Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৮
প্রকৃতি
গাছে গাছে মুকুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
গাছে গাছে মুকুল

এখন মাঘ মাস। কিন্তু হাড়কাঁপানো শীত নেই।

সময়ের পালাবদলে দুয়ারে  এখন কড়া নাড়ছে ঋতুরাজ বসন্ত। ফলে বেড়েছে তাপমাত্রা। আর তাপমাত্রা বাড়ায় রাজশাহী অঞ্চলের আম গাছে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে মুকুল। তাই প্রকৃতিতে এখন বইছে বসন্তের আমেজ। নানা ফুলের সঙ্গে সুবাস ছড়াচ্ছে আমের মুকুলও।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ প্রকৃতিকে ম-ম গন্ধে মাতোয়ারা করে তুলেছে। মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুবাস নাড়া দিচ্ছে মানুষের হৃদয়েও। বনফুল থেকে মৌমাছির দল গুনগুন করে ভিড়তে শুরু করেছে এসব আমের মুকুলে। গাছের শাখার পর শাখায় মুকুলগুলো চারদিকে যেন বসন্তের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে।

জেলার সব এলাকাতেই এখন কমবেশি দেখা দিয়েছে আমের মুকুল।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, জেলায় ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে আছে আমবাগান। এবার একটু আগেই শীত কমে আসায় প্রতিটি বাগানেই কিছু কিছু গাছে আগাম মুকুল এসেছে। আর ১৫ দিনের মধ্যে ২০-৩০ ভাগ গাছে মুকুল আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যেই অন-ইয়ার গাছগুলোয় মুকুল চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে গাছে গাছে আগাম মুকুল আসায় বেজায় খুশি রাজশাহীর আম চাষিরা। তারা আম গাছের প্রাথমিক পরিচর্যাও শুরু করে দিয়েছেন। মুকুলের মাথা পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। এ অঞ্চলে নিয়মিত জাত ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত ও আশ্বিনার গাছ বেশি। সেই সঙ্গে গবেষণাকৃত বারি-৩, ৪ জাতের বাগানও রয়েছে। চাষিরা আশা করছেন, এবার আমের ফলন ভালো হবে। বাঘা উপজেলার মিলিকবাঘা গ্রামের আম চাষি কায়সার রহমান (৪০) বলেন, ‘এ বছরের আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ অনুকূল। তাই একটু আগেভাগেই মুকুল এসেছে গাছে। গতবারের মতো এ মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়ার তেমন বিপর্যয়ও ঘটেনি। আশা করছি, ফাগুন আসার সঙ্গে সঙ্গে সব গাছ মুকুলে ভরে উঠবে। ’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেবদুলাল ঢালি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আম গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। তবে ছত্রাকজনিত রোগে আমের মুকুল ও গুটি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাগানে দুই দফা ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। এতে ছত্রাক-জাতীয় রোগ থেকে আমের মুকুল রক্ষা পাবে। তৈরি হবে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।

 

up-arrow