Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩০
ভাঙ্গায় সংঘর্ষ বর্তমান ও সাবেক এমপি গ্রুপের
ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সদরপুরে (সদরপুর-চরভদ্রাসন-ভাঙ্গা) আসনের বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ও সাবেক এমপি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ গ্রুপের মধ্যে গতকাল ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

দুই গ্রুপে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উভয় গ্রুপের কয়েক শ সমর্থক দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উপজেলার দুটি স্থানে অবস্থান করছিলেন। দুপুর থেকে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে সদরপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভা ডাকা হয়। এতে মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীকেও উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছিল। তবে তাকে প্রতিহত করতে কাজী জাফর উল্ল্যাহ সমর্থিত আওয়ামী লীগের একটি অংশ উপজেলা পরিষদ চত্বরে আগেই অবস্থান নিয়ে থাকেন। এ অবস্থায় নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকরা পরিষদ চত্বরে মিছিল নিয়ে আসেন। তখন উভয় গ্রুপের মধ্যে এক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে জাফর উল্ল্যাহর সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সদরপুর বাজারের কাছে আর নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকরা হাসপাতাল মোড়ে অবস্থান নেন। জানা গেছে, উত্তেজনাকর এ পরিস্থিতিতে সকাল সাড়ে ১০টায় সমন্বয় কমিটির সভা শুরু হয়। কিছু সময় পর সেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান তর্কে জড়িয়ে পড়েন নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে। এ নিয়ে সভায় হট্টগোল বেধে যায়। একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সভা বয়কট করে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বেরিয়ে আসেন। এ নিয়ে ফের উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় নিক্সন চৌধুরীর কর্মীদের হাতে নাজেহাল হন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিক। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় আহত হন স্থানীয় সাংবাদিক টিটুসহ তিনজন। সাংবাদিক টিটুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে সংসদ সদস্যের সমর্থকরা সদরপুর-ফরিদপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ২টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন। তবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলতে থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা রহমান দুপুর ১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন।

জানা গেছে, এর পরও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। র‌্যাবের একাধিক টিমও উপজেলা পরিষদ চত্বরে টহলে রয়েছে। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ সন্ধ্যায় জানান, সকাল থেকে উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত। এদিকে মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ তুলে ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ গতকাল আবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী হেদায়েত উল্ল্যাহ সাকলাইন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের শান্তির জনপদ ভাঙ্গা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের লাগামহীন সন্ত্রাসে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। ’ এর আগের দিনও তারা সংবাদ সম্মেলন করে একই অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অভিযোগ সত্য নয়। আমি সন্ত্রাসের রাজনীতি করি না। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার জনসভা বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ একের পর এক পাল্টা জনসভা আহ্বান করছে। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow