Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৬
মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে স্কুলছাত্রকে হত্যা
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুক্তিপণের ৪৫ হাজার টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা তাজুল ইসলাম (৭) নামে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত সুজন নামে একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় গোলাকান্দাইল এলাকার বিল থেকে তাজুলের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাজুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার বিরকাঠালিয়া এলাকার আবদুল আউয়াল মিয়ার ছেলে। আবদুল আউয়াল পরিবার নিয়ে রূপগঞ্জের ভুলতা টেলাপাড়া এলাকার মোশারফ মিয়ার বাড়িতে বাস করেন। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। গ্রেফতারকৃত সুজন কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার মাতারপুরের আবদুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলার পুরান বাজার এলাকায় বাস করেন।   সূত্র জানায়, তাজুল ইসলামের বড় ভাই মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় একটি কাপড়ের ছাপা কারখানায় কাজ করত সুজন। সেই সুবাদে সুজন প্রায় সময়ই মাজহারুল ইসলামের বাড়িতে আসা-যাওয়া করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। এ ছাড়া প্রায় সময়ই খেলাধুলার জন্য তাজুল ইসলামকে মোবাইল দিত। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোবাইল ফোনের প্রলোভন দেখিয়ে সুজনসহ একদল অপহরণকারী তাজুলকে অপহরণ করে। তারা তাজুলের পিতা আউয়ালের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাজুলকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। গত রবিবার রাতে মুক্তিপণের ৫ হাজার টাকাও পরিশোধ করা হয়। বাকি ৪৫ হাজার না দেওয়ায় তাজুলকে হত্যা করা হয়।   এদিকে, অপহরণের বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা থানা পুলিশকে অবহিত করলে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাইজুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদসহ পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুজনকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে। সুজনের তথ্য অনুযায়ী গোলাকান্দাইলের বিল থেকে তাজুলের লাশ তোলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুজন স্বীকার করে, অপহরণের পর তাজুলকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। সুজন জানায়, ঘটনার সঙ্গে মামুন নামে আরও একজন জড়িত। তাজুল ইসলামের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাজুল ইসলামের বাবা আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। তাজুল ইসলামের মামা মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, অপহরণের পরের দিনও গ্রেফতারকৃত সুজন তার বোনের বাড়িতে এসে দেখা করে ভাগিনা তাজুল ইসলামকে খুঁজে বের করে এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এ বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও ইন্সপেক্টর শহীদুল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মামুনসহ আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow