Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৩
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের হাতছানি সাইপ্রাসে
শিমুল মাহমুদ, বৈরুত (লেবানন) থেকে ফিরে

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমশক্তি পাঠানো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে সাইপ্রাসে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস জনসংখ্যার বিচারে বাংলাদেশের জন্য ছোট বাজার হলেও অবস্থানগত কারণে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।

লেবাননের বৈরুত এয়ারপোর্ট থেকে সাইপ্রাসের বিমান পথের দূরত্ব ১৪৫ কিলোমিটার। সময়ের হিসাবে মাত্র ২৬ মিনিটের পথ। গত বছরের জুনে সরকার লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকারকে সাইপ্রাসের দায়িত্ব  দিয়েছে। নতুন দায়িত্ব পেয়েই পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। দেখা করেছেন সে দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ধ্যান-ধারণা। সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট সহায়তা চেয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের। বলেছেন, আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাই। গত ডিসেম্বরে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট ছাড়া কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছেন রাষ্ট্রদূত। তারাও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন, তার হাত ধরেই সাইপ্রাসে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারিত হবে।    

ইউরোপের প্রবেশদ্বার : সাইপ্রাস হচ্ছে ইউরোপের প্রবেশদ্বার। এজন্য সাইপ্রাসে যেতে আগ্রহী অনেকেই। নিয়ম-নীতি মেনে সাইপ্রাস হয়ে বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশে ছড়িয়ে পড়া কঠিন কোনো কাজ নয়। তবে ইতিপূর্বে দালালচক্রের পাল্লায় পড়ে জাল কাগজপত্র নিয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাস গিয়ে অনেকেই বিপদে পড়েছেন। ফলে এই প্রক্রিয়াটিই বাতিল হয়ে গেছে। তবে খুব শিগগিরই আবার স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাস যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত জানালেন, প্রথমদিকে দালালদের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসায় যারা সাইপ্রাস গেছেন তাদের অনেকেরই কাগজপত্র জাল ছিল। সে জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। আমি আবার ওপেন করার অনুরোধ করেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি, এই ক্ষেত্রটি আবারও উন্মুক্ত হবে। আড়াই কোটি টাকায় রেসিডেন্ট পারমিট : মাত্র তিন লাখ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে সাইপ্রাসের রেসিডেন্ট পারমিট বা নাগরিকত্ব পেতে পারেন যে কেউ। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার মতো। এ বিষয়টি এখনো বহুল প্রচারিত নয়। এই রেসিডেন্ট পারমিটের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করা যাবে। এটি আমাদের জন্য একটি ভালো সংবাদ বলে মনে করছেন রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার। তিনি বলেন, আমি বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের এফবিসিসিআইকে চিঠি পাঠিয়েছি। এখনো সাড়া পাইনি। মার্চেন্ট মেরিন চুক্তি হচ্ছে : বাংলাদেশের সঙ্গে সাইপ্রাসের দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ঝুলে থাকা মার্চেন্ট মেরিন চুক্তিটি অবশেষে স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত এই চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন সাইপ্রাসের রাষ্ট্রদূত হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া আবদুল মোতালেব সরকার। তিনি বলেন, এই চুক্তি স্বাক্ষর হলে মেরিন পেশাজীবী, আইসিটি স্পেশালিস্ট, গ্র্যাজুয়েট নার্স পাঠাতে পারব। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সীমিত পরিমাণে গার্মেন্ট পণ্য, চামড়াজাত পণ্য সাইপ্রাসে যাচ্ছে। ৫ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। সাইপ্রাসের এগ্রিকালচারাল সেক্টরেও কাজ করছে বাংলাদেশের অনেক লোক। তিনি বলেন, অনেকে এখানে পড়তে এসে লেখাপড়া শেষ না করে কাজে মনোযোগ দিয়ে অবৈধ হয়ে যায়। এটা মোটেও ঠিক নয়। সাইপ্রাস মিশনে বাংলাদেশি ফোর্স কমান্ডার : সাইপ্রাসকে ঘিরে রেখেছে গ্রিস, তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল। ২০০৪ সালের ১ মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য পদ পায় সাইপ্রাস। ৯,২৫১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটি ইউরোপীয় পর্যটকদের জন্য ভূস্বর্গ। সাইপ্রাসের দুই অংশ মিলিয়ে লোকসংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। সাগরবেষ্টিত এই দ্বীপরাষ্ট্রের একাংশ তুর্কি সাইপ্রাস ও অপরটি গ্রিক সাইপ্রাস। সাইপ্রাসের উত্তর অংশ ফামাগুস্তা এলাকা তুরস্কের দখলে থাকায় সেখানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গত বছররের জুনে সাইপ্রাস জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। এক সময় ফামাগুস্তা সাইপ্রাসের পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল। সাইপ্রাসের ব্যাংক ব্যবসার অন্তত ৪০ শতাংশ বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে। সাইপ্রাসে এসোসিয়েট ডিগ্রি, ব্যাচেলরস ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি ও পিএইচডির জন্য যাওয়া যেতে পারে। অনেকেই সাইপ্রাসে যায় হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম বিষয়ে পড়তে। লেখাপড়ার মান খুব ভালো না হলেও দুই-তিন বছর লেখাপড়া করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেওয়া যায় সহজেই।

লেবাননে বাংলাদেশি গ্রেফতার : লেবানন থেকে স্থানীয় সাংবাদিক বাবু সাহা জানান, উত্তর লেবানন পুলিশ অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বাংলাদেশ ও লেবাননের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী মঙ্গলবার এ তথ্য জানায়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হামিদুর রহমান আলামিনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি লেবানন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি লেবানিজ বিয়ে করে উত্তর লেবাননের শহর ত্রিপলিতে থাকেন। লেবাননে দালালচক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রবাসীদের অভিযোগ রয়েছে। লেবাননের ইংরেজি দৈনিক স্টার-এ তাদের ছবিসহ গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow