Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৭
প্রানেরমেলা প্রতিদিন
শীলার জন্য উপন্যাস
আসিফ নজরুল
শীলার জন্য উপন্যাস

প্রায় এক যুগ পর আমি উপন্যাস লিখেছি। উপন্যাসের নাম ‘অসমাপ্তির গল্প’।

এই আনন্দের সংবাদ আমার ফেসবুক বন্ধু আর ফ্যানদের জানাই। তারা আমাকে খুবই  ভালোবাসেন, আমার কথা জানতে চান। ভাবী, না জানি কত খুশি হবেন তারা উপন্যাসের কথা শুনে।

তারা খুশি হন। কিন্তু সবাই না। কারও কারও ব্যাপারটা পছন্দই হয় না। কঠিন একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমি। আমি কেন লিখব উপন্যাস? সেও আবার প্রেমের উপন্যাস! আমার দায়িত্ব অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলা। উপন্যাস লেখা কি আমাকে মানায়? আমি তাদের কী করে বোঝাই এক সময় পুরোদস্তুর উপন্যাসিকই ছিলাম আমি। দুই যুগ আগের সেই সময়টাতে আমার লেখা ছাপা হতো বাংলাদেশের সবচেয়ে শীর্ষস্থানীয় ঈদ সংখ্যায়। সেও শওকত আলী, সৈয়দ শামসুল হক আর হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখকদের সঙ্গে। দুই যুগ আগের সেই সময়ে বইমেলায় ঢুকে শুধু অটোগ্রাফ দিতে দিতেই সবটুকু সময় চলে যেত আমার। আমার প্রথম বই ‘নিষিদ্ধ কয়েকজন’ বের হয় ১৯৯২ সালের বইমেলায়। অল্প দিনেই বইমেলায় এর সব কপি বিক্রি হয়ে যায়। শেষে একদিন দেখি রং চটকে যাওয়া কাভারের বাতিল বই কেনার জন্যই ভিড় করছে মানুষ। এরপর একে একে ছোঁয়া, ক্যাম্পাসের যুবক, আক্রোশের মতো বেস্ট সেলার উপন্যাস! কি যে একটা উন্মাদ সময় ছিল তখন আমার।   আমি কত দিন সেসব দিনের কথা ভাবী। আমার স্ত্রী শীলাকে সেসব গল্প করি। সে হুমায়ূন আহমেদের কন্যা। অভিনেত্রী হিসেবে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা আর অসীম সম্ভাবনার সময়ে সে অবলীলায় অভিনয় করা ছেড়ে দেয়। তার বাবার মৃত্যুর পর বহু মানুষ তাকে অনুরোধ করেছে বাবার কথা লিখতে। কিন্তু সে লিখবে না, আলোচনায় থাকা তার একদম পছন্দ নয়। খ্যাতি আর জনপ্রিয়তা তার দুই চোখের বিষ। কিন্তু সে জানে, লেখক হিসেবে এ দুটোই আমার কতটা প্রিয়! আমার গল্প বা উপন্যাসের স্মৃতিচারণ করতে করতে কতটা বিহ্বল হয়ে যাই আমি। সে আমাকে বিয়ের পর দিন-রাত বলে, লিখো তুমি, প্লিজ লিখো। আমি প্রথম আলো-তে কলাম লিখি, সেমিনার করি, টকশোতে যাই। কিছুই মুগ্ধ করে না তাকে। সে শুধু চায় আমি আবার লিখি। গল্প আর উপন্যাস লিখি। আমার পুরনো উপন্যাস পড়ে পড়ে সে বলে, কত সুন্দর লিখতে তুমি, লিখো না আবার! আমার ভিতর লেখালেখির বানের জল। কিন্তু তার চারপাশে জীবন-বাস্তবতার কংক্রিট। আমি তা ভাঙব কীভাবে? কিন্তু শীলার ভালোবাসার কাছে কংক্রিটও তুচ্ছ হয় এক সময়। সত্যি সত্যি এক যুগ পর উপন্যাস লিখে ফেলি আমি। আমার ‘অসমাপ্তির গল্প’ প্রকাশিত হয় ঈদ সংখ্যা প্রথম আলো-তে। বই আকারে এটি বেরও করেছে তাদের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রথমা। এজন্য প্রথম আলোর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। অসমাপ্তির গল্প এখন বইমেলার স্টলে। এই উপন্যাস পড়ে শ্রদ্ধেয় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের মতো সাহিত্যবোদ্ধা বলেছেন : সাংঘাতিক হয়েছে আসিফ। তুমি  তো ক্রাইম করেছ এত দিন না লিখে! আমি ভাবী, আহা : আমার পাঠকদেরও যদি মনে হয় তা! তারাও যদি ভালোবাসে আমার উপন্যাসকে! আবারও। ‘অসমাপ্তির গল্প’ আমি উৎসর্গ করেছি শীলাকে।

সেখানে লেখা : ‘আঁধার পারের আলো তুমি, আমার অশেষ শুদ্ধভূমি!’ আমাকে কেউ কেউ প্রশ্ন করে এটা কি কবিতার লাইন? জ্বি, এটা কবিতারই লাইন। শীলা থাকলে কবি হওয়া সম্ভব। উপন্যাস লিখা তো আরও সম্ভব!

এই পাতার আরো খবর
up-arrow