Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩২
বিদেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণই প্রধান চ্যালেঞ্জ
কোন পথে কর্মসংস্থান শেষ
মানিক মুনতাসির
বিদেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণই প্রধান চ্যালেঞ্জ

বিদেশ গমনেচ্ছুদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানই এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলেও চাহিদাপত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু দিন।

আবার বিদেশ গমনেচ্ছুদের দক্ষতা উন্নয়ন করতে না পারায় কম পারিশ্রমিকেই কাজ করতে হচ্ছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের। এ ছাড়া অদক্ষতার কারণে চাহিদামতো শ্রমিক পাঠাতে পারছে না বাংলাদেশ। আর শ্রমিকদের আয় কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে না গিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়ে অর্থ সাশ্রয় করছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। ফলে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়লেও টান পড়ছে প্রবাসী আয়ে। কমে আসছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।  

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে বিদেশে যান প্রায় ৬ লাখ শ্রমিক। আর ২০১৬ সালে যান প্রায় ৭ লাখ         শ্রমিক। কিন্তু ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে প্রবাসী আয় কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে প্রবাসীরা ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা ২০১৫ সালের তুলনায় ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ কম। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে আগে যে কাজ বাংলাদেশি শ্রমিকরা ১০ রিয়াল বা দিরহামে করত, তা এখন আট রিয়াল বা দিরহামে করছে। এর বাইরে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও এটা সত্য। অর্থাৎ শ্রমিকদের আয় কমেছে। কারণ, প্রথমত বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা কম। এ ছাড়া বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় অনেক দেশের অর্থনীতিতে টান পড়েছে। তারা একদিকে লোক ছাঁটাই করছে, অন্যদিকে মজুরি কমিয়ে দিচ্ছে। এতে শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। আর ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে খরচ বেশি হওয়ায় তারা সাশ্রয়ী হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছে। ফলে চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স কমার আরেকটি কারণ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তা হলো— অনেক দেশেই বাংলাদেশি অনেক লোক সেটেল হয়ে গেছে (নাগরিকত্ব পেয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস)। তাদের আয়ের বেশির ভাগ অর্থ এখন ওখানেই খরচ করতে হচ্ছে। ফলে তারাও দেশে টাকা পাঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। তবে দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামী দু-এক বছরের মধ্যেই বৈদেশিক শ্রমবাজারের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই-২০১৫ থেকে জুন-২০১৬ এক বছরে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫৩৭ জন শ্রমিক বিদেশে পাঠানো হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিনই ১ হাজার ৮৭৫ জন শ্রমিক বিদেশে যাচ্ছেন। বর্তমানে সরকারি নথি অনুযায়ী বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশ মানব সম্পদ রপ্তানি করছে। আর বেসরকারিভাবে এর সংখ্যা আরও বেশি বলে জানা গেছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি কর্মরত, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে গড়ে উঠছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

এদিকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজার চাঙ্গা করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রবাসী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিতে এবং বিদেশে গমনেচ্ছুদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে গঠিত হয়েছে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ডিভিশন। এই ডিভিশন ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। অভিবাসনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জড়িত। ফলে শ্রমিক পাঠানো, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে অনেক দফতর ঘুরতে হয়। এতে একদিকে বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকদের যেমন সময় ও শ্রম নষ্ট হয় তেমনি শ্রমিকরা বিভিন্ন দেশে তাদের প্রকৃত মজুরি পাচ্ছেন না। এই প্রেক্ষাপটে এখন থেকে শতভাগ দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের সদ্য বিদায়ী সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ। এর মাধ্যমে নতুন নতুন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য স্ব স্ব দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। আর যেসব দেশে দূতাবাস নেই সেসব দেশে নতুন করে দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow