Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৯
গাইবান্ধার এসপিসহ দায়িত্বরত সদস্যদের প্রত্যাহারের নির্দেশ
সাঁওতাল পল্লীতে আগুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা না করায় পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আশরাফুল ইসলামকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। স্বরাষ্ট্র সচিবকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হবে।

গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এ ছাড়া আগুন লাগানোর ঘটনার দিন গোবিন্দগঞ্জের চামগাড়ি এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে চার সপ্তাহের মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন ৩১ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কিছু স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে একজন ডিবিসহ তিন পুলিশ জড়িত। কিন্তু তারা ওই সময় হেলমেট পরা থাকায় তাদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আদালত ৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে। এ বিষয়ে আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দিন ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের নাম তদন্ত কমিটির কাছে পুলিশ সুপার দেননি। এটি প্রকারান্তরে হাই কোর্টের আদেশের লঙ্ঘন। এসব কারণে পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার এবং ওই দিন চামগাড়ি এলাকায় যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদেরও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ১৪ ডিসেম্বর সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। গত বছর ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীর চিনিকল কর্তৃপক্ষের জমি দখলে নিতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সময় আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং সাঁওতালরা হাই কোর্টে তিনটি পৃথক রিট আবেদন করে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow