Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২০
বছরে বেকার বাড়ছে ১১ লাখ
কোন পথে কর্মসংস্থান - ১
মানিক মুনতাসির
বছরে বেকার বাড়ছে ১১ লাখ

চলতি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিকভাবে কর্মসংস্থান কমবে। যার প্রভাব পড়বে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয়।

এর বাইরে নয় বাংলাদেশও। ফলে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার চ্যালেঞ্জের মুখে থাকবে বলে মনে করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত আইএলওর ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট সোশ্যাল আউটলুকে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, প্রতি বছর ৬ থেকে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। অথচ প্রতি বছর কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়ছে প্রায় ২১ লাখ। সে হিসাবে এক বছরে দেশে প্রায় ১১ লাখ বেকার মানুষ বাড়ছে। এর বেশির ভাগই শিক্ষিত যুবা। যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় বোঝা বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। বিবিএসের তথ্যমতে, এর আগে টানা দুই বছর (২০১৩-১৪ ও ১৪-১৫ অর্থবছর) দেশে কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ দুই বছরে মাত্র ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও আশানুরূপ কর্মসংস্থান হয়নি দেশে। এমনকি বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশি শ্রমবাজার চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। কর্মসংস্থানের এ খরা কাটাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন পরিকল্পনাও নিয়েছেন। কিন্তু এর জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি নতুন অর্থবছরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাও পরিষ্কার নয়। তবে আগামী বছর কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বরাবরের মতো ব্যক্তি খাতকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, গত জুনে অর্থবিভাগ থেকে প্রকাশিত আগামী তিন বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি-বিবৃতি শীর্ষক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কর্মসংস্থানের জন্য ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাগুলো হলো আত্মকর্মসংস্থান ও ব্যক্তি উদ্যোগের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশকে উৎসাহিত করে বেকারত্ব দূর করা। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। বিদেশের শ্রমবাজারকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য উপযোগী করা। এর জন্য প্রয়োজনে কূটনৈতিক তত্পরতা বাড়ানো হবে। বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন দূতাবাস খোলা হবে এবং সরকারি খাতে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ৬টি পরিকল্পনার কোনোটিই অবশ্য নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। এসব উদ্যোগ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়ও ছিল। তবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি অর্জন করতে হলে এসব পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই বলে অর্থ বিভাগের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ দুই বছরে মাত্র ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে প্রতি বছরে ৩ লাখ মানুষ চাকরি বা কাজ পেয়েছে। অথচ এ সময়ে দেশের কর্মবাজারে প্রবেশ করেছে প্রায় ২১ লাখ মানুষ। সে হিসাবে দেশে দুই বছরে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ৩৬ লাখ। এর আগে ২০০২-০৩ থেকে ২০১২-১৩ পর্যন্ত প্রতি অর্থবছর চাকরি বা কাজ পেয়েছিল ১৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ। এদিকে আইএলওর প্রকাশিত জানুয়ারি, ২০১৭-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদায়ী বছরেও (২০১৬) আগের বছরের তুলনায় বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের হার কমেছে। চলতি বছরও কমবে। শুধু তাই নয়, পরের দুই বছর ২০১৯ সাল পর্যন্ত শ্রমবাজার ও চাকরির বাজার সংকুচিত হবে বাংলাদেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশে কর্মসংস্থান কমবে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হারে। এ ছাড়া ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কমবে ৪ শতাংশ হারে। বিবিএসের সর্বশেষ প্রকাশিত (২০১৫ সালের অক্টোবরে) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখনো কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এ খাতে ৪৫ ভাগ মানুষের কর্মস্থান হচ্ছে। এরপর সেবা খাতে ৩৪ ও শিল্প খাতে ২১ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। কিন্তু আগামী বছরগুলোয় কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বা এ খাতের বিকাশে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি তিন বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায়। সরকার বলছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এলএনজি টার্মিনালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। তখন বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস আমদানি করা হবে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর দেশে গ্যাসের কোনো সংকট থাকবে না। ফলে তখন কর্মসংস্থানও বাড়বে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে। সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে। তবে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হলে সরকারি বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাসহ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow