Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১০
ডিএসসিসির খাল উদ্ধার অভিযান শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিএসসিসির খাল উদ্ধার অভিযান শুরু

রাজধানীর মাদারটেক নন্দীপাড়ায় ত্রিমোহনী খাল দখলমুক্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের অনেকটা দৃঢ়তায় এ খাল থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

গতকাল দুপুর ১টার দিকে বুলডোজার দিয়ে সব অবৈধ দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় অভিযান এলাকায় র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ অভিযান শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ১২ ঘণ্টা জলাবদ্ধ থাকে। বিভিন্ন খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা দেখা যায়। আমরা সব দখলবাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করব। এ খাল উদ্ধারের ক্ষেত্রে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও মস্তানি মোকাবিলা করা হবে। কোনো ধরনের বাধা-প্রতিবন্ধকতা সহ্য করা হবে না। খাল উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। ’ মেয়রের এ বক্তব্যের পরই নন্দীপাড়া মোড়ের পাশ থেকে উচ্ছেদ শুরু করতে বুলডোজারের চালককে নির্দেশ দেওয়া হয়। নন্দীপাড়া মোড় থেকে রামপুরা-ডেমরা বাইপাস সড়ক ব্রিজ পর্যন্ত ত্রিমোহনী খালের পশ্চিম পাড় ধরে অন্তত ৫০০ দোকান বসানো হয়েছিল। জেলা পরিষদ মার্কেট ছাড়া বাকি সব দোকান ছিল টিনের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উচ্ছেদের খবর পেয়ে টিনঘরের দোকানদাররা তাদের মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলেন। সকালে তারা দোকানের টিনের বেড়া ও চালা খোলার কাজ শুরু করেন। কিন্তু খাল দখলমুক্তের ঘোষণার পরও গতকাল নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে থাকেন জিলা পরিষদ মার্কেটের দোকানদাররা। এ মার্কেটটি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে নির্মিত হয়েছিল। পরে একে এরশাদ মার্কেট নামও দেওয়া হয়। মেয়রের নির্দেশে তিনটি বুলডোজার খালের দক্ষিণ পাশের টিনের দোকানগুলো ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ করে জিলা পরিষদ মার্কেটের কাছে গিয়ে থেমে যায়। পরে মেয়র পাকা সেই মার্কেটটিও গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ওই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আগে ভেবেছিলেন যে তাদের দোকান ভেঙে দেওয়া হবে না। যখনই মেয়রের নির্দেশে দোকানগুলো গুঁড়িয়ে দিতে বলা হয় তখন তারা তাদের মালামাল নিয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করে তাদের মালামাল সরাতে শুরু করেন। এর মধ্যে কাপড়ের, মোবাইল, মুদিখানা, ফার্নিচার, টেইলারিং ও চায়ের দোকানদাররা তাদের বিক্রির মালামাল তাত্ক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলেন। এ সময় স্থানীয় অনেকে তাদের মালামাল লুটপাট করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।   আবদুস সামাদ ও তাসলিমা নামের হোমিও ওষুধের দুই দোকানদার বলেন, ‘আমরা উচ্ছেদের কথা শুনেছিলাম। কিন্তু জিলা পরিষদের এই মার্কেটটিও ভাঙা হবে বলে আমাদের সেভাবে জানানো হয়নি। ’ কিন্তু উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে একই মার্কেটের আমিনুল নামে এক দোকানদার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের এটা সরকারি মার্কেট।

 এ মার্কেট ছাড়া আশপাশের সব টিনের দোকান ভেঙে দেওয়া হবে। ’ জিলা পরিষদ মার্কেটটি ভাঙার সময় মেয়র সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহের ক্ষেত্রে যে স্থাপনাই বাধা সৃষ্টি করবে তা-ই সরানো হবে। সেটি সরকারি যে সংস্থারই হোক না কেন আমরা তা গুঁড়িয়ে দেব। তা ছাড়া এই খালের অবৈধ উচ্ছেদের বিষয়ে অনেক আগেই নোটিস করা হয়েছে। ’ উচ্ছেদ অভিযানকালে মেয়রের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শহীদুল ইসলাম, ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস শোয়েব, ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান প্রমুখ।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow