন মধ্যম আয়ের দিকে। ওই সময় বাণিজ্য খাতে যে চ্যালেঞ্জ আসবে, তা মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। “জিএসপি প্লাস” নিয়ে কমিটিগুলো সেই পরিপ্রেক্ষিতেই গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ’ জানা গেছে, গত নভেম্বরে ইইউর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশকে জিএসপির পরিবর্তে ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশে সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিটির চেয়ারম্যান বার্নেড লেগ ওই সময় সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ খুব দ্রুত উন্নতি করছে। দেশটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে বাণিজ্য ক্ষেত্রে ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা পেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ২৭টি কনভেনশন অনুসরণ করার প্রয়োজন হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র বাদে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে ইবিএ (এভরিথিং বাট আর্মস) অর্থাৎ অস্ত্র ব্যতীত সব পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত পণ্য রপ্তানি সুবিধা পাচ্ছে। এলডিসি অর্থাৎ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবেই এ সুবিধা পায় বাংলাদেশ। এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে গেলে তখন আর সব পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ‘জিএসপি প্লাস’ হিসেবে পরিচিত যে বাজার-সুবিধা আছে, সেটি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। এ পদ্ধতিতে আগের মতো সব পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা না থাকলেও রপ্তানিকৃত পণ্যের যে ট্যারিফ লাইন রয়েছে, এর অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ পণ্যে শুল্কসুবিধা পাওয়া যাবে। আর জিএসপি প্লাস না পেলে ওই দুই-তৃতীয়াংশ পণ্য রপ্তানিতে হ্রাসকৃত হারে হলেও শুল্ক পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। তবে এ সুবিধা নিতে গেলেও শর্ত আছে। এ জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত ২৭টি কনভেনশন অনুসরণ বা রেটিফাই করতে হবে বাংলাদেশকে, যেখানে মুখ্য ইস্যুগুলো হচ্ছে পোশাক কারখানায় সুশাসন, শ্রমিকের অধিকার, কমপ্লায়েন্সের (কারখানার নিরাপত্তা ও উন্নত কর্মপরিবেশ) মতো বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প কি সেই শর্ত পূরণে সক্ষম? হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছি। রানা প্লাজা ধসের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ জিএসপি নিয়ে যেসব শর্ত দিয়েছিল, আমরা সেগুলো পূরণ করেছি। ভবিষ্যতে “জিএসপি প্লাস” পেতে গেলে আমাদের কী করতে হবে, বা এ থেকে আমরা কতটা লাভবান হতে পারি, সে বিষয়গুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ মধ্যম আয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ’

up-arrow